ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কয়লা চুরি হয়নি সিস্টেম লস

স্টাফ রিপোর্টার : বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উধাওয়ের ঘটনাটি চুরি নয় বলে দাবি করেছেন কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহম্মদ। গতকাল বুধবার ঢাকায় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কয়লা গায়েবের ঘটনাটি ‘সিস্টেম লস’, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
কয়লা না পাওয়ায় গত জুলাই মাসে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়লা উধাও হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শোরগোল তৈরি হয়। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা দিয়েই পাশের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চলত। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দাবি করেছেন, অনেক দিন ধরেই কয়লা নিয়ে দুর্নীতি চলছিল।
কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই খনির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনকে আসামি করে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান। প্রাথমিক তদন্তে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলার ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার ৩২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে।গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সোয়া ৩টা পর্যন্ত প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিনসহ আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক সামছুল আলম।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মামলার আসামী  সাবেক এমডি হাবিব বলেন, “আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি, কয়লা চুরি বা দুর্নীতি হয়নি।“যেটুকু কয়লা গায়েব হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেটুকু প্রকৃত অর্থে সিস্টেম লস। আমাদের এখানে যেটুকু কয়লা উবে গেছে, তার পরিমাণ ১ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি হবে না, অথচ আন্তর্জাতিকভাবে ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য।”তদন্তেই ‘প্রকৃত সত্য’ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন হাবিব; দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর জুলাই মাসে তাকে বড়পুকুরিয়া থেকে সরিয়ে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের দপ্তরে আনা হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
তৎকালীন এমডি হাবিব, কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নূর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) এ কে এম খালেদুল ইসলামসহ খনির ব্যবস্থাপনায় জড়িত অন্যরা কয়লা চুরির ঘটনায় জড়িত বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর নূর-উজ-জামান ও খালেদকে সাময়িক বরখাস্ত করে পেট্রোবাংলা। হাবিবকে ঢাকায় সরিয়ে আনার পাশাপাশি কাশেম প্রধানিয়াকে সিরাজগঞ্জে বদলি করা হয়।গতকাল বুধবার দুদকে হাবিবের সঙ্গে আবুল কাসেম প্রধানিয়াও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। এছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মোশারফ হোসেন সরকার; ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার; ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার; ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান; ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম এবং উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হককে।
আগের দিন মঙ্গলবার নূর-উজ-জামান ও খালেদসহ মামলার আরও আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যরা হলেন- কোল মাইনিং কোম্পানির উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. মোরশেদুজ্জামান; উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. হাবিবুর রহমান; উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান; সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন; ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং) জোবায়ের আলী।
মামলার ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার ৩২ কর্মকর্তাকে তলব করে নোটিস দিয়েছে দুদক। তার মধ্যে ১৬ আসামিসহ ২৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার তিন আসামিসহ আরও নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আসামিরা হলেন- কোম্পানির উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান; সাবেক মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারি ও গোপাল চন্দ্র সাহা।
এছাড়া একই দিন ব্যবস্থাপক (হিসাব) সারোয়ার হোসেন; ব্যবস্থাপক (সেলস ও রেভিনিউ কালেকশন) মো. কামরুল হাসান; উপব্যবস্থাপক (মার্কেটিং ও কাস্টমার সার্ভিসেস) মোহাম্মদ নোমান প্রধানীয়া; সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এ কে এম সিরাজুল ইসলাম ও শরিফুল আলম এবং সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) আল আমিনকে জিজ্ঞাসবাদের জন্য তলব করা আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ