ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব পৌনে ১৮ লাখ আমানত দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে গ্রাহক সংখ্যা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যাংক হিসাব পৌনে ১৮ লাখ ছাড়িয়েছে। আর এসব ব্যাংক হিসাবে আমানত দুই হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সব সূচকে শররের তুলনায় গ্রাম এগিয়ে।
এজেন্ট ব্যাংকিং সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ জন ব্যাংক হিসাব খুলেছেন গ্রাহকরা। এর মধ্যে গ্রামের হিসাব খোলার সংখ্যা ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৭টি। এবং শহরে মানুষ খুলেছেন দুই লাখ ৩৭ হাজার ২৩টি। শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ ব্যাংক হিসাবও বেশি খুলছেন। শহরের তুলনায় গ্রামে সাড়ে ছয় গুণ বেশি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জন্য ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৪ জন পুরুষ ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। ব্যাংক হিসাব খোলা নারী রয়েছেন ছয় লাখ ৯ হাজার ৮২৪ জন। সে হিসাবে নারী হিসাবধারীর চেয়ে পুরুষ হিসাবধারীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক ছিল আট লাখ ৭২ হাজার ৮৬৫ জন। এই হিসাবে গত একবছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নতুন গ্রাহক হয়েছেন ৯ লাখ চার হাজার ৫৩৫ জন। আর গত তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নতুন গ্রাহক হয়েছেন  তিন লাখ আট হাজার ৬০৩ জন। মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক ছিলেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৭ জন। ছয় মাসের ব্যবধানে নতুন গ্রাহক হয়েছেন পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩ জন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক ছিলেন ১২ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৭ জন।
এদিকে ২০১৮ সালের ৩০ জুনের পর এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে মোট জমার পরিমাণ (আমানত) দাঁড়ায় দুই হাজার ১২ কোটি টাকায়। তিন মাস আগে অর্থাৎ মার্চের শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে মোট জমার পরিমাণ (আমানত) ছিল এক হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। এই হিসাবে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।
জানা গেছে, তিন হাজার ৫৮৮টি এজেন্টের আওতায় পাঁচ হাজার ৩৫১টি আউটলেটের মাধ্যমে সারাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়া, মধুমতি ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংক এশিয়ার দুই হাজার ২৪২টি আউটলেটের মধ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সংখ্যা এক হাজার ৮২৮টি। তিন মাস আগে অর্থাৎ মার্চে তিন হাজার ২১৬ এজেন্টের আওতায় আউটলেট ছিল চার হাজার ৯০৫টি।
জানা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক তার চলতি হিসাবে সর্বোচ্চ চারবার ২৪ লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ দুটি লেনদেনে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারেন। সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ দুবার আট লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা করে দুটি লেনদেনে ছয় লাখ টাকা তুলতে পারেন। তবে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে উত্তোলনসীমা প্রযোজ্য হয় না। দিনে দুবার জমা ও উত্তোলন করা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণও হচ্ছে। বেসরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ১৩৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে শহর অঞ্চলে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ব্যাংক মাঠপর্যায়ে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকগুলো হলো এনআরবি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা মোট হিসাব সংখ্যার ৫৩ শতাংশের বেশি হিসাব খুলেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্যাংক এশিয়া লি. ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারির পর ২০১৪ সালে প্রথম এ সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ