ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরের চরকায় সূতা কেটে স্বাবলম্বী গ্রামীণ নারীরা

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : চরকায় সূতা কাটছে জহুরা বেগম

এম,এ,জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত শাহজাদপুর উপজেলার আর্থিকভাবে অসচ্ছল গ্রামীণ নারীরা চরকায় সুতা কাটার কাজ করে হয়ে উঠছেন স্বাবলম্বী। উপজেলার শতাধিক গ্রামের বিভিন্ন বয়সী প্রায় দশ হাজার নারী এখন এ কাজ করছেন। এতে প্রতি মাসে তাদের আয় হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। জানা যায়, কিছুদিন আগেও উপজেলার নারীদের গৃহস্থালি কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ ছিল না। তবে তারা গৃহকর্মের বাইরে এখন চরকায় সুতা কাটার কাজ করছেন। এর মধ্য দিয়ে ঘরের কাজের ফাঁকে বাড়তি আয় করছেন তারা। 

উপজেলার গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন চরকা রয়েছে। নারীরা ঘরের কাজ শেষ করেই চরকা নিয়ে বসে পড়েন। এ কাজের জন্য বাড়ির বাইরে যেতে হয় না বলে দ্রুত এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। উপজেলার খুকনী, শিবপুর, সোনাতলা, কামালপুর, রূপসী, জামিরতা, কৈজুরী, নরিনা, গাড়াদহ, পাড়কোলা, ডায়া, পুঠিয়া, পোরজনা, জগণলা, হামলাকোলা, নগরডালা, রতনকান্দী, ফরিদপাঙ্গাসী, পাথালিয়াপাড়া, গোপালপুর, এবং পৌর এলঅকার, তালতলা, শক্তিপুর, রুপপুর, দাবাড়িয়াপাড়া, রামবাড়ী, খঞ্জনদিয়ারসহ প্রায় শতাধিক গ্রামের নারীরা এখন এ পেশার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছেন।সরেজমিন গ্রামগুলোয় গিয়ে দেখা যায়, কেউ হাতে চালিত চরকা, আবার কেউ বিদ্যুৎচালিত চরকায় সুতা ছাড়াচ্ছেন। চরকার সুতা ছাড়িয়ে গোছানো হচ্ছে ববিনে। এসব ববিন বান্ডেলে রূপান্তরিত করে তাঁত কারখানায় সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন তাঁত কারখানার প্রতিনিধিরা এসব বান্ডেল সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। তাঁত কারখানার মালিকরাই কেউ প্রতি মাসে আবার কেউ প্রতি সপ্তাহে এসব নারী শ্রমিককে পারিশ্রমিক প্রদান করে থাকে। ডায়া নতুনপাড়া গ্রামের জহুরা বেগম জানান, ‘চরকা থেকে সুতা ছাড়িয়ে ববিনে তোলা হয়। এ রকম ১০০টি ববিনে এক বান্ডেল হয়। এক বান্ডেল সুতা গোছানোর তারা ৫০ টাকা মজুরি পান। এভাবে প্রতিদিন একজন নারী চার থেকে পাঁচটি বান্ডেল তৈরি করতে পারেন। এতে করে তারা প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।’ পুঠিয়া নতুনপাড়া গ্রামের আমেনা বেগম জানান, ‘তার স্বামী দিনমজুরের কাজ করেন। ঘরের কাজের পরে চরকায় সুতা কেটে প্রতি মাসে তিনি ৫ হাজার টাকা আয় করছেন। ফলে এখন আর শুধু তার স্বামীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হচ্ছে না।’ 

এছাড়া বেলি খাতুন নামে আরো একজন জানান, ‘তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে চরকায় সুতা কাটার কাজ করছেন। এর মধ্য দিয়ে এখন তিনি নিজেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। উপজেলার ডায়া গ্রামের তাঁত কারখানার মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘তার বাড়িতে বিদ্যুচালিত চরকায় দৈনিক ১২ জন নারী সুতা কাটেন। প্রতি সপ্তাহে তারা প্রত্যেকে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা করে নেন। তবুও কাজ শেষ হয় না। এ কারণে গ্রামের নারীদেরকেও এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে। এজন্য তাদের উপযুক্ত পারিশ্রমিকও দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ