ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পেয়ারা চাষে ভাগ্য বদলাতে চায় বিদেশ ফেরত ফটিকছড়ির আবুল মনসুর

ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে হালদা নদীর তীরে- এ পেয়ারা বাগান

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি থেকে : দীর্ঘ ১৫ বছর প্রবাস জীবন থাকার পরও হয়নি ভাগ্যের পরবির্তন। প্রবাস জীবন ছেড়ে এসে বেকার জীবনযাপন করার পর ভাবে বাপ দাদার রেখে যাওয়া জমির উপর কিছু করবে। জমিগুলোর কিছু বন্ধক রেখে আর কিছু জমিতে পেয়ারা চাষ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেয়। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে পেয়ারা গাছের চারা এনে রোপণ করেন। এভাবে পেয়ারা চাষ করে স্বাবলম্বী হতে চাই ফটিকছড়ি উপজেলা সুন্দরপুর ইউনিয়নের আবুল মনসুর। সে সুন্দরপুর ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের কাসেম আলীর বাড়ীর হাছি মিয়ার পুত্র। ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের হালদা নদীর তীরে আবুল মনসুরের পেয়ারা বাগান। আবুল মনসুর জানান, দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন থাকার পরে ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করতে না পেরে দেশে ফিরে এসে এক বছর বেকার জীবনযাপন করার পর সিদ্ধান্ত নিয় পেয়ারা চাষ করব। এজন্য তিনি সহযোগিতা নেন ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার লিটন দেব নাথের। তার বাপ দাদার রেখে যাওয়া জমিতে প্রায় আড়াই খানি জমিতে ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসারের সহযোগিতায় হাটহাজারী কৃষি উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ২০ টাকা করে সাড়ে ৩ শত পেয়ারার চারা এনে গত বছর কাজী পেয়ারার চাষ করলেও এ বছর পেয়ারা ধরতে শুরু করেছে। গত একমাস আগে ফটিকছড়িতে দুইবারের বন্যায়(ফসল) পেয়ারা নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেয়ারা চাষী আবুল মনসুর। গত এক বছর তিনি নিজেও এলাকার কিছু শ্রমিক দিয়ে পরিশ্রমের পরে এবছর তার গাছে পেয়ারা ফসল দেখে মনটা ভরে উঠলো জানিয়েছেন। আবুল মনসুর জানিয়েছেন,তিনি তার বাড়ী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিদ্যুৎ নিয়ে পানির পাম্পের সাহায্যে তিনি গাছের গোড়ায় পানি দিয়েছেন পরিচর্যা করেছেন সব সময় এবং পানির পাইপ লাইন টেনেছেন মাটির ভিতর দিয়ে। তিনি আরো বলেন ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস যখন আমি পেয়ারা তুলতে যাব এর আগে বন্যার আমার ফসল অনেক নষ্ট হয়ে যায়। এর পরও আমি ভেঙ্গে পড়েনি তারপরও পরিশ্রম করে যাচ্ছি প্রতিদিনই এ পেয়ারা বাগান থেকে ৮০ থেকে ১০ কেজি পেয়ারা তুলে স্থানীয় বাজার ফটিকছড়ি বিবিরহাট ও নাজিরহাট বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করি। প্রথম প্রথম আমি নিজেও বিক্রি করি। প্রতি কেজি ১০০ টাকা বিক্রি করেছি এবং পরবর্তীতে ৬০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি করতে পেরেছি এখন শেষ পর্যায়ে এসে থেকে ৩০ টাকা করে বিক্রি করছি। আমি মনে করছি আরও তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত বিক্রি করতে পারব। গত এক বছরে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে পেয়ারা বিক্রি করে প্রায় লাখ টাকা উঠে এসেছে। এ বছর ফসল (পেয়ারা) বিক্রি করতে শুরু করছি। আমি আশাবাদী এই ফসল বিক্রি করে আমি লাভবান হতে পারব। উপজেলা কৃষি অফিসার লিটন দেব নাথ বলেন, আবুল মনসুর আমাদের অফিসে আসলে, তাকে পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সহযোগীতা করি। সেও পরিশ্রমী ছিল তাই তার বাগানে ভাল ফলন হচ্ছে। আশা করছি সে খুব শীঘ্রই পেয়ারা চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ