ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু ১০ সেপ্টেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ গ্রিডলাইন উদ্বোধন করবেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটা উদ্বোধন করা হবে। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে।
বর্তমানে ভারত থেকে ৬৪০  মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। যার মধ্যে ৫৪০ মেগাওয়াট পশ্চিমবঙ্গ  থেকে ভেরামারা দিয়ে। আর বাকি ১০০ মেগাওয়াট ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা দিয়ে। ২০১৩ সালে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়।
সূত্র জানায়, ভারত থেকে নতুন ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানি শুরু হচ্ছে। এজন্য কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৫শ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। ওইদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আমদানি কার্যক্রম ও নবনির্মিত সাব-স্টেশন উদ্বোধন করবেন।
ভারত থেকে নতুন করে ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ভারত থেকে আরো ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আগামী মাসে আমদানি করতে যাচ্ছি। সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে এই বিদ্যুৎ কেনা হবে। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমদানি কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের সরকারি খাত থেকে আড়াইশ মেগাওয়াট এবং বেসরকারি খাত থেকে আরও আড়াইশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্থাপিত এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। এই সাবস্টেশনের মাধ্যমেই ভারতের বহরমপুর গ্রিড থেকে ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। এর আগে, ২০১৩ সালে ভারত থেকে প্রথমবারের মতো কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা দিয়ে ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছিল।
পরে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি ভেড়ামারা আন্তঃসংযোগ গ্রিডের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয় ও প্রকল্প প্রহণ করে। প্রকল্পটির নাম রাখা হয় ‘৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক কনভার্ট ইউনিট-২’। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল যেন নতুন করে আরও ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা যায়। এ সময় বাংলাদেশ সরকার সাব-স্টেশন নির্মাণে আন্তজাতিক দরপত্র আহ্বান করে। ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ ৪০৪ দশমিক ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সাবস্টেশন নিমার্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। পরে ২০১৬ সালে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৮৭৭ দশমিক ৯২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয় তিন বছর। ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত তিন বছরের আগেই কাজ শেষ হয়ে যায়। এই সাব-স্টেশনের সঙ্গে ভেড়ামারা-ইশ্বরদী ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ক্রমান্বয়ে ভারত থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ভারতের কাছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সহায়তা চাইলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মন্ত্রী এ সহায়তা চান। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ভারতীয় মহাসাগরীয় সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মঙ্গলবার এ সব সহায়তা চান মন্ত্রী। পরিকল্পনা মন্ত্রীর দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।
সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠককালে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি খাত উন্নয়নে ভারতের সহায়তা প্রয়োজন।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্বাঞ্চলীয় অংশ থেকে বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়ে চলমান আলোচনা এগিয়ে নিতে এ সময় সুষমা স্বরাজের কাছে সহায়তা চান পরিকল্পনামন্ত্রী। নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতেও তিনি দেশটির সহযোগিতা চান।মঙ্গলবার ভারতীয় মহাসাগর সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ