ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোট চুরি করতেই সরকার ইভিএম পদ্ধতিতে ১০০ আসনে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে -ড. মোশাররফ

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকার এখন সম্পূর্ণভাবে জনবিচ্ছিন্ন। তাই ভোট চুরি করার জন্যই ইভিএম পদ্ধতিতে ১০০ আসনে ভোটগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি বলেন,ওয়ান ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগ ভোট কারচুপি করার জন্য আরপিও সংশোধন করেছিল। এখন আবার একই লক্ষ্যে আরপিও সংশোধনের চেষ্টা করছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত ‘তড়িঘড়ি করে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ এবং বিতর্কিত ইভিএম পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে নাগরিক শঙ্কা’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিশ্বের যেসব দেশে এ পর্যন্ত ইভিএম ব্যবহার হয়েছে সেখানকার সবাই তা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অনেকে বাদও দিয়েছে। এর বড় উদাহরণ প্রতিবেশি দেশ ভারত। পত্রিকায় দেখলাম কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ভারতে আর ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। সেখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। এছাড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে ইভিএমের সুইচে চাপ দিলে শুধু নৌকা প্রতীকই আসে। অর্থাৎ তারা ১০০ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মত নির্বাচনে জেতার আশায় ইভিএম ব্যবহার করবে।
নির্বাচন কমিশনকে অক্ষম উল্লেখ করে সাবেক এই স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, গত ১৫ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সচিব ঘোষণা দিয়েছিলেন আরপিও সংশোধন হবে না এবং ইভিএমে নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে না। এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বারবার বলেছেন আরপিও সংশোধন করা হবে না। কিন্তু ১০০ টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা হয়েছে। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) আরপিও সংশোধনের একটি সভা বসবে। তাহলে তাদের তো অক্ষমই বলতে হবে। এই সরকারের অধীনে যেমন নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব না তেমনি এই নির্বাচন কমিশনকেও সংশোধন করতে হবে।
ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আজ আওয়ামী লীগ কিছু বিভিন্ন কৌশল করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কৌশল করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে। তারা সবাই ভেবেছিল এতে বিএনপি নড়বড়ে হয়ে যাবে। কিন্তু জনগণ রাস্তায় নামলে তাদের তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। কোটা ও কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে তারা বুঝতে পেরেছে। বিএনপি তো জনগণের দল।
বিএনপি নেতা বলেন, এই সরকার আবারও গায়ের জোরে নির্বাচন করতে চায়। কারণ, তারা বুঝতে পেরেছে যে, জনগণকে যদি সুযোগ দেওয়া হয় তাদের ভোট দিতে তাহলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। এটা সরকারের গোয়েন্দারা তথ্য দিচ্ছে, এজন্য তারা একটার পর একটা কৌশল অবলম্বন করছে টিকে থাকার জন্য।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, সরকার ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্র করে জেলে পুরে দিতে পারলে বিএনপি ভেঙে যাবে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বিএনপি চায়, একটা অবাধ সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কিন্তু গত পাঁচ সিটি নির্বাচন দিয়ে সরকার মানুষের আস্থা হারিয়েছে। নির্বাচনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে এগুলো অত্যন্ত জরুরী। এ দেশের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরেরা পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী সরকারের প্রতি আস্থা স্থাপন করতে পারে না, তাহলে আমরা কীভাবে তাদের বিশ্বাস করতে পারি ?
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সেই বাধাকে উপেক্ষা করে জাতীয় ঐক্যের যে সুর্যোদয়ের আভাস গণমাধ্যমে দেখলাম তাতে আমরা আশাবাদী। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সব দেশপ্রেমিক মানুষের জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি হবে। সেখানে এক ছাতার নিজে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবে। আওয়ামী লীগ যত ষড়যন্ত্রই করুক জনগণ যখন রাস্তায় নামবে তখন কোন ষড়যন্ত্র টিকবে না।
দেশকে বর্তমান সরকারের হাত থেকে রক্ষা করতে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ প্রস্তুত দাবি করে ড. মোশাররফ আরও বলেন, আমি আশা করি, জাতীয় ঐক্যের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এটা আরো সম্প্রসারিত হবে। এ দেশের গণতান্ত্রিক শ্রেণি পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশ রক্ষা করবো। আমরা মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষ ভাবতো আওয়ামী লগি যা খুশি তাই করতে পারে। কিন্তু দেশে যা খুশি তাই করা যায় না। জনগণ তা সহ্য করবে না। তারা পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন খেয়ে ফেলেছেন। কিন্তু একটিতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন। আমি দেখেছি নৌকার ব্যাচ লাগানো নেতারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। কারণ কোনও স্তরের মানুষই এখন আর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
আওয়ামী লীগের এই সাবেক নেতা বলেন, কোটি কোটি টাকা গিলে খাওয়ার বিচার হচ্ছে না। আর আড়াই কোটি টাকার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জেল খাটতে হচ্ছে।
স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুউল্লাহ'র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আব্দুল মানিক রতন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ছাত্র দলের আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারি প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ