ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভয়ঙ্কর ম্যাচ ফিক্সার আনিল মুনাওয়ারকে খুঁজছে আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক: মে মাসে ক্রিকেটের ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করেছিল আল জাজিরা। তারপরই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। নামে তদন্তে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সোমবার আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছ, তারা প্রায় সব ম্যাচ ফিক্সারকেই শনাক্ত করতে পেরেছে। তবে এদের মধ্যে আনিল মুনাওয়ার নামে এক সন্দেহভাজন ফিক্সার সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানতে পারেনি। সংস্থাটি তাই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কেউ যদি তার সম্পর্কে কোন তথ্য জানে তবে তা আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিটকে জানাতে। যাতে করে মুনাওয়ার ও তার অবস্থানকে চিহ্নিত করা যায়। ২৭ মে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ক্রিকেট বিশ্ব তোলপাড় করা একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করেছিল। সেখানে উঠে আসে ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের নানা অন্ধকার দিক। ওই ডকুমেন্টারিতে উঠে আসে, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্রিকেট ম্যাচই পাতানো হয়ে থাকে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয় আইসিসি। তদন্তে নেমে আইসিসি জানায়, অসহযোগিতা করছে আল জাজিরা; ফলে তাদের তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে অসহযোগিতা সত্ত্বেও তদন্ত চালিয়ে যায় তারা। 

তদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুর্নীতি বিরোধী ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যালেক্স মার্শাল জানিয়েছেন, ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে আল জাজিরায় প্রচারিত ডকুমেন্টারির সূত্র ধরে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। এবং ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পেরেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, ‘ডকুমেন্টারিতে প্রচারিত সব ব্যক্তি, যারা ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন, তাদের আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। তবে আনিল মুনাওয়ার নামে এক ব্যক্তির পরিচয় এখনও রহস্যাবৃত রয়ে গেছে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’ এরপর মার্শাল মুনাওয়ার সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা ক্রিকেট পরিবারের সবাইকে অনুরোধ করছি, কেউ যদি তার সম্পর্কে কোন তথ্য জানেন তো আমাদের জানান। যাতে করে তার সম্পর্কে বা তার অবস্থান সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হতে পারি।’ ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে আল জাজিরার ছদ্মবেশী তদন্ত ১৮ মাসের। সেখানে দেখা গেছে যতোটা ভাবা হয় তারও চেয়ে অনেক বেশি ও বাজে ভাবে ম্যাচ ফিক্সিং ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এটা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। তারা দেখেছেন, ফিক্সাররা যে অনুমানের কথা বলেন হাই প্রোফাইল কোনো টেস্ট নিয়ে তাও বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই দল নিয়ে তাই ঘটে থাকে। খেলার নির্দিষ্ট জায়গায় সেটাই প্রকাশ পায়। এছাড়া আল জাজিরা জানিয়েছিল, গুরুতর একটা রেকর্ডিং আছে তাদের কাছে। সেখানে মুম্বাইয়ের ম্যাচ ফিক্সার মুনাওয়ার তাদের জানিয়েছেন যে তথ্য বিক্রি করে বেটিং থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা কামান তিনি। তিনি এই কাজে আছেন ৬ থেকে ৭ বছর হলো। তার দাবি, তাদের সিন্ডিকেট ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেয়। কিন্তু এটা ছোট্ট ছোট্ট অংশে ভাগ করে চূড়ান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। খেলোয়াড়কে টাকা দেওয়া হয় তার দলের রান নিচে রাখার জন্য। বুকমেকাররা এভাবে ছোট্ট বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেন। ইন্টারনেট। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ