ঢাকা, বুধবার 29 August 2018, ১৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হরিপুরে ফুলকপি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা

হরিপুর : ফুলকপি ক্ষেত

জে.ইতি হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) থেকে : ক’বছর আগেও কপি ক্ষেতে অঝোরে কেঁদেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কপি চাষীরা।
১ টাকা কেজি দরে কপি বিক্রি করে ক্ষেত থেকে কপি তোলারই খরচ ঘরে ওঠেনি। ওই বছর চাষে বিনিযোগ করা টাকা ফেরত না পেয়ে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন চাষীরা।
কিন্ত বর্তমানে কপি চাষ করে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে কপি চাষীরা। তাই এবার আগাম লাগানো ফুলকপি‘র যতœআত্মীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা।
হরিপুর উপজেলায় আগাম ফুলকপি-পাতাকপি চাষীদের মুখে এবার সুখের হাসি ফুটবে বলে অনেকে মনে করেছেন। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির এক অনাবিল সুখে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
এবার ভাল ফলন ও লাভের আশা করছেন তারা। ফুলকপি চাষে বিঘা প্রতি অনুমান খরচ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ভাল বাজার দর পেলে ক্ষেত থেকে পাইকারি দরে বিঘায় এক লক্ষ টাকার কপি বিক্রি’র আশা চাষীদের।
উপজেলার বিভিন্ন উঁচু মাঠে এবার ব্যাপকভাবে চোখে পড়েছে আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপি চাষের চিত্র। বাম্পার ফলনের সঙ্গে আশা কাঙ্খিত দরের।
এ ধারা অব্যাহত রাখা গেলে এ অঞ্চলে কৃষিতে ক্ষতি পুষিয়ে বড় ধরণের পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন চাষীসহ শিক্ষিত সমাজ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩২০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি-পাতাকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
এদিকে কৃষকদের কপি ভাল ফলন পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাই আগের বছরগুলোতে লোকসান পুষিয়ে এবারও লাভের মুখ দেখতে আশাবাদী চাষীরা।
সরেজমিনে উপজেলার টেংরিয়া এলাকার কাইয়ুম জানান, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছিলাম, প্রতি বিঘায় ৭০-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।
এবার ৪-৫ বিঘা কপি চাষ করা জন্য জমি নির্ধারণ করেছি।
একই এলাকার দবির নিজ বাড়ির অনতিদুরে তিন বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করছেন। তিনি জানালেন- প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া ভাল থাকলে ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ থাকবে।
সদর উপজেলার আলী জানান, কৃষি বিভাগ যথেষ্ট দেখভাল করছে। তাদের পরামর্শে সময় মতো সার, ঔষুধ, সেচ দিয়ে কপি তৈরী করা হচ্ছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে ৮০ থেকে এক লক্ষ টাকায় কপি বিক্রি হবে। দুর্যোগ হলে আসল টাকা ঘুরে আসে না।
হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নঈমুল হুদা সরকার জানান, বিশেষ করে আগাম ফুলকপি চাষ নিয়ে কৃষকদের এখন কিভাবে সময় চলে যাচ্ছে তা বুঝতে পারছেন কৃষকরা। কারণ গত বছর তারা ১ বিঘা ফুলকপি চাষ করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পেয়েছে। লাভের আশায় কৃষক কিন্ত এই আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপি চাসে আগ্রহী।
তিনি আরো বলেন, আমরা মাঠ পর্ষায়ে চাষীদের কপির ভাল ফলনের জন্য চাষীদের  পরামর্শ দিয়ে আসছি। বিশেষ করে কোন ধরনের পরিচর্যা নিতে হবে।
কখন সেচ, সার, ঔষুধ প্রয়োগ করতে হবে। সার্বক্ষনিভাবে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ পেয়ে কৃষকও দারুণ খুশি। আগাম জাতের কারণে কিছু পার্থক্য আছে, সেই সব বিষয়গুলি আমরা কৃষকদের অবহিত করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ