ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শম্পা কুন্ডুর বিরুদ্ধে কুরবানির পশুর হাট বাণিজ্যের অভিযোগ

খুলনা অফিস : খুলনার আলোচিত দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শম্পা কুন্ডুর বিরুদ্ধে এবার কুরবানির পশুর হাট ইজারার আড়ালে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৪টি হাটের বিপরীতে ইজারাদারদের কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। নির্ধারিত রাজস্বের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ায় ইজাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শম্পা কুন্ডু ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন বাবদ’ অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার কথা ইজারাদারদের বললেও এ প্রতিবেদকের কাছে এড়িয়ে গেছেন। বরং তার অফিস স্টাফ দিয়ে বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে দিঘলিয়া উপজেলায় ৪টি পশুর হাটের অনুমোদন দেয় জেলা প্রশাসন। হাটগুলো হলো-যোগিপোল ইউনিয়নের ফুলবাড়িগেট বালুর মাঠের হাট, বারাকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ (হরিপদ মাঠ), এমএ মজিদ কলেজ মাঠ ও পথেরবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ। এর মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী বালুরমাঠ হাট ইজারাদারকে ভ্যাটসহ ৪৮ হাজার ৭শ’ টাকা এবং বাকি তিনটির প্রতিটির জন্য ১৫ হাজার ১৮০ টাকা করে রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গোপন সহকারী (সিএ) কাঁলাচাদ সোম এ পরিমাণ রাজস্ব জমা নিয়ে রশিদ প্রদান করেন।

এদিকে, নির্ধারিত রাজস্ব জমা দেয়ার পরও কাঁলাচাদ সোম ইজারাদার/প্রতিনিধিদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। সে মোতাবেক তারা দেখা করলে ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপ্যায়নসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যয়’ বাবদ তিনি নিজেই অতিরিক্ত আরও ১০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন। পথেরবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের পশুর হাটের ইজারা গ্রহণকারী সংগঠন ‘অনির্বাণ সংঘ’র প্রতিনিধি পথেরবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজনীন আক্তার অভিযোগ করেন, তিনি পশুর হাটের নির্ধারিত রাজস্ব জমা দেয়ার পরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শম্পা কুন্ডু তাকে ডেকে নিয়ে অতিরিক্ত আরও ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এ টাকা কিসের জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি’র আপ্যায়ন’ বাবদ এ টাকা ব্যয় হবে। বারাকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ (হরিপদ মাঠ) পশুর হাট কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার কাছেও ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর আগের বছরও একইভাবে অর্থ নেয়া হয় বলে অপরাপর সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ ব্যাপারে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শম্পা কুন্ডু মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার সহকারী (সিএ) কাঁলাচাদ বলেন, ‘ইউএনও স্যার আপনার সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন’। এ কথা বলে তিনি হাট ইজারা বাবদ শুধুমাত্র সরকারি রাজস্বের বিষয়ে তথ্য দেন। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ