ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংসদ নির্বাচন করতে হলে পরিবেশ তৈরি করতে হবে

গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : সংসদ নির্বাচন করতে হলে তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসাথে তিনি বলেছেন, নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। একইসাথে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, হীরক রাজার মতো যখন যা খুশি বলবেন সেটি আর হবেনা। জনগণ এখন রাজপথে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।  দলের এক যৌথ সভার পর এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ ,আসাদুল করীম শাহিন, আবদুল আউয়াল খান, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, বেলাল আহমেদসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 ভোটের লড়াইয়ের আগে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ‘ জোরালো’ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত আছে। প্রতিদিনই কর্মসূচি চলছে। আরো কর্মসূচি আসছে এবং জোরালো কর্মসূচি আসছে। সময়মত ঠিক সময়ে জোরালো কর্মসূচি দেখতে পারবেন। কেমন কর্মসূচি আসছে ঠিক সময়ে দেখতে পারবেন।
উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা ট্রাষ্ট মামলায় ৫ বছরের সাজায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি  থেকে পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়া বন্দী রয়েছেন। এরপর থেকে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি, গণ অনশন, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ, লিফলেট বিতরণ, বিভাগীয় শহরে সমাবেশ, জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ-মিছিল ইত্যাদি কর্মসূচি দিয়ে আসছে। একইসাথে আইনগত লড়াইও অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৩৪টি মামলার মধ্যে ৩২টিতে তিনি জামিনে রয়েছেন। কুমিল্লার দুটি মামলায় জামিন হলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকবেনা।
নির্বাচনে দলের কর্মকৌশল কী হবে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলছি আমাদের নেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। এটা হচেছ আমাদের প্রথম শর্ত। তারপরে বলেছি যে, নির্বাচন করতে হলে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং সব দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের সময়ে সেনা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
বিএনপির কাছে নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ কোনটি প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন. চ্যালেঞ্জ তো আওয়ামী লীগের। তাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষ তাদেরকে ভোট দেবে না। এজন্য যতরকমের দুষ্টামী আছে সবরকমের দুষ্টামী শুরু করেছে। ইভিএম আনবে নাকী। আমরা বলেছি ইভিএম চলবে না। অন্যরাও বলছে ইভিএম চলবেনা। তারপরও সবার মতামতকে উপেক্ষা করে তারা নাকি ইভিএম আমদানী করবে ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আরো শুনতে পাচ্ছি, পুলিশকে বলা হচেছ সমস্ত নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে, অমুক করা হবে। হোয়াই!  নির্বাচন যদি করতে চান সবাইকে মুক্ত করে নির্বাচন করেন।  চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তাদের তারা জনগণকে ঠেকাতে পারবে কিনা। কিভাবে ঠেকাবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা তারা করুক।
নির্বাচনী বৃহত্তর জোট গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি চলছে তার থেকে পরিত্রাণ চায়। সবাই চায় জনগণ তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করুক। শুধু চায়না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, যারা দেশকে রক্ষা করতে চান, গণতন্ত্র ফিরে আসুক চান তারা ঐক্যবদ্ধ হবার কথা বলছেন। আমরা সেটাকে সাধুবাধ জানাই। বিএনপিও দেশের বর্তমান সংকটকালে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের নেতারা বলছেন বিএনপি অত্যন্ত সংকটে, বিএনপি ধবংস হয়ে যাবে। আমরা যদি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, বিএনপি হচ্ছে এই দেশের জনগণের দল, এদেশের মানুষের স্বপ্নের দল, এদেশের মানুষের হৃদয়ের দল। হৃদয়ের স্পন্দন থেকে এই রাজনৈতিক দল সৃষ্টি হয়েছে সেটাই হচ্ছে বিএনপি।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিষয়ে দলের সংবাদ ব্রিফিংয়ের খবর পত্র-পত্রিকায় কম গুরুত্বে প্রকাশে গণমাধ্যমের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা গত  সোমবার এই বিষয়ে আপনাদের সামনে প্রেস ব্রিফিং করেছি। দুর্ভাগ্যের কথা আজকে আমরা দেখছি প্রিন্টিং মিডিয়াতে এটাকে বেশি দেয়া হয় নাই। আমি জানতে চাই যে, কেনো দেয়া হয় নাই। এতো বড় একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে বিষয়টা একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা, যেটা একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জড়িত আছে। যেখানে সকল তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আমরা এটাকে উপস্থাপন করেছি। দুর্ভাগ্য আমাদের সেই বিষয়গুলোকে  ২/১ টা পত্রিকার ছাড়া কেনো পত্রিকাতে সেভাবে তুলে ধরা হয়নি।
কেনো? কারণ আমরা জানি, পেছন থেকে আপনাদেরকে আটকিয়ে দেয়া হয়েছে। পেছন থেকে বলা হয়েছে এটাকে এভাবে দেয়া যাবে না, গুরুত্ব দেয়া যাবে না, বলা হয়েছে এভাবে ছাপানো যাবে না। কারণ ফ্যাসিস্ট একদলীয় সরকার বসে আছে তারা আপনাদেরকে বিরত করছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আক্ষেপে এই কথাগুলো বললাম। আমরা অনেক কষ্ট করে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করলাম। আমরা আশা করেছিলাম এই বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। যে মানুষটি কোনো মতেই জড়িত নয়। তিন তিনবার আইও পরিবর্তন করে তারপরে একদলীয় অবসরপ্রাপ্ত  লোককে নিয়ে এসে এবং একজন ব্যক্তি তাকে নির্যাতন করে  ৪০০ দিন রিমান্ডে রেখে তার কাছ থেকে একটা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছিলো। পরবর্তিকালে ওই ১৬৪ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলো ওই ব্যক্তি। তাকে তো আপনারা তার যে শেষ আইনগত অধিকার দেইনি। তার আগেই অন্য একটা মামলায় ফাঁসি কাষ্টে ঝুলিয়ে দিয়েছেন।  অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যাতে সেই সাক্ষীকে বিনষ্ট করা যায়।
আমরা এর আগেও বলেছি আজো বলছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলায় দুই নাম্বার সাক্ষী,  তিনি সাক্ষ্য দিতে যান নাই। কেনো যান নাই? সাবজেলের মধ্যে তিনি ১৬১ ধারায় যে জবানবন্দী দিয়েছিলেন তাতে একবারও তিনি তারেক রহমান সাহেব বা বেগম খালেদা জিয়ার কথা বলেন নাই। আজকে তিনিই(শেখ হাসিনা) আবার বলছেন বেগম জিয়াও জড়িত আছে। অথচ বেগম জিয়ার নাম কোথাও নাই, এখন পর্যন্ত নাই। উদ্দেশ্য একটাই- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তার পরিবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যারা উড়ে এসে রাজনীতি করছেন না। রাজনীতি করতে করতে তারা এই জায়গায় এসেছে।
ফখরুল বলেন, দেশের সমস্ত পরিবর্তন হয়েছে জনগণের দ্বারা। আজকে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই, তাদের আয়ের কোনো নিরাপত্তা নেই। জনগণ ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। আপনারা দেখেছেন কয়েকটি ঘটনায় মধ্য দিয়ে তারা ফুঁসে উঠেছে। এখন আপনারা হীরক রাজার দেশের মতো যা খুশি তাই বলবেন- এটা হবে না। দেশের মানুষ এই অন্যায়-অত্যাচার মেনে নেবে না। বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়াবেই ইনশাল্লাহ এবং পরাজিত হবেই এই অপশক্তি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণ নিসেন্দেহে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে তারা আবারো আন্দোলন করবে, আবারো রাজপথে আসবে। যারা আজকে চক্রান্তের মধ্য দিয়ে, নীল নকশার মধ্য দিয়ে আবারো গণতন্ত্রকে ধবংস করে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা পোক্ত করতে চায় তারা একেবারে তাসের ঘরের মতো তাদের ঘর ভেঙে যাবে।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। নির্ভর করছে আগামীতে দেশে গণতন্ত্র থাকবে কিনা। তাই একাদশ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এমন যদি হয় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলো না তাহলে কি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে? গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ