ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাঁথিয়ায় অগ্নিদগ্ধ কলেজ ছাত্রীকে বাঁচানো গেলো না

আরিফুল ইসলাম, সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা : পাবনার সাঁথিয়ায় পূর্ববিরোধের জের ধরে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা চালিয়ে কলেজ পড়–য়া মেয়ের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দগ্ধ করা মুক্তি (২২) কে আই,সি, ইউতে (লাইফ সাপোট) নিয়েও বাঁচানো গেল না। সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আই,সি,ইউতে মুক্তি পৃথিবীর সকল মায়া মমতা ত্যাগ করে চির বিদায় নেয়। সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা গ্রামের উন্মুক্ত জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ও তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সালাম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ দিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯ আগস্ট (রবিবার) দুপুরে সালাম গ্রুপ মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার চালায়। ওই হামলায় সালামের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অংশ নেয়।

এসময় বাড়ির পুরুষ সদস্যদের না পেয়ে হামলাকারীরা মোজাম্মেল হকের পাবনা এ্যাডওয়ার্ড কলেজের দর্শন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুক্তি খাতুনকে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। কলেজ ছাত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া ও পরে ঢাকা মডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

শরীরের ৬২ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে আশংকা জনক অবস্থায় তাকে ২৬ আগস্ট সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আই,সি, ইউতে হস্তান্তর করা হয়। লাইফ সাপোটের দুই দিন পরে (২৭ আগস্ট) সোমবার দিনগত রাতে কলেজ ছাত্রী স্বার্থনেষী হিংস্র মানুষ রূপি জানোয়ারদের ছোবলে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান বলে জানান, তার বড় ভাই নাসির উদ্দিন।

মুক্তির বাবা মোজ্জাম্মেল হক ঢুঁকরে কেদে বলেন আমি এবং আমার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। মুক্তির মৃত্যুর খবরে সাঁথিয়ার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকেই মুক্তির আত্মীয় স্বজনরা মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে আসতে শুরু করেছে। তাদের কান্নায় এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। তারা এজঘণ্য হত্যা কান্ডের সুষ্ঠু বিচার চান। 

সাঁথিয়াবাসী ও সংসদের কয়েকজন সদস্য মনে করেন, ২৯ জুলাই দুই পক্ষের সংঘর্ষের পরে সাঁথিয়া থানা পুলিশ যদি সঠিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখত তাহলে ১৯ আগস্টের এ ঘটনা ঘটত না। তারা মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের সাথে সালামের রাজনৈতিক বিরোধই কলেজ পড়–য়া মেয়ে মুক্তির জীবনের কাল হয়ে দেখা দিল। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল লতিফ জানান, আমরা এ হত্যা কান্ডের সঠিক বিচার দাবি করছি। 

সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেেেলায়ার জানান, দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি কামনা করছি। সালাম ও মোজাম্মেলের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল না।

এঘটনায় মুক্তির বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ৩২ জনকে আসামী করে সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। যার নং ১৭। থানা পুলিশ এ মামলার ২৪ জন আসামী আটক করলেও প্রধান আসামী নাগ-ডেমরা ইউপির ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সালাম ও কেসমতের ছেলে জাহিদকে এখনও আটক করতে পারেনি। কলেজ ছাত্রী মুক্তি খাতুনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। ফেসবুকের পাতায় হত্যাকারীদের বিচারের দাবি ও মুক্তির ছবি ভায়রাল হয়েছে।  সাঁথিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মজিদ জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মুক্তির মৃত্যুকালীন জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রকাশ, উপজেলার নাগডেমরা উন্মুক্ত জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে সালাম ও মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক গ্রুপের মধ্যে গত ২৯ জুলাই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ১৯ আগস্ট মোজাম্মেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে মুক্তি খাতুনকে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় হামলাকারীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ