ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অর্থবছরের দুই মাস শেষ হলেও ঘোষণা হয়নি কেসিসি’র বাজেট

খুলনা অফিস : চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস শেষ। কিন্তু এখনো ঘোষণা করা হয়নি খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নতুন অর্থবছরের বাজেট। নিয়ম অনুযায়ী জুন-জুলাই মাসের মধ্যেই এই বাজেট সাধারণ সভায় পাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হয়। যাতে করে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অর্থবছর শুরু করতে পারে সংস্থাগুলো। কিন্তু প্রায় দুই মাস শেষ হতে চললেও কবে নাগাদ বাজেট ঘোষণা হবে-সেই সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারেনি কেসিসি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন একাধিক প্রকল্প বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রথম দফায় সময়ক্ষেপণ করা হয়, বাজেট পুরোপুরি তৈরির পর হঠাৎ মারা যান কেসিসির বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার। এরপর বেশ কিছুদিন ওই পদে কেউ ছিলেন না। এরপর শোকাবহ আগস্ট, কুরবানীর হাট, ঈদ মিলিয়ে বাজেট তৈরির কাজ থমকে যায়। তবে ঈদের ছুটি শেষে থেকে এই কাজ আবারও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাজেট শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি)। বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৬৩৭ কোটি টাকা। তবে ঘোষণার আগে টাকার অংক কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটে রাজস্ব তহবিল থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সরকারের থোক বরাদ্দ ও প্রকল্পে বরাদ্দ থেকে ২৭১ কোটি টাকা এবং বিদেশী দাতা সংস্থার কাছ থেকে ১৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়েছে।

সূত্রটি জানায়, চলতি বাজেটে নিজস্ব আয়ের বাইরে সরকারের কাছ থেকে ৪৬ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ এবং ২৫ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থ বছরে এই দুই খাত থেকে পাওয়া গেছে ২০ কোটি। এর আগের বছর পাওয়া গিয়েছিল মাত্র ১২ কোটি টাকা।

বর্তমানে কেসিসিতে সরকারি অনুমোদিত কোনো প্রকল্প নেই। গত মাসে জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ৮৪৩ কোটি এবং সড়ক মেরামত ও উন্নয়নে ৬০৮ কোটি টাকার দু’টি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ দু’টি প্রকল্প থেকে ২০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে-এমন ধরে নিয়েই বাজেট তৈরি করা হয়েছে।

বাজেটে বিদেশি দাতা সংস্থা থেকে অনুমোদিত ১২টি প্রকল্প থেকে ১৮৩ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিদায়ী অর্থবছরে এই খাত থেকে ৫৫ কোটি এবং এর আগের বছর ৪৮ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

এর মধ্যে ন্যাশনাল আরবান প্রোভার্টি রিডাকশন প্রোগ্রাম থেকে ৮ কোটি, বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড প্রকল্প থেকে ১১১ কোটি, নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প পার্ট-২ থেকে ৩০ কোটি, নিরাপদ পথ খাবার কর্মসূচি থেকে ৮ লাখ, আরবান পাবলিক এন্ড এনভারমেন্টাল হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প থেকে ১০ কোটি, সিটি ওয়ার্ড ইনক্লুসিভ স্যানিটেশন এনভারমেন্ট ইন খুলনা প্রকল্প থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, আরবান ম্যানেজমেন্ট অব মাইগ্রেশন ডিউ টু ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ ইন খুলনা সিটি করপোরেশন থেকে ৫০ লাখ টাকা, সোলার স্ট্রিট লাইট প্রকল্প থেকে দুই কোটি এবং খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল নির্মাণ প্রকল্প থেকে ৩ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

এছাড়া এনগেজিং মাল্টি সেক্টরাল পাটনার্স ফর ক্রিয়েটিং অপারচুনিটিজ ইমপ্রুভিং নামের একটি প্রকল্প থেকে ১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং লোকাল গভর্নেন্স ফর চিলড্রেন নামের একটি প্রকল্প থেকে ৭১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

কেসিসির বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. রেজাউল করিম জানান, নানা কারণে বাজেট ঘোষণায় দেরি হয়েছে। বাজেট তৈরি প্রায় শেষ। এ বছর বাজেটের আকার ৬৩৫ থেকে ৬৪০ কোটির মধ্যে থাকবে।

কেসিসি অর্থ ও সংস্থাপন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর শেখ মো, গাউসুল আজম বলেন, বাজেট কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে এখনো বলা যাচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ