ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অথঃ গুজব সমাচার

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : ১৭৫০ সালে প্যারিসের রাজপথ থেকে শিশুদের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সে সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে, রাজা লুইস (পঞ্চদশ) কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই রাজার রোগ মুক্তির জন্যই শিশুদেরকে অপহরণ করা হচ্ছে। জনশ্রুতি ছিল যে, শিশুদের রক্তে গোসলই হচ্ছে কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তির অদ্বিতীয় উপায়। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা ছিল ভিন্ন। রাস্তায় অনাথ শিশুদের পাওয়া গেলে তাদেরকে রাজকীয় ব্যবস্থায় সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন রাজা লুইস (পঞ্চদশ)। রাজার এই মহতি কাজকেও গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে বিতর্কিত করা হয়েছিল। তবে রাজার বিরুদ্ধে এমন গুজব ছড়ানোর পরও গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কারণ, গুজব সৃষ্টি ঘৃণীত কাজ হলেও তাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ মনে করা হয় না।
সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে ‘গুজব’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি গুজব সৃষ্টিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এখন শব্দটির অপব্যবহারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে হাল আমলে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশটাই এখন গুজবী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা ও কাজকেও গুজবের ট্যাগ লাগিয়ে একদিকে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে; অন্যদিকে নিজেদের নেতিবাচক কাজকে আড়াল করার চেষ্টাও করা হচ্ছে। শেয়ার মার্কেট, বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক, ফারমার্স ব্যাংক, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, জনতা ব্যাংক এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ কেলেঙ্কারীকে সরাসরি গুজব হিসেবে আখ্যা দেয়া না হলেও পক্ষ বিশেষের আত্মপক্ষ সমর্থনের ভাষা ও উপস্থাপনা দেখে মনে হয়েছে এগুলোও পরোক্ষ গুজব। সঙ্গত কারণেই এসব কেলেঙ্কারীর কুলকিনারা এখন পর্যন্ত হয়নি। হবে বলে আশ্বস্তও হওয়া যাচ্ছে না।
ইদানীং বাংলাদেশ ব্যাংকে স্বর্ণ কেলেঙ্কারী, খনি থেকে কয়লা ও পাথর নিরুদ্দেশ হওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। স্বর্ণ কেলেঙ্কারীর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আংশিক স্বীকারোক্তি দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তা পুরোপুরি অস্বীকার করায় মনে হয়েছে বাঁশের চেয়ে কঞ্চিই বেশ পরিপুষ্ট। কয়লা ও পাথর চুরির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবসাব ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ পর্যায়ের। তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং তদন্ত হচ্ছে। হয়তো এক সময় এর সাথেও গুজবের তকমা লাগিয়ে দেয়া হবে। সম্প্রতি রাজধানীতে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী হেসেছেন। তিনি এই ঘটনাকে গুজব মনে করেছিলেন কি না তা স্পষ্ট না হলেও এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া কিছু একটা অনুমান করার সুযোগ করে দিয়েছে।
‘যত দোষ নন্দঘোষ’ বলে একটা প্রবাদ চালু আছে আমাদের সমাজে। ‘..যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেষ্টো বেটাই চোর’ এর মাধ্যমে কবি গুরু সে কথারই প্রতিধ্বনি করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রয়োগ এখন বেশ চোখে পড়ার মত। যা-ই ঘটুক বিরোধী দল সরকারকে আর সরকারি দল বিরোধী দলকে দায়ি করার একটা অপসংস্কৃতি চালু আছে আমাদের দেশে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে কথিত ‘গুজব’ নামের এক নতুন উপদ্রপ। সর্বসাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা এতো বেড়েছে যে, সত্য ঘটনাগুলোও গুজবের সাথে একাকার হয়ে যাচ্ছে। কথিত গুজবের গজব নিয়ন্ত্রণে এখন রাজনৈতিক শক্তি এমনকি রাষ্ট্রীয় শক্তিরও সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হচ্ছে। অবস্থার যেভাবে অবনতি হচ্ছে তাতে আগামীতে ‘গুজব প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন ও তা দন্ডবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার আবশ্যকতা দেখা দিতে পারে।
যেকোন নেতিবাচক ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষকে দায়ি করার একটা অশুভ প্রবণতা আমাদের দেশে বেশ পুরনো। কিন্তু হালে তা কিছুটা ভিন্নরূপ নিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এখন আত্মপক্ষ সমর্থনে কোন তথ্য-উপাত্ত বা যুক্তি-নৈতিকতাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না বরং এ ক্ষেত্রে কথিত গুজব নামের অস্ত্রটির সার্থক ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রেণি বিশেষের সকল প্রকার ব্যর্থতাকে গুজবের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দেয়ার চেষ্ট করা হচ্ছে। ফলে সরকারের গুজব বিরোধী প্রচারণায় দেশের মানুষ বিশ^াস রাখতে পারছে না বরং এটিকে সরকারের রাজনৈতিক কৌশল ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবেই মনে করছে। এমনকি কথিত গুজব রটনাকে ‘আমলী অপরাধ’ (Cognizable Offence) হিসাবে গণ্য করার সাথে সাথে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। মুরব্বীরা নসিহত করতেন যে, ‘গুজবে কান দিও না’। কবি কমিনী রায় তো ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় সে কথায় তার কাব্যিক দ্যোতনায় উপস্থাপন করছেন।
বিদগ্ধজনরা আমাদের এ কথাই শিখিয়েছেন যে, গুজব কারো জন্য অনিষ্টকর হয় না। কারণ, এর কোন ছায়া-কায়া থাকে না। কিন্তু হাল আমলে ছায়ার সাথে যুদ্ধ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু তাদের কর্মতৎপরতা দেখে সন্দেহ করার অবকাশ থাকছে যে, আসলে তারা গুজব প্রতিরোধ করছেন না বরং কতিপয় অকাট্য সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য নিজেরাই গুজব সৃষ্টি করছেন। এক ক্ষত ঢাকতে আরও নতুন নতুন ক্ষত জন্ম দেয়া হচ্ছে। দেশ এখন অপরাধ ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হলেও রাষ্ট্রযন্ত্র এসবের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না।
গুজবর সৃষ্টির বিরুদ্ধে সরকার ও প্রশাসনকে বেশ করিৎকর্মাই মনে হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাসে কখনোই সত্যকে গুজব আর গুজবকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। যেমন প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি নবাব মুর্শিদকুলী খানের কন্যা আজিমুন্নিসাকে ‘কলিজাখাকি বেগম হিসেবে’। সে সময়ই একটা গুজব প্রচলিত ছিল যে, নবাব তনয়া রোগ মুক্তির জন্য প্রতিদিনই শিশুদের কলিজা ভক্ষণ করতেন। কিন্তু সে গুজব শূন্যে মিলিয়ে গেছে। ইতিহাস তাকে যথাযথ স্থানেই রেখেছে। আর যারা প্রকৃত পক্ষেই জনগণের কলিজা ভক্ষক ইতিহাস তাদেরকে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে যারা এমন কাজ করছেন ইতিহাস তাদেরকেও চিহ্নিত করবে।
সম্প্রতি রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের রাজপথে আন্দোলন, তাদের ওপর সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা, গণমাধ্যমকর্মীদের রীতিমত উত্তম-মধ্যম, আলোকচিত্রী গ্রেফতার ও রিমান্ডের ঘটনা ঘটেছে। কোন গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। বিষয়টি নিয়ে যখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে তখনই গুজব তত্ত্ব আবিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এতদসংক্রান্ত যত সংবাদ প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে সবই এখন গুজব হিসেবে আখ্যা পাচ্ছে। ভাবটা এ রকম যে, সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র, গণপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবই গুজববাজদের কাছে অসহায়। তাই রাষ্ট্রকে গুজবের বিরুদ্ধে একটা সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে।
সম্প্রতি গুজব নিয়ে যে মাতামাতি শুরু হয়েছে তা রীতিমত আতঙ্কের। গুজব আমলী অপরাধ না হলেও যেভাবে তা প্রতিকারে কামান দাগানো হচ্ছে তাতে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে যে, হয়তো গুজব বলে চালানো সব ঘটনায় গুজব নয় বরং এর মধ্যে বস্তুনিষ্ঠতা আছে। কথিত গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অভিনেতা-অভিনেত্রী ও স্কুল শিক্ষিকাসহ বিভিন্ন শ্রেণির এবং পেশার মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও। একই বিষয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে আলোকচিত্রী ড. শহীদুল আলমকে। মি. আলম আল জাজিরার সাথে সাক্ষাৎকারে সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাই তাকে বাসা থেকে চেংদোলা দিয়ে তুলে নিয়ে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ ও শৃঙ্খলাবাহিনীর যুগপৎ হামলার চিত্রধারণ করে তা ফেস বুকে পোস্ট করেছিলেন। তাই সরকার তার বিরুদ্ধে গুজব সৃষ্টির অভিযোগ এনেছে।
আল জাজিরায় সরকারের সমালোচনা করায় এটর্নী জেনারেল তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রোহের অভিযোগ তুলেছেন। মূলত রাষ্ট্রপক্ষ সরকারের সমালোচনা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতাকে একাকার করে ফেলেছে। আমাদের দন্ডবিধিতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে মি. শহীদুলের বক্তব্যের সাথে তার দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে আইনী বিষয়টি খুবই স্পষ্ট। আইনী ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘সরকারের সুস্থ সমালোচনা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। মুক্ত এবং সৎ সমালোচনার মাধ্যমে জনগণ সরকার গঠন করিতে পারেন বা বিলোপ করিতে পারেন। ইহা ঠিক নহে যে, সরকারের পরিবর্তন চাহিবার অধিকার নাগরিকের নাই। প্রত্যেকেরই স্বাধীন মত থাকা উচিত এবং তাহা প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রীয় আইন রক্ষা করে’। [পিএলডি ১৯৫৮ পেশ, ১৫]
সম্প্রতি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ৯ দফা সরকার মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগ শিক্ষার্থীদের দাবি হলেও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় দায়িদের সাজা বাড়ানোর দাবি থাকলেও তা রীতিমত কমানো হয়েছে। তাই দেশের মানুষ সরকার কর্তৃক শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণাকেই গুজব হিসেবেই দেখছেন। যেমন কোটা আন্দোলনের দাবি মেনে নেয়ার বিষয়টি গুজব হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ বিষয়ে সরকার যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে তাতে ও সরকারের পূর্ব ঘোষণার প্রতিফলন ঘটেনি। আর বিষয়টি যে মারাত্মক শুভঙ্করের ফাঁকি তা খুবই পরিষ্কার।
প্রস্তাবিত আইনে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য মাত্র ৫ বছরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অথচ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল মৃত্যুদন্ড। এরশাদের সময় প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদন্ড। তারপর তা কমিয়ে করা হয় সাত বছর। এরপর আরো কমিয়ে করা হয় তিন বছর। কিন্তু হাইকোর্ট সম্প্রতি এক পর্যবেক্ষণে সাত বছর করার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু সরকার হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুসরণ না করে নতুন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে পাঁচ বছর। সরকার পাবলিক সার্ভিসে কোটা সংস্কারের ক্ষেত্রে দেশের উচ্চ আদালতের রায়কে প্রতিবন্ধক হিসেবে আখ্যা দিলেও রহস্যজনকভাবে সড়ক পরিবহণ আইনে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায় আমলে নেয়নি।
 কোন চালক ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হত্যা করলে ৩০২ ধারায় বিচারের মাধ্যমে প্রাণদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যেও আইনজ্ঞরা গোঁজামিল দেখতে পাচ্ছেন। কারণ, ৩০২ ধারা নতুন কোন ধারা নয় বরং যেকোন ধরনের হত্যাকান্ড এই ধারায় বিচার্য। নতুন আইনে ড্রাইভারদের জন্য অষ্টম শ্রেণি ও তাদের সহকারীদের জন্য পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষাগত যোগ্যতার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এটা কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদন্ড নয়। কারণ, এসএসসির নীচে যেকোন ধরনের শিক্ষা সনদ সহজেই সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই প্রস্তাবিত নতুন আইনে ‘গরু-ছাগল চিনলেই লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য’ নৌমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটেছে নতুন আইনে।
খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশে কয়েকটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়ে গেল। কিন্তু নির্বাচনগুলোতে থোরাই জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা হয়। কেন্দ্র দখল থেকে শুরু করে বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে সিল মারা ও প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে সরকারদলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। ক্ষেত্র বিশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে আনুকূল্য দেয়ার অভিযোগটাও স্পষ্ট। বিষয়টি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল সোচ্চার হলেও সরকার পক্ষ এসবকে গুজব আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ যে গুজব ছিল না তা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আত্মস্বীকৃতি থেকে খুবই স্পষ্ট। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনও যে ত্রুটিমুক্ত হবে এমন নিশ্চিয়তা দেয়া  যে ত্রুটিমুক্ত করতে পারেননি।
সরকার এখন গুজব বিরোধী অভিযান চালিয়েছে। কারণ, তারা গুজবকেই এখন প্রধান জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিত্রিত করেছে। সরকার নাকি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে যারা গুজব ছড়িয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে ফেলেছে। তাদের বিরুদ্ধে নাকি এখন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু সে ঘটনার নিউজ কাভার করতে গিয়ে সেসব গণমাধ্যমকর্মী হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছেন সেসব হামলাকারীদের সনাক্ত করার ব্যাপারে কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। এখন গুজবকেই সব সর্বনাশের মূল বলে মনে করা হচ্ছে। বাস্তবতা কি তা-ই?
smmjoy@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ