ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্টিভ রোডসের কোচিং আমরা উপভোগ করছি -মিরাজ 

স্পোর্টস রিপোর্টার : এশিয়া কাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করছে ক্রিকেটাররা। অনুশীলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল ব্যতিক্রমী এক চিত্রই দেখা মিলল। বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডস ফিল্ডিং সেশনে তার শিষ্যদের ক্যাচ অনুশীলন করালেন। তবে নিয়ম করে দিলেন ক্যাচ ধরতে হবে এক হাতে! টাইগাররা তাই এক হাতে ক্যাচ ধরার অনুশীলন সাড়লেন। ক্রিকেট ম্যাচে বেশির ভাগ সময়ই এক হাতের ক্যাচ দেখা মিলে স্লিপ কিংবা অন্য ক্লোন ইন পজিশনে। খেলোয়াড়রাও তার জন্যও আলাদা করে অনুশীলন করে থাকেন। তবে বাউন্ডারি লাইনে বা অন্য পজিশনে এক হাতে ক্যাচ ধরার অনুশীলন নতুনই টাইগারদের জন্য। অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ স্টিভ রোডসের শুরুটা হয়েছিল বিব্রতকর। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভরাডুবিময় পারফরম্যান্স করেছিলেন ক্রিকেটাররা। হতাশাময় শুরুতে খানিক চাপেই ছিলেন রোডস। তবে এরপরই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। উইন্ডিজ থেকে ফিরে বেশ কিছুদিন বিশ্রাম কাটিয়ে সোমবার থেকে আবারো ঘাম ঝরানোর অনুশীলনে নেমে পড়েছে বাংলাদেশ। অনুশীলনের প্রথম দিনেই দলের সাথে যোগ দিয়েছেন রোডস। আর নিজে সামনে থেকে তদারকি করছেন অনুশীলনের সবকিছু। কখনো কয়েকজনকে নিয়ে ক্যাচিং প্র্যাকটিস তো, কখনো পেসারদের সামনে গিয়ে ছোট কোন পরামর্শ। কোচের এমন বন্ধুবৎসল আচরণ ও সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতা মনে ধরেছে ক্রিকেটারদের এমনটাই জানিয়েছেন দলের তরুণ সদস্য মেহেদি হাসান মিরাজ। গতকাল অনুশীলনের দ্বিতীয় দিনে মিরাজ জানান যে রোডসের সাথে অনুশীলন করাটা উপভোগ করছেন তারা। মিরাজ বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে আসলে কোচের সাথে তেমন কাজ করার সুযোগ পাইনি আমরা। এখন তিনি আমাদের নিয়ে অনেক কাজ করছেন। যার যার সমস্যা নিয়ে আলাদা আলাদা সমাধান বের করে দিচ্ছেন। আমরা তার সাথে অনুশীলন বেশ উপভোগ করছি। এছাড়া সবাই অনেক সাহায্য করছে, খুব ভালো লাগছে।’ অনুশীলনের প্রথম ধাপে কেবল ফিটনেস অনুশীলন করার কথা থাকলেও গতকাল ফিল্ডিং অনুশীলনও করেছেন মিরাজরা। এক হাতে ক্যাচ, বাউন্ডারি সীমানার কঠিন ক্যাচসহ নানান কায়দায় ক্যাচিং প্র্যাকটিস করানো হয়েছে অনুশীলনের দ্বিতীয় দিনে। এসব অনুশীলনের ফলে ভবিষ্যতে খেলার মাঠে কঠিন পরিস্থিতিতে ক্যাচ নেয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার মিরাজ। ২০ বছর বয়সী এই তরুণ বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমরা রানিং ও জিমের পাশাপাশি ফিল্ডিং করেছি। এক হাতে ক্যাচ ধরা নিয়েও আলাদা কাজ করা হয়েছে। অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করলে ম্যাচে কাজটা সহজ হয়ে যায়। এক হাতে যদি সহজেই ক্যাচ ধরতে পারি তাহলে দুই ধরতে আর বেগ পেতে হয় না। সেটাই অনুশীলন করছিলাম আমরা। কঠিনগুলো অনুশীলন করা থাকলে মাঠে কাজটা সহজ হয়ে যায়।’ বাউন্ডারি লাইনে জাগলিং ক্যাচের অনুশীলন করার পরিকল্পনা যে ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য করা তা বললেন মিরাজও। তিনি জানান,‘অনুশীলন যতোটা কঠিন হবে ম্যাচে কাজটা তত সহজ হবে। তাই আমরা অনুশীলনটা কতো কঠিন করা যায় সেই চেষ্টা করছি। আমাদের সামনে তেমন বেশি সময় নেই। এখন যেটুকু সময় পাচ্ছি তাতে কঠিন পরিস্থিতি বানিয়ে অনুশীলন করছি। এই অনুশীলনটা (বাউন্ডারি লাইনে জাগলিং ক্যাচ) সঠিকভাবে করতে পারলে ম্যাচের সময় কাজটা সহজ হয়ে যাবে। এজন্যই মূলত অমন বিশেষ প্র্যাকটিস করা হচ্ছিল।’ অনুশীলনে ফিল্ডিংয়ের উপর বিশেষ জোর দেয়ার কারণ জানাতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘ক্রিকেটে ব্যাটিং- বোলিং দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনার ফিল্ডিং। যেকোন ম্যাচে ফিল্ডিং দিয়ে ২০-৩০ রান বাঁচানো গেলে ম্যাচের মোড়ই ঘুরে যায়। দিন শেষে সেই ২০-৩০ রানই ম্যাচের নির্ধারক হয়ে যায়। সেভাবেই আমরা অনুশীলন করছি। ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতির কথা ভেবে কঠোর পরিশ্রম করছি।’এক হাতে ক্যাচ ধরার ব্যতিক্রমী অনুশীলনের আলাদা গুরুত্বও দেখছেন মিরাজ,‘ম্যাচ পরিস্থিতির জন্য ক্যাচিংয়ের এমন অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালেন্স ঠিক রেখে বাউন্ডারি লাইনের পাশ থেকে ক্যাচ ধরার ক্ষেত্রে এই অনুশীলন গুলো অনেক সহায়তা করবে। এভাবে ক্যাচ ধরার কৌশল অনুশীলনে যারা ভালভাবে রপ্ত করতে পারবে ম্যাচে তখন সেটা ততটাই কাজে আসবে।’ এশিয়া কাপের টার্গেট নিয়ে মিরাজ বলেন,‘আমরা গত চার বছর ধরেই কিন্তু ভালো ক্রিকেট খেলে আসছি। বিশ্বকাপ দেখেন, দেশে বলেন, বাইরে বলেন– আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি, দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়েছি।, এসবই আমাদের আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। আমাদের সিনিয়র ক্রিকেটাররা অনেক দাপট দেখিয়ে খেলে আসছে, সাথে জুনিয়ররাও অবদান রাখছে। সব মিলিয়েই আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী। আমরা যদি আমাদের শতভাগ দিতে পারি তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ