ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নারীর সীমাহীন ভোগান্তি বাস ও পরিবহনে

আসাদুজ্জামান আসাদ : নর-নারী মিলে পরিবার। কয়েকটি পরিবার মিলে সমাজ। কর্ম ক্ষেত্রে রয়েছে নর নারীর সংমিশ্রণ। নারীরা সংসার, পরিবার, অফিস-আদালত, বাজার, স্কুল, কলেজ, বিশ^ বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাসহ সব জায়গায় অবস্থান। অনেক নারীর চলা চল করার জন্য নিজস্ব কোন গাড়ির ব্যবস্থা নেই। তাদেরকে বাস ও পরিবহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাস ও পরিবহনে নারীরা নিরাপদ নয়। প্রতি মুহুর্তে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। নিত্য দিনে, নিত্য নতুন ঘটনা ঘটছে। পত্র পত্রিকা, রেডিও এবং টেলিভিশনে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, রেপ, ইভটিজিং ইত্যাদি খবর শুনা যাচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠনের পরিসংখ্যানে তা স্পস্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু নারীরা নিরুপায়। তারা প্রয়োজনে বাড়ি ও বাসা থেকে বের হচ্ছে। ব্যবহার করে বাস ও পরিবহন। নারী বাস ও পরিবহনে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেটাই এখন ভাবার বিষয়?
আমাদের দেশে বাস ও পরিবহনে হেলপার, সুপার ভাইজার, চালক গাড়ি পরিচালনার কাজ করেন। গাড়িতে নারী পুরুষ উভয় উঠেন। প্রতিটি গাড়িতে নারীর জন্য নিদিষ্ট ৯টি সিট। অবশিষ্ট সব সিটে পুরুষ যাত্রীর জন্য নিধারিত। একটি বাসে শুধু মাত্র ৯ জন নারী উঠেন না। গাড়িতে উঠে অসংখ্য নারী। নিরুপায় হয়ে নারী যাত্রীরা নিজের প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে থেকে নিধারিত স্তানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যেক পুরুষ মানুষের বাসা বাড়িতে মা-বোন, ভাতিজা, ভাগ্নি রয়েছে। অথচ, আমরা যখন গাড়িতে উঠি,তখন মা-বোন ভাসতি ভাগ্নির কথা ভুলে যাই। তারপর, মেতে উঠি নানা রকম যৌন কর্ম,যৌন লীলা খেলায়। নারীরা বড়ই অসহায়। তারা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। গণ পরিবহনে ৯টি সিট তাদের জন্য নিধারিত। অথচ একটি বাসে আসন প্রায় ৬৫ থেকে ৭০টি। সেখানে নারী সিট মাত্র ৯টি। সরকার চাকুরী ক্ষেত্রে নারীর কোটা ৪০ ভাগ নির্ধারন করেছেন। সব ক্ষেত্রে নারীকে সমান অধিকার দিচ্ছেন। অথচ বাস ও গণ পরিবহনে নারীর সিট সংখ্যা মাত্র ৯টি। নারীরা সংসার ও নিজের নিত্য প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যান। নারীরা চাকুরী, ব্যবসা, বানিজ্য দোকান, ছাত্রীরা স্কুল, কলেজ, বিশ্বিবিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় পড়া লেখার প্রয়োজনে বাসা বাড়ি থেকে বের হোন। নারীরা যখন বাসে উঠতে যায়,তখন এক শ্রেণীর লোভী পুরুষ চিৎকার দিয়ে বলেন, গাড়িতে মহিলা সিট নেই। মহিলা তুলবেন না। কিন্তু সেই ভদ্র যাত্রীটি কখনো নিজের সিটটা নারী যাত্রীর জন্য ছেড়ে দাঁড়ান না। যখন মহিলা যাত্রীটি পুরুষের নোংড়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন,তখন অধিকাংশ পুরুষ যাত্রী মহিলা যাত্রীর বিপক্ষে কথা বলি। প্রতি দিন অফিস আদালত, স্কুল, কলেজ, বিশ্বিবিদ্যালয় যাবার সময় নারীরা বাসে উঠতে গিয়ে নানা রকম নির্যাতন ও অপমানিত হচ্ছেন। বাসে উঠার সময় শুরু হয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ছোট খাট যুদ্ধ নয়, যেন মহা যুদ্ধ। পুরুষরা স্বাভাবিক ভাবে গাড়িতে চলা ফিরা করেন। কিন্তু নারীরা শিকার হোন সীমাহীন ভোগান্তি আর দুর্ভোগের। কিছু কিছু বর্ণ চোর পুরুষ যাত্রী মনে করেন,বাসে চলাচলের সময় ইচ্ছা মত নারীদের শরীর স্পর্শ, নারীদের উপর ঢলে পড়া যায়। অপ্রয়োজনে তাদের গায়ে হাত লাগানো যায়। নারীরা প্রতিবাদ করলেই বলে,ইচ্ছাকৃত ভাবে হাত দেই নি। অসুবিধা হলে বাসে উঠেন কেন? পুরুস যাত্রীর কি নোংরা মানসিকতা?
বাস ও পরিবহনে নারী যাত্রীরা কিভাবে নির্যাতন থেকে রক্ষ পাবে? নারী যাত্রীদেরকে নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য নি¤েœর পদক্ষেপ গুলো নেয়া যেতে পারে। প্রতিটি গাড়িতে নর-নারীর আলাদা আলাদা আসন থাকবে, পুরুষ যাত্রী ৬০ভাগ, নারী ৪০ ভাগ, নারী- পুরুষ নিজ নিজ আসনে বসবে। আসন বন্টন আইন পাস ও বাস্তবায়ন করতে হবে, বাসষ্ট্যান্ড সড়ক, মহাসড়কে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে হবে, প্রতিটি গাড়ির গায়ে ভ্রাম্যমান আদালত ও পুলিশের মোবাইল নম্বর লিখে রাখা, অভিযোগের সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ট্রাফিক ও ট্রাফিক সার্জেন্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা, তবেই নারী যাত্রীরা পুরুষ যাত্রী দ্বারা যৌন, ধর্ষণ, ইভটিজিং সহ নানা রকম নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। বিভিন্ন পরি সংখ্যানে বাসে ও পরিবহনে প্রতিদিন নারীরা হাজার রকম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অথচ তারা কোন প্রকার অভিযোগ করতে পারছে না। আমাদের দেশে বাস ও পরিবহনে হেলপার,সুপার ভাইজার এবং চালক নিয়োগ করতে হয়। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন প্রকার নিয়ম কানুন বা নীতি মালা মান্য করা হয় না। মালিকরা নিজ নিজ ইচ্ছা মত সামান্য বেতনে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। গাড়িতে নিয়ম কানুন বা শৃংখলার বিষয়টি ফিরে আনতে হলে নিদিস্ট নিয়ম, কানুন ও যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবেই গাড়িতে যৌনচার,ইভটিজিং,নারী নির্যাতনসহ নানা রকম নির্যাতন থেকে নারী যাত্রীরা মুক্তি পাবেন।
আমাদের দেশ দরিদ্র দেশ। এ দেশের অথনৈতিক মেরু করণ শক্তিশালী ও পরিবর্তন আনার জন্য শিক্ষা ও কর্ম ক্ষেত্রে পুরুষের পাশা পাশি নারীদের পদচারনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা প্রতিদিন আয় বৃদ্ধির জন্য নানা রকম কর্ম ক্ষেত্রে ছুটছে। কিন্তু তাদের জন্য বাস ও পরিবহনে কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা বাড়ছে না। তারা প্রতি নিয়ত ধর্ষণ, ইভটিজিং, যৌন নির্যাতন সহ নানা প্রকার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারী যাত্রীরা নানামুখী নির্যাতন থেকে মুক্তিলাভ করুক এই কামনা করছি।
লেখক পরিচিতি : গ্রন্থকার ও সাংবাদিক

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ