ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাঁশখালীতে শঙ্খের ভাঙ্গনে বিলীন হওয়া সাধনপুরের রাতাখোর্দ্দ জেলে পাড়া

বাঁশখালীতে শঙ্খ নদীর ভাঙ্গনের ছবির (১) বশত বাড়ি থেকে বিলীন হচ্ছে ঘর। (২) বশত ভিটার সাথে দেখা যাচ্ছে মাছ ধরার নৌকা। (৩) বশত ভিটার মাটি সরে যাচ্ছে। (৪) শঙ্খ নদীর ভাঙ্গনের শিকার সাধনপুরের কৈবত্য পাড়া এলাকার বাড়িঘর।

মোঃ আবদুল জব্বার, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) থেকে : খরস্রোতা চট্টগ্রামের শঙ্খ নদীর ভাঙ্গন যেন কোন কিছুতেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। একদিকে ভাঙ্গন বন্ধ করলে শুরু অন্যদিকে।ভাঙ্গনের তালিকায় যোগ হয় নতুন নতুন নাম। বাশঁখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড়ের রাতাখোর্দ্দ এর পাশে অবস্থিত কয়েকশপরিবার নিয়ে জলদাস পাড়া ও কৈবর্ত্য পাড়া। যেখান কার জনগনের একমাত্র পেশা সাগরে মাছ ধরা। জেলে সম্প্রদায় হওয়াতে তাদের প্রতি নেই কারো নজরদারি। ফলে এ এলাকার কয়েক’শ পরিবার খরস্্েরাতা শঙ্খ নদীর ভাঙ্গন এর কবলে পড়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।জেলেপাড়া সংলগ্ন এক সময়ের নামকরা বাজার ঈশ্বরবাবুর হাট।
যেখানে একসময় কয়েকশ দোকানপাট থাকলে ও বর্তমানে হাতেগুনা কয়েকটা দোকান রয়েছে মাত্র।জেলেপাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জলকদর খালটি একসময় ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেওয়ার অন্যতম যাতায়াত মাধ্যম। খালের পশ্চিম পার্শ্বে খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া রায়ছটা পূর্বপার্শ্বে সাধনপুর ইউনিয়নের জেলেপাড়া,কৈবত্য পাড়া, রাতাখোর্দ্দসহ অন্যান্য পাড়া গুলো অবস্থিত।বর্তমানে প্রতিদিন জেলেপাড়া,কৈর্বত্য পাড়ার বাড়িঘর গুলো শঙ্খের ভাঙ্গনের শিকার হয়ে একে একে বিলীন হতে বসেছে। সম্প্রতি সময়ে ১৫-২০টি বাড়ি এ কয়দিনে হারিয়ে গেছে।তারা হলেন বাহাদর দাশ (৪৮),সনজিত দাশ (৩৮), মাদু দাশ (২৮), বাবুল দাশ (৫০), জয়ন্ত দাশ (৪৮), মতি লাল দাশ (৫০), সত্য দাশ (৩৪), সুমন দাশ (৩৫), মৃদুল দাশ (৩৫), মোহান্ত দাশ (৭০), সমীর দাশ (৩৬), জয় রামদাশ (৫০), সুর্য সেনদাশ (৬০), রাতারকুল সার্বজনীন রক্ষা কালী মন্দির, সহ আরো অনেকের বাড়িঘর হারিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে অন্যান্য বাড়ি গুলো। জেলে সমপ্রদায়ের লোকজন জানে না কোথায় গেলে তাদের বাড়ি ঘর রক্ষা করার মত উপায় খুঁেজ পাবে। তাই নিরূপায় হয়ে সাগর পানে চেয়ে চেয়ে দিন পার করছে তারা।একসময় জেলেপাড়া, কৈবত্য পাড়াসহ রাতাখোর্দ্দ এলাকা ঘিরে ছিল ৪’শতাধিক পরিবারের এক পাড়া। ১৯৯১ এর ঘুর্ণিঝড় এর পর থেকে ভাঙ্গন শুরু হলে সে ভাঙ্গনের তোড়ে নি:স্ব হয়ে কয়েক’শ, পরিবার গৃহহীন হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। স্থানীয় মহন্ত দাশ (৬৫) বলেন ভাঙ্গনের তোড়ে নি:স্ব হয়ে ২ শতাধিক পরিবার চলে গেছে বাধ্য হয়ে। তাদের মধ্যে অনেকে ভারতে, কাপ্তাই, চট্রগ্রাম শহরে, বানীগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।আমরা যারা সহায় সম্ভলহীন তারা এখনো মৃত্যুর দুয়ারে বসে আছি। নকুল দাশের পুত্র পশুরাম দাশ (৬০) জানান আমার পরিবার এ পর্যন্ত ৫ বার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গৃহহীন হই। বর্তমানে কোন রকমে বেচেঁ আছি সাগরকে আকঁড়ে ধরে। কারণ আমরা জেলেরা সাগর ছাড়া চলতে পারিনা। সাগরে জাল ফেলে যা পাই তা নিয়ে কোন রকমে সংসার চালাই। আংগুর বালা দাশ ও কালীকুমার দাশ জানান চোখের সামনে একে একে বিলীন হতে দেখেছি কয়েকশ পরিবার। আমাদের কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই তাই আজো এখানে মাটি আকড়িয়ে পড়ে আছি। আমাদের দেখার জন্য কেউ আসেনা। আমরা প্রতিনিয়ত ভাঙ্গনের কবলে পড়ে আছি অথচ কেউ আমাদের খোঁজ নেয়না। শঙ্খের ভাঙ্গন রোধে দুপাশে কাজ চলমান থাকলে অদৃশ্য কারণে জেলে পাড়া ও কৈর্বত্য পাড়া এলাকায় কোন ধরনের কাজ হয়না। ফলে প্রতিদিন ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে এ এলাকার জনগণের বাড়িঘর। ঈশ্বর বাবুর হাটের ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম বলেন চোখের সামনে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে বাড়ি ঘর। এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে কিছু একটা করা প্রয়োজন না হয় হারিয়ে যাবে এ জেলে ও কৈর্বত্য পাড়াটি। সাধনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা বলেন এ এলাকার ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের প্রধান প্রকৌশলীকে দরখাস্তের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, আশা রাখি অল্প কিছু দিনের মধ্যে একটা সুরাহা হবে। তবে তিনি এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিষদের মাধ্যমে সহযোগিতার কথা জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের উপ-প্রকৌশলী ধীমান চৌধুরী জানান শঙ্খ নদীর ভাঙ্গন রোধে বর্তমান চলমান কাজে জেলে পাড়া ও কৈর্বত্য পাড়া এলাকায় জন্য কোন বরাদ্দ নেই। তবে আগামীতে যাতে কাজ হয় সে ব্যাপারে বাজেট প্রেরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় হারিয়ে যেতে বসেছে সাধনপুর ইউনিয়নের জেলে পাড়া ও কৈর্বত্য পাড়া গ্রামটি। যেমন গৃহহীন হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ২ শতাধিক পরিবারকে। বর্তমানে সব হারিয়ে নি:স্ব সাধনপুর ইউনিয়নের জেলে পাড়া ও কৈর্বত্য পাড়ার অর্ধশতাধিক পরিবারকে রক্ষায় দ্রুতগতিতে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কি তা সাধারণ জনগণের জিজ্ঞাসা?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ