ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম করা ন আ’লীগের প্রধান কর্মসূচি -মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার: বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম করা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে বিরোধীদের গুম করে তুলে নেয়াই তাদের প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। বিরোধীদল শূন্য একটি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্যই বিরোধী দল ও মত দমাতে গুমকে ব্যবহার করা হয়েছে নির্বিচারে। আজ ৩০ আগষ্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি হারিয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদেরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। একইভাবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে গুমের আতঙ্ক এখন সর্বত্র পরিব্যক্ত। দুঃশাসন থেকে উৎপন্ন হয় গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যার মত মানবতা বিরোধী হিংস্রতা। স্বৈরাচারি সরকারের গড়েতোলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী দলের প্রতিবাদি নেতাকর্মীদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে অল্পদিন- দীর্ঘদিন অথবা চিরদিনের জন্যে নিখোঁজ করে দেয়। গুম হচ্ছে বর্বর শাসনের নমুনা। বাংলাদেশে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে গুমকে করে তুলে প্রধান রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিরোধীদল শূন্য একটি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্যই বিরোধী দল ও মত দমাতে গুমকে ব্যবহার করা হয়েছে নির্বিচারে।
বিএনপি মহাসচিব বলেণ, এই নৃশংস গুমের শিকার হয়েছেন সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরু ও চৌধুরী আলমের মত জনপ্রতিনিধিরা। সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিনকে গুম করে অন্য দেশে পাচার করা হয়েছে। এই নতুন ধরনের ঘটনা দেশবাসীকে অজানা আতঙ্কে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। গুম করা হয়েছে বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীদের। তাদের বেদনার্ত পরিবাররা এখনও পথ চেয়ে বসে আছে প্রিয়জনদের ফিরে আসার সম্ভাবনায়। সমাজে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ সৃষ্টির জন্যই গুমকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে নিষ্ঠুর শাসকগোষ্ঠী। গুমের অব্যহত পরিস্থিতিতে দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াঙ্কর জটিল রাজনৈতিক সঙ্কট। জনসমর্থনহীন সরকার টিকে থাকার অবলম্ভনই হচ্ছে গুম। এই ধারা বয়ে চললে বাংলাদেশ এক ঘন অন্ধকারে ডুবে যাবে। মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। ভয় ও আতঙ্ক রাষ্ট্র ও সমাজকে গ্রাস করে ফেলবে। আসুন আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ হই। কেবলমাত্র একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার গঠন হলেই গুম, অপহরন, খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যার আতঙ্ক মানুষের মন থেকে দূর হবে, জন-জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।
তিনি বলেণ, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অব্যাহতভাবে গুম করা হচ্ছে সংসদ সদস্য, জণপ্রতিনিধি, বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ মানবাধিকার কর্মী, লেখক, সাংবাদিক, সাধারণ ছাত্র-যুবক এমনকি গৃহবধূও। এদের মধ্যে কয়েকজনকে ফেরত দিলেও বাকীরা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। মানুষের এখন জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। এইসব গুমের সাথে অবৈধ সরকার জড়িত। বাংলাদেশে শত শত গুমের হোতা হচ্ছে সরকারী এজেন্সীগুলো। দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য জনগণের মিলিত কন্ঠে বর্তমান অপশাসনের অবসানের জন্য আওয়াজ তুলতে হবে। গুমের ন্যায় সমাজ বিরোধী-মানবতা বিরোধী-রাষ্ট্র বিরোধী এই অমানবিক দুষ্কর্মের অবসান ঘটবে কেবলমাত্র গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে পারলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ