ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসন্ন রায় নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে  গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসন্ন রায়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রধান দুটি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে গত ক‘দিন ধরেই। বিশেষ করে ওই বিচারাধীন মামলার আসন্ন রায় নিয়ে সরকারীদলের প্রধানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য বিচারিক আদালতকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। পাশাপাশি ওই মামলার রায়ও সংকটে পড়বে বলে তাদের অভিমত। সরকারীদলের পক্ষ হতে মামলার আসন্ন রায় নিয়ে ইংগিতপূর্ণ বক্তব্যকে ‘রায় ফাঁস’হওয়ার মতো মনে করছেন অনেকেই। তাদের মতে,পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনার মতো রায় হওয়ার আগেই রায়ও ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে,প্রশ্নফাঁসের মতো একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ফাঁস করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী-এমপিরা- এ অভিযোগ বিএনপি নেতাদের। তারা বলছেন, আগেভাগেই দলটির নেতাকর্মীরা যেভাবে কথা বলছেন তাতে মনে হয়, সরকার রায় চূড়ান্ত করে রেখেছে। শুধু আদালতকে দিয়ে তা বলানো বাকি। সোমবার বিএনপির শীর্ষ নেতারা সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে দলের বক্তব্য দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরেছেন।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আহত হন তৎকালীন নারীনেত্রী আইভী রহমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগস্ট মারা যান তিনি। আইভী রহমানের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত শুক্রবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী মাসে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২১ আগস্ট যে বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের রায় হতে যাচ্ছে এতে বিএনপির অনেক নেতার জড়িত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তারা যদি দন্ডিত হয় তবে বিএনপি কিছুটা সংকটে পড়বে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্য নিয়ে ঈদের ছুটিতেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তার ওই বক্তব্যের সূত্র ধরে পরদিন শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুর কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হয় ২১ আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করার জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছেন। ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলার রায় নিজেরা লিখে তা আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করাবেন কিনা- মানুষের মনে সে সংশয়ও এখন দেখা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, একটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে।’
রিজভী বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব গতকাল বলেছেন, ২১ আগস্ট মামলার রায় হলে সংকটে পড়বে বিএনপি এবং আগামী সেপ্টেম্বরে সে রায় হবে। কাদের সাহেবের বক্তব্যেই পরিষ্কার যে, তারা নীল নকশা অনুযায়ী ২১ আগস্টের বোমা হামলা মামলার রায় নিয়ে আগাম কাজ করছেন এবং সে জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কূটচাল চালছেন তারা।’
বিএনপি নেতার এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের অভিযোগ, ভুক্তভোগী হিসেবে আওয়ামী লীগের এই অভিযোগ। তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের মদদে ওই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। হাওয়া ভবনে বসে হামলার পরিকল্পনা হয়। হামলার অন্তরালে বিএনপির অনেক নেতাই জড়িত ছিল।
এদিকে শনিবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২১ আগস্টের কিলিংয়ে প্রধানমন্ত্রী টার্গেট ছিলেন। বিএনপি তখন ক্ষমতায়। সারাদেশ জানে, হাওয়া ভবনের পরিকল্পনার কথা। এগুলো এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। বিএনপি তো দায় এড়াতে পারে না।’ ‘ঘটনা যা ঘটেছে সেই আলোকেই রায় হবে। ওই ঘটনায় কারা জড়িত সেটা বিচার বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে। বিচার বিভাগ স্বাধীন। এখানে কোনো হস্তক্ষেপ নেই।’
এর আগে গত ১৯ আগস্ট রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ঘোষণা দেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক আদালতের রায় দেয়া সম্ভব হবে। এ রায় হলে দেশ আরও একটি দায় থেকে মুক্তি পাবে। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামী ৫২ জন। এর মধ্যে ১৭ জন পলাতক। এ মামলায় আদালতে ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এছাড়া আসামীদের প্রত্যেককে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারের ব্যবস্থা করেছেন। এ মামলায় তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামীর মৃত্যুদন্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আইনমন্ত্রীর এমন ঘোষণার দু‘দিন পর ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে এমন হামলা পৃথিবীতে নজিরবিহীন । ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ক্ষমতায় থেকে এই ধরনের একটি ঘটনা বিএনপি জামায়াত জোট সরকারই ঘটিয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা শুধু রক্ত নিতেই জানে। দেশবাসীকে তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। ওই দিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্টের মতো ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায়ও জিয়া পরিবার জড়িত। ওই হামলার পর তৎকালীয় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সংসদে দাঁড়িয়ে উপহাস করেছিলেন। সেই সরকার সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল আমি নাকি গ্রেনেড ভেনিটি ব্যাগে করে নিয়ে গিয়েছিলাম।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আগামী মাসে হতে পারে জানিয়ে খোদ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক‘র বক্তব্যের পর বিচারাধীন মামলা নিয়ে সরকার প্রধান ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ইংগিতপূর্ণ বক্তব্যের পর পরই রাজণীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। এই উত্তাপ এখনও চলছে। নির্বাচনী বছরের শেষ দিকে এসে বিচারাধীন একটি মামলার আসন্ন রায় নিয়ে সরকারি দলের নানা বক্তব্য দেশে রাজনৈতিক সংকটকে ঘনিভূত করবে।
গত ২৭ আগস্ট সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারানো আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানের ১৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় বিচারকাজ যখন শেষের দিকে, তখন বিএনপি নেতারা বিচারকদের ওপর মনস্তাত্বিক চাপ তৈরি করছেন। তিনি বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। ওই হামলার আলামত নষ্ট করা হয়েছে। এখন বিচার কাজ যখন শেষের দিকে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবীর রিজভীসহ বিএনপির অনেক নেতা বিচারকের ওপর মনস্তাত্বিক চাপ তৈরি করছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
ওই দিনের আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক জিয়ার নির্দেশনায় আইএসআইয়ের কাছ থেকে গ্রেনেড এনে ২১ আগস্ট হামলা চালানো হয়েছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে নৃশংস ওই হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা হবে।’
এর আগের দিন রোববার সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মন্তব্য করে বলেন, কোনো ঘটনার বিচার চলাকালে ক্ষতিগ্রস্তরা সর্বোচ্চ সাজা চাইতেই পারেন। ফাঁসি দাবি করলে তা বিচারে হস্তক্ষেপ নয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের মামলার রায়ে যাতে বিচার চাওয়া বা সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া দালতের ওপর হস্তক্ষেপ নয়। ক্ষতিগ্রস্তরা এমন দাবি করতেই পারেন। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার।
গত কয়েকদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন,বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে সরকার ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমারকে জড়িত করে সরকার নিজেদের ইচ্ছাপূরণের অপচেষ্টা করছে । তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সরকার গোটা বিষয়টাকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন ও দুর্বল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বলেই দলীয় একজন নেতাকে (আবদুল কাহ্হার আখন্দ) তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে মামলার অন্যতম আসামীকে (মুফতি হান্নান) দিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে হান্নান সরকারের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছে। “এখন তারা (সরকার) বিচার বিভাগকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছাপূরণের অপচেষ্টায় রত হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং জাতীয় রাজনীতিতে এর বিষময় পরিণতি সম্পর্কে পুনরায় ভাবার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছি।”
ফখরুল বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা বরং আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকে দেশের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজনীয় মনে করি। সরকারের উচিৎ নতুন সংকট সৃষ্টির পরিবর্তে বিদ্যমান সমস্যাদি সমাধানের উদ্দেশ্যে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া।
মির্জা ফখরুল বলেন, “২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলা এবং তার ফলে মিসেস আইভি রহমানসহ অনেক নারী পুরুষের জীবন নাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনার আমরা তখনও নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং এখনো জানাই। আমরা এই ঘটনার জন্য দায়ী প্রকৃত অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কারণ আমরাও চাই, এমন নির্মম অরাজনৈতিক ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়। “কিন্তু ওই ঘটনাকে পূঁজি করে সরকার ও সরকারি দল যেভাবে বিএনপি ও বিএনপির মূল নেতাদের অন্যায়ভাবে বিপদাপন্ন করার জন্য তাদের পুলিশ, গোয়েন্দা, তদন্ত কর্মকর্তা এমনকি বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নগ্ন প্রয়াস চালাচ্ছে তা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার মামলার পরপরই তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের আইনগত পদক্ষেপ, সন্দেহভাজন আসামীদের গ্রেপ্তার এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার গতি পরিবর্তনের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। বিএনপি সরকারের আমলে ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে ইন্টারপোল, এফবিআইকে দেশে নিয়ে আসা, মুফতি হান্নানসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, সিআইডি, ডিবিসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা, হাই কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করাসহ নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে চার দলীয় জোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, “এসব কিছু প্রমাণ করে যে, প্রকৃত ঘটনা ও অপরাধীদের শনাক্ত করার বিষয়ে তৎকালীন বিএনপির সরকারের আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল না।”
২০০৪ সালের সেই নির্মম গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ঘাতকদের গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী। এছাড়া গ্রেনেডের স্পিøন্টারের আঘাতে আহত হন দলটির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী। এ ঘটনায় পরদিন (২২ আগস্ট, ২০০৪) মতিঝিল থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। এরপর তদন্তের ভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগকে। পরে মামলাটির তদন্ত স্থানান্তর করা হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)।
পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ নিয়ে মামলার শুনানিতে ১০৯ দিন যুক্তি উপস্থাপন হয়েছে। শেষ হয়েছে ৪৪ আসামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনও।
আলোচিত এই মামলার প্রসিকিউশনের অন্যতম সদস্য আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল সাংবাদিকদের জানান, মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা ৫২। এর মধ্যে তিন জন আসামীর অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন ৪৯ আসামীর বিচার চলছে। এর মধ্যে ১৮ জন পলাতক, ২৩ জন হাজতে আছেন। আসামীদের মধ্যে ৪৫ জনের যুক্তিতর্ক পেশ হবে। এরই মধ্যে ৪৪ জনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়ে ৪৫তম জনের পক্ষে চলমান রয়েছে।
আদলত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আরও ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।
এ মামলার জামিনে থাকা আসামীরা হলেন- খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডি’র সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম।
অন্যদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ মামলার ২৩ আসামী কারাগারে আটক আছেন।
এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৮ জন আসামী পলাতক।
গত ১ জানুয়ারি আইন অনুযায়ী মামলার সব আসামীর সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ