ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এশিয়া কাপ ও বাংলাদেশ

মোহাম্মদ সুমন বাকী : সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রস্তুত আছে। যারা আয়োজন করবে ২০১৮ এশিয়া কাপের বৃহৎ আসর। তাদের কাছে নতুন কিছু নয় সেটা। অবশ্যই তা ক্রিকেটকে ঘিরে। যা সবার জানা আছে। এই ক্রীড়ার ইতিহাস অনেক। সেটা লিখে শেষ করা যাবে না। খেলা পাগল ভক্তরা কি বলেন? ক্রিকেটের ইতিহাসটা মূলত বেঁচে রয়েছে রেকর্ড গড়ার মাঝে। যেখানে সর্বাধিক উইকেট, হ্যাটট্রিক, সেঞ্চুরি এবং হাফ সেঞ্চুরি আলোকিত হয়ে উঠে। যা আলোচনার টেবিলে। এর পাশাপাশি তা স্থান পায় মিডিয়ায়। সে কথা বলাবাহুল্য। এই সব রেকর্ড দেখার জন্য বিশ্ব ভুবনে ব্যাট-বলের ক্রীড়া ক্রিকেট (গাংগুটি) জনপ্রিয়। যা নতুন করে না বললেও হয়। গত শতাব্দীর সত্তর, আশি দশকের কথা। সেই সময় আরব আমিরাত হয়ে উঠে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের দক্ষ আয়োজক। তা ক্রিকেটকে পুঁজি করে। সেটা ছিলো একের পর এক চমকের বাহার। বলা যায় সুপার ডুপার উপহার। দৃশ্যটা এমন- সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার মাটি ব্যাট-বল খেলার আসল ঘাঁটি। প্রতিযোগিতার স্তুপ ছিলো সেখানে। এশিয়া কাপ, শারজা কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, অস্ট্রেলেশিয়া (দুই মহাদেশ মিলিয়ে) কাপ অন্যতম। তখন এশিয়ার ক্রিকেটকে উত্তেজনার ঢেউয়ে নাচিয়ে ছাড়ে শারজা। অথচ নিজেদের দল নেই টুর্নামেন্টে! এরপরও একের পর এক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে তারা!! আরব আমিরাতের গায়ে দক্ষ আয়োজকের তকমা লাগিয়েছে! অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড অংশগ্রহণ করায় অস্ট্রেলিয়া কাপকে অভিহিত করা হতো মিনি বিশ্বকাপ! তা খুশির জোয়ারে মাতিয়ে রাখে বিশ্বের কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমীকে। প্লেয়ার না থাকায় আরব আমিরাত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ কী, এর রেশ বিন্দু পরিমান পায়নি। যা উল্লেখ করা খুবই প্রয়োজন। কারণ অনভিজ্ঞ বাংলাদেশ এশিয়া ও অস্ট্রেলেশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেয় শারজার মাটিতে। অথচ একই কারণে স্বাগতিক আরব আমিরাত বিরত থাকে। সেটাও আবার ধারাবাহিক ভাবে একের পর আকর্ষনীয় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে। স্বপ্নতো ভালো কথা, তা কল্পনা করা যায় না! এক্ষেত্রে উদারতার পরিচয় দিয়েছে আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরাত। যা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন সকলে। নব্বই দশকের মাঝ সময়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। এরপর আয়োজকের পাশাপাশি ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠের সৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাদের। সেটা বীরদর্পে। তা হঠাৎ আগমনের মাধ্যমে। অবশ্যই পিলে চমকানো সাফল্য দিয়ে। বাংলাদেশের আগে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে। বলা যায়, সুপার সাফল্য। সেটা কি পিলে চমকানো নয়? তবে এই ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল দয়াও দেখায়। যে কারণে নাগরিকত্ব নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের কয়েকজন খেলোয়াড় আরব আমিরাত টিমের হয়ে খেলে। অন্য দিক আলোচনায় বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে একের পর এক প্রতিযোগিতার সফল আয়োজনের পারফেক্ট পুরস্কার হিসেবে অভিহিত করা যায় এটাকে। মনে হয়, তা যেন সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে দিয়ে গেছেন মধ্য প্রাচ্যের খেলা পাগল কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা চাহিদার বাসনা পূরণ করতে। সে কথা কি কলমের কালিতে তুলে ধরতেই হবে? বলেন কি আপনারা? এমন অবস্থায় মাত্র এক বছর অপেক্ষা! এবার বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে যায়। যা তাক লাগানোর ন্যায়। তা সবার বোধগম্য। ১৯৯৭ সাল। লাল-সবুজ পতাকা দেশের ক্রিকেটের জন্য সৌভাগ্যের বছর। সেটা স্বচ্ছ পানির মতো ফুটে উঠে। যা মন ভরিয়ে দেয় ঘরে বাইরে থাকা সকল খেলা পাগল প্রেমীকে। তখন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাছাই পর্ব ট্রফি জিতে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেবার যোগ্যতা অর্জন করে আকরাম খানের বাংলাদেশ। সেটা ছিলো প্রথম। শুরুতে মহা চমক। তা কল্পনাও করেনি কেউ। লাল-সবুজ পতাকা দল ব্যাট-বলের আকর্ষনীয় যুদ্ধে দারুন ফর্মে থাকা শক্তিশালী পাকিস্তানকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দেয় বিশ্বকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে এভাবে পথ চলা শুরু হয় বাংলাদেশের। অবশ্যই সাফল্যের ছোঁয়া লাগিয়ে। যা সুখ স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। সেটা বার বার শান্তির পরশ বুলিয়েছে। তা সবার মাঝে। যাক সে কথা। ২০১৮ ওয়ানডে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের আসর বসবে সেপ্টেম্বর মাসে। এবার আরব আমিরাতের প্রিয় ভেন্যু শারজা বাদ! যা অবাক করা কান্ড!! এমন সিদ্ধান্তে কী আসে যায়!!! এর পরিবর্তে দু’টি নতুন ভেন্যুর সংযোজন ঘটেছে। নাম দুবাই এবং আবুধাবি। টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে দু’টি ভেন্যুর শহর বেষ্টিত এলাকায়। সেটা দেখা যাবে জমজমাট আকারে ও সুন্দর পরিবেশে। তা শারজার স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে। ১৯৮৪ সালে এশিয়া কাপের সূচনা হয় এখানে। যা ছিলো প্রথম আয়োজন। আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত, রানার্স আপ শ্রীলংকা, অপর টিম পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বাংলাদেশ অংশ নেয়নি। ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সবুজ ঘাসের ময়দানের স্পর্শ পায়। সেবার নিউ কামার হিসেবে বাংলাদেশ নাম লেখায়। সেটা ছিলো তাদের প্রথম অংশগ্রহণ। এরপর বিরত থাকেনি। প্রতিটি প্রতিযোগিতার আসরে খেলেছে তারা। ওয়ানডে ঘরনার এশিয়া কাপ ক্রিকেটের লড়াই ধাপে ধাপে জনপ্রিয়তা পায় সবার কাছে। এমন ধারায় এর প্রথম আয়োজক হয় বাংলাদেশ গত শতাব্দীর ১৯৮৮ সালে। দুই ভেন্যু ঢাকা এবং চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের মাঠে ম্যাচ গড়ায়। তা ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে। যা থেকে এই ক্রীড়াকে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখার সাহস অর্জন করে লাল-সবুজ পতাকা দল। শারজার বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এবং এশিয়া কাপের কল্যাণে ফাঁকে ফাঁকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। সেটা সংখ্যায় খুবই কম। অবস্থাটা এমন, নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। এ ধারায় ১৯৯৭ সালে দেশের ক্রিকেট ভুবন সোনালী আলোতে ভরে উঠলো। তা ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাবার মাধ্যমে। স্বপ্নের টেস্ট মর্যাদা! যা এসে ধরা দেয় পরের ধাপে। বাংলাদেশ এই পর্যন্ত এশিয়া কাপ আয়োজন করে চার বার (১৯৮৮, ২০০০, ২০১২, ২০১৪)। সেটা ইতিহাসের পাতায় রেকর্ড হয়ে আছে। সর্বাধিক আয়োজক ও স্বাগতিক দল হিসেবে। এবার নিয়ে আরব আমিরাতের ওয়ানডে এশিয়া কাপের লড়াই মাঠে গড়াবার সংখ্যা দাঁড়াবে তিন বার। বাংলাদেশ শিরোপা জিতেনি এখন পর্যন্ত। তবে রানার্সআপ হয়েছে। সেটা ২০১২ এশিয়া কাপে। তা দেশের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জন। যা বলাবাহুল্য। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লাল-সবুজ পতাকা টিম স্বর্ণ পদক জিতেছে। সেটাও কম নয়। ২০১৬ সালে প্রথম টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপ আয়োজন করে বাংলাদেশ। যেখানে ভারত চ্যাম্পিয়ন এবং স্বাগতিক দল রানার্সআপ হয়। তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এশিয়া কাপ ও বাংলাদেশ যেন একই সূত্রে গাঁথা। কি বলেন ক্রীড়া প্রেমীরা? যা সত্য কথা। বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখন ক্রিকেটে বাংলাদেশ শক্তিশালী টিম। তাই স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে! আসছে এশিয়া কাপের লড়াইয়ে তারা কি শিরোপা জয় করবে? সেটা সময়ই বলে দিবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ