ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুসীগঞ্জে কবিরাজী ব্যবসার পার্টনার না করায় হত্যা করলো চাচাত ভাইকে

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আজিপুরায় পাওনা টাকার জন্য আপন চাচাতো ভাইয়ের হাতে হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ আগস্ট) রাত ২.২৫ মিনিটে মোহা: তাজেল শেখ (৫২) তার আপন চাচাত ভাই চুড়াইন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক মৃত গফুর শেখের ছেলে আওলাদ শেখ (৫০) কে হত্যা করে।
জানা যায়, পিতা মৃত হাকিম আলী শেখ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাজেল শেখের বাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে মাথার পিছনের সাইডে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। লাশ টেনে হেচড়ে বাড়ির পূর্ব সাইডের ডোবার মধ্যে ফেলে দেয়।
আওলাদের মা জায়েদা বেগম (৮০) জানান, আমার ছেলে সৌদি প্রবাসী থাকাকালীন সময় তাজেল শেখের কাছে ৬০হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। সেই টাকাটাও সে দেয়নি।
নিহত আওলাদ শেখের স্ত্রী সাহিদা বেগম জানান, আমার স্বামীর আজিমপুরা সড়কের পাশেই ওষুধের দোকান দিয়েছে। সেই দোকানে পার্টনার হিসেবে তাজেল শেখ ব্যবসা করার জন্য আমার স্বামীকে চাপ দিতে থাকে। আমার স্বামী তাকে নিয়ে ব্যবসা করবে না বলে তাকে জানিয়ে দেয়। ব্যবসায়ী পার্টনার না করার জন্যই আমার স্বামীকে খুন করেছে তাজেল শেখ।
স্ত্রী সাহিদা বেগম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সোমবার রাত সোয়া ১০টার সময় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় তাজেল শেখ। সোয়া ১১টার সময় ঘরে ফিরে না আসলে খুঁজতে বের হন তিনি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। তার সেল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাজেল শেখের ঘরের সামনে আমার স্বামীর জুতা দেখতে পাই। জুতার ভিতরে রক্তমাখা ছিল। পরবর্তীতে তাজেলের ঘরে ঢুকে দেখি তিন চারটি বালিশ নিচে পড়ে আছে আর ঘরটির ভিতরে রক্তের ছিটা পড়ে রয়েছে। পরবর্তীতে আমার শাশুড়ী ও এলাকার লোকজন এসে তাজেলকে আওলাদের লাশ ডোবায় ফেলে উঠে আসতে দেখে। তাজেল এলাকাবাসী ধরে ফেলে এবং পুলিশ খবর দেয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাতিমারা ফাঁড়িতে রাখা হয়। হত্যাকারী তাজেল শেখকে পুলিশ গ্রেফতার করে হাতিমারা ফাঁিড়তে নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে হাতিমারা ফাঁড়ির তদন্ত অফিসার জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আসামী তাজেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লাশের প্রাথমিক সুরত হাল ও মামলার কার্য শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে কবিরাজি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হত্যা সংঘঠিত হয়েছে বলে ধারনা করছে।
ছেলে ও মেয়ের আত্মহত্যা
মুন্সীগঞ্জে ২টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম দেওভোগের মুজিবুর রহমানের ছেলে নাহিদ (২৮) আত্মহত্যা করেছে। নাহিদ দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিল। সে (২৮ আগস্ট) সোমবার আত্মহতা করে।
অপরদিকে একই দিনে হাতিমারা এলাকায় ১৩ বছরের একজন স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। মেয়েটির নাম চাঁদনী আক্তার (১৩)। বাবা স্বপন সরদার একজন অটো ড্রাইভার। তার স্থায়ী বাড়ি বরিাশাল জেলার মুলাদী থানার নাজিরপুর এলাকায়। সে নগর কসবা মিরকাদিম পৌরসভার আব্দুল আউয়ালের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় দুইটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ