ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুরাদনগরে প্রবাসী আবুল কালাম হত্যা মামলা ॥ পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

মো. আবু ইউসুফ, মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের গাইটুলী গ্রামের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সউদী প্রবাসী আবুল কালাম (৩৫) হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে কুমিল্লার ৮নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফরহাদ রায়হান ভুইয়া। পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ঈদের দিন বুধবার বিকেলে আবুল কালামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সর্বমহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়াসহ তোলপাড় চলছে।
মামলার অভিযোগ ও সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, গাইটুলী গ্রামের কৃষক ছাত্তার মিয়ার ছেলে আবুল কালাম জীবীকা নির্বাহের জন্য দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর সউদী আরবে ছিলেন। প্রবাসের অবস্থা ভাল না থাকায় প্রায় এক বছর পূর্বে সে দেশে চলে আসে। ইতিমধ্যে আবুল কালাম আবারো সউদী আরবে যাওয়ার প্রস্তুুতি নিচ্ছিল। কিন্তুু ঘাতকরা তাকে আর বিদেশে যেতে দেয়নি। বিদেশে থাকাবস্থায় আবুল কালামের সাথে একই গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশীদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে নগদ টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় প্রবাসী আবুল কালামের সাথে মামুনুর রশীদের দন্দ্ব চলে আসছিল। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জানাযানি হলে কতেক লোকজন মামুনুর রশীদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে টাকা দেম দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকে। পাওনা টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঈদুল আজহার দিন বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটায় প্রবাসী আবুল কালামকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নেয় মামুনুর রশীদ। পরে টাকা আত্বসাতের উদ্যেশ্যে প্রবাসী আবুল কালামকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেয়।
সে মতে নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের রামধনীমুড়া কবরস্থানের নিকট নিয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন লোক দিয়ে প্রবাসী আবুল কালামকে মারধর করে গুরতর আহত করা হয়। পরে প্রকৃত হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য গুরতর আহত আবুল কালামকে পরিকল্পিত ভাবে একটি গাড়ীর নীচে ফেলে দেয়। পরে মামুন নিজে হাসপাতালে না গিয়ে একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিকসা দিয়ে আবুল কালামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম মানিক তাকে মৃত ঘোষণা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে মামুন নিজেই ঘটনাস্থলের পাশে মাটিতে পড়ে আহত হওয়ার ভ্যান করে। পরে তাকে হাসপাতালে আনলে তাকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে মুরাদনগর থানার একদল পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহালপূর্বক লাশ থানায় নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার কুমেক হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের পর নিজ গ্রামে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ঘটনার পর থেকে প্রবাসী আবুল কালামের স্বজনরা বিষয়টি পরিকল্পিত হত্যা বললেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এরই মধ্যে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মামুনুর রশীদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনলে তার কথায় গড়মিল ছিল বলে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাহিদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান। কিন্তুু ঘটনার তিনদিন পরই হত্যাকান্ডের অভিযুক্ত আসামী মামুন এলাকায় ঘুরে বেড়ালেই তোলপাড় শুরু হয়। প্রকৃত ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ঘটনার দু’দিন পর গত ২৪ আগস্ট শুক্রবার বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে গুরতর জখম ও মৃত্যু ঘটনানোর অপরাধে অজ্ঞাতনামা গাড়ী চালকদের বিরুদ্ধে নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তারকে বাদী বানিয়ে পুলিশ একটি দায়সারা মামলা রুজু করায়।
এ দিকে পুত্র হত্যার ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় ছাত্তার মিয়া বাদী হয়ে মামুনুর রশীদসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার ৮নং আমলী আদালতে সোমবার একটি হত্যা মামলার অভিযোগ করে। আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফরহাদ রায়হান ভুইয়া অভিযোগটি আমলে নিয়ে মুরাদনগর থানাকে এফআইআর হিসেবে গন্য করে পিবিআই কুমিল্লাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অপর দিকে নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৮) জানান, পুলিশ মামলার কথা বলে আমার কাছ থেকে কম্পিউটার টাইপ করা একটি কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পরদিন দেখি আসামী মামুন বাড়িতে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য মামুন পরিকল্পিত ভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, আমার আল-আমিন নামে তিন বছরের ও ইয়াছিন মিয়া নামে ২০ দিনের দু’টি ছেলে সন্তান রয়েছে। এখন আমি কোথায় যাব, কি করব, কার কাছে গেলে স্বামী হত্যার বিচার পাব কিছুই মাথায় ধরছে না। আমি কোন টাকা পয়সা চাই না, স্বামী হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
প্রবাসী আবুল কালামের বৃদ্ধ মা তজুবা খাতুন ও বাবা ছাত্তার মিয়া পুত্রের শোকে কাতর হয়ে বার বার মুর্চা যাচ্ছে। সাংবাদিকদের দেখে তারা শুধু বুক চাপড়াচ্ছেন। আমরা আমাদের সোনার মানিক আবুল কালামের খুনীদের ফাঁসি চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ