ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভবিষ্যতে পদকের আশা আর্চারীতে

অরণ্য আলভী তন্ময় : পনের বছরেরও কম সময় আগে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছি আর্চারী ফেডারেশন। এই সময়ে মধ্যে অতি প্রাচীন এই খেলাটি জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আসরে সাফল্য আর্চারীকে অনেক উপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এবারের এশিয়ান গেমসেও অব্যহত ছিল উন্নতির সেই ধারা। যদিও কোন পদক জিততে পারেনি। তবে এমন কিছু করে দেখিয়েছে যাতে করে আগামী আসরে পদক জিততে পারবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগে একটি পদক নিশ্চিতই ছিল কাবাডিতে। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম শূন্য হাতে ফিরতে হলো এই ইভেন্ট থেকে। ছেলে বা মেয়েদের কোনো দল পৌঁছতে পারেনি পরের রাউন্ডে। শুটিংয়েও ফুটো আশার বেলুন। জাকার্তা আসার আগে কাবাডি ও শুটিংয়ের পাশাপাশি আর্চারী থেকেও পদকের স্বপ্ন দেখেছেন অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি আর্চাররাও। রোমান সানা, ইমদাদুল হক মিলনদের এই ইভেন্টও শেষ হয়েছে পদকহীন। শেষ ইভেন্ট দলগত কম্পাউন্ডে এলিমিনেশন রাউন্ডে আবুল কাশেম, জাবেদ হোসেন ও অসীম কুমার দাস ২২৮-২৩০ পয়েন্টে হেরেছেন ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে। আর্চারীর কোনো ইভেন্টেই সেমিফাইনাল বা ফাইনালে পৌঁছতে পারেননি কেউ। এরপরও ইভেন্টটিতে অমিত সম্ভাবনা দেখছেন আর্চারীর কর্মকর্তা, কোচ, এমনকি খেলোয়াড়রাও। বিশেষ করে রিকার্ভ ইভেন্টে। ব্যক্তিগত র‍্যাংকিং রাউন্ডে তৃতীয় হয়ে সবাইকে চমকে দেন রোমান সানা। তবে পৌঁছতে পারেননি কোয়ার্টার ফাইনালে, হেরে যান শেষ ষোলোতে। রিকার্ভ কম্পাউন্ড মিলিয়ে ১০ ইভেন্টে এটাই সেরা পারফরম্যান্স বাংলাদেশের। পদক জিততে না পারলেও রোমান সানা স্বপ্নই দেখালেন আর্চারী নিয়ে, ‘আমরা উন্নতির ধারা অব্যহত রেখেছি এটাই সবচেয়ে বড় কথা। এখনই বড় টুর্নামেন্টগুলোতে পদকের আশা করছেন না কোচ। আমরা ছোট থেকে যেভাবে শিখে এসেছি, তিনি সেই স্টাইলটা বদলে উন্নতির পথে এনেছেন আমাদের। তাঁর বিশ্বাস বাংলাদেশের আর্চাররা এখন আন্তর্জাতিক মানের। এভাবে টানা অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারলে দারুণ সম্ভাবনা আছে আমাদের।’ রিকার্ভের পুরুষ দ্বৈতেও কোয়ার্টার ফাইনাল কোয়ালিফায়িং রাউন্ডে শেষ হয় রোমান-ইব্রাহিমদের। এই ইভেন্টে সেরা সাফল্য মিশ্র দ্বৈত। কোয়ার্টার ফাইনালে থামেন রোমান-নাসরিন জুটি। তবে ভালো করতে পারেননি নারীরা। কম্পাউন্ডের দলগত ইভেন্টগুলোতে এলিমিনেশন রাউন্ড থেকে বাদ বাংলাদেশ। পুরুষ এককে ১৭তম অসীম কুমার আর নারী এককে ৩৪তম হয়েছেন রোকসানা আক্তার। সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, শুটিংয়ের মতো ডিসিপ্লিনে যেখানে শেষদিকে থাকেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা, সেখানে আর্চারিতে অন্তত প্রতিদ্বন্ধিতা করতে পারাটা প্রাপ্তির। এ জন্য আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন চপল সন্তুষ্ট। এখন তিনি স্বপ্ন দেখছেন সরাসরি অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়ার, ‘পদকের আক্ষেপ থাকলেও পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট আমরা। রোমানের সেরা তিন হওয়া, একটি ইভেন্টে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা কম কথা নয়। এখন আমাদের লক্ষ্য অলিম্পিকে সরাসরি সুযোগ পাওয়া। এশিয়ান গেমসে পদক পেলে সরাসরি অলিম্পিকের সুযোগ এসে যেত। সেটা হয়নি, এর পরও সামনে কয়েকটি টুর্নামেন্ট আছে। আমরা ভালো করার চেষ্টা করব সেখানে।’ জার্মান কোচ ফ্রেডেরিক মার্টিন আসার পর আরো আত্মবিশ্বাসী আর্চাররা। সবার দক্ষতা আর মানসিক দৃঢ়তা বাড়িয়েছেন তিনি। এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট নন তিনিও, ‘আমাদের আর্চাররা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। আমি পদকের আশা নিয়ে জাকার্তা আসিনি। ওরা কতটা পরিণত হয়েছে দেখতে চেয়েছিলাম। সব মিলিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। খুব ভালো সম্ভাবনা আছে খেলোয়াড়দের।’ এই আশাটুকু নিয়েই এখন দেশে ফিরবেন রোমান, মিলনরা। এদিকে রিকার্ভ পুরুষ এককে ৭৯ জন আরচারের মধ্যে কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়া ৬৮৩ স্কোরসহ ১ম স্থান ও ৬৭৯ স্কোর করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। ৩য় স্থান অর্জনকারী বাংলাদেশের মো: রোমান সানা ৬৭৭ স্কোর করেন। এছাড়া মো: ইব্রাহিম শেখ রেজোয়ান ৬৪৩ স্কোর করে ২৩তম স্থান, মো: ইমদাদুল হক মিলন ৬৪১ ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম ৬৩৫ স্কোর করেন। রিকার্ভ কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দেশের সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী ২ জন করে আরচ্যার এলিমিনেশন রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। মো: রোমান সানা ১/৩২ খেলায় বাই পেয়ে ১/১৬ খেলায় উন্নীত হয় এবং মো: ইব্রাহিম শেখ রেজওয়ান ১/৩২ খেলায় লাওসের অনমানি সৌলিভংকে ৬-০ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করে ১/১৬ খেলায় উন্নীত হয়। ১/১৬ খেলায় মো: রোমান সানা থাইল্যান্ডের থামউং উইথ্যায়াকে ৬-২ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করে ১/৮ খেলায় উন্নীত হয় এবং মো: ইব্রাহিম শেখ রেজওয়ান চায়নার লি জিয়ালুন এর নিকট ৬-২ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হয়। ১/৮ খেলায় মো: রোমান সানা ইন্দোনেশিয়ার আগাথা রিয়াউ ইগা এর নিকট ৬-৪ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হয়। রিকার্ভ মহিলা এককে ৬৬ জন আরচারের মধ্যে কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার ১ম স্থান অর্জনকারী ৬৮১ স্কোর এবং বাংলাদেশের নাসরিন আক্তার ৬১০ স্কোর করে ২৭তম, ইতি খাতুন ৫৯৩ স্কোর করে ৩২তম ও বিউটি রায় ৫৮৩ স্কোর করেন। ১/৩২ খেলায় নাসরিন আক্তার তাজিকিস্তানের তাগায়েভা জুখরো এর নিকট ৬-২ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে এবং মোসাম্মৎ ইতি খাতুন ফিলিপাইনের তাগলে নিকোল মেরি এর নিকট ৬-৫ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হয়। রিকার্ভ পুরুষ দলগতভাবে ১/১২ খেলায় বাই পেয়ে ১/৮ খেলায় উন্নীত হয়। ১/৮ খেলায় বাংলাদেশ দল (মো: রোমান সানা, মো: ইব্রাহিম শেখ রেজওয়ান ও মো: ইমদাদুল হক মিলন) ৬-২ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে মঙ্গোলিয়ার এর নিকট পরাজিত হয়। ১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের রিকার্ভ পুরুষ দল ৯ম স্থান অর্জন করে। রিকার্ভ মহিলা দলগতভাবে ১/৮ খেলায় বাংলাদেশ দল (নাসরিন আক্তার, মোসাম্মৎ ইতি খাতুন ও বিউটি রায়) ৬-২ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে জাপানের নিকট পরাজিত হয়। ১৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের রিকার্ভ মহিলা দল ৯ম স্থান অর্জন করে। রিকার্ভ মিশ্র দলগতভাবে ১/১২ খেলায় বাংলাদেশ দল (মো: রোমান সানা ও নাসরিন আক্তার) ৬-০ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে ইউএইকে পরাজিত করে ১/৮ খেলায় উন্নীত হয়। ১/৮ খেলায় বাংলাদেশ দল ৫-৪ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে কাজাখস্তানকে পরাজিত করে ১/৪ (কোয়ার্টার ফাইনাল) খেলায় উন্নীত হয়। ১/৪ (কোয়ার্টার ফাইনাল) খেলায় বাংলাদেশ দল ৫-১ সেট পয়েন্টের ব্যবধানে জাপানের নিকট পরাজিত হয়। ২৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের রিকার্ভ মিশ্র দল ৭ম স্থান অর্জন করে।
কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে কম্পাউন্ড পুরুষ এককে ৬০ জন আরচারের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার ১ম স্থান অর্জনকারী ৭০৯ স্কোর এবং বাংলাদেশের অসীম কুমার দাস ৬৯২ স্কোর করে ১৭তম, মো: আবুল কাশেম মামুন ৬৭৬ স্কোর করে ৪৩তম ও মো: জাবেদ আলম ৬৭৩ স্কোর ৪৯তম স্থান অর্জন করেন। কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে কম্পাউন্ড মহিলা এককে ৫২ জন আরচ্যারের মধ্যে চাইনিজ তাইপের ১ম স্থান অর্জনকারী ৭০৬ স্কোর এবং বাংলাদেশের রোকসানা আক্তার ৬৭২ স্কোর করে ৩৫তম স্থান, বন্যা আক্তার ৬৭১ স্কোর করে ৩৭তম ও সুমা বিশ্বাস ৬৫৪ স্কোর ৪৭তম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া কম্পাউন্ড পুরুষ দলগতভাবে ১/৮ খেলায় বাংলাদেশ দল (অসীম কুমার দাস, মো: আবুল কাশেম মামুন ও মো: জাবেদ আলম) ইন্দোনেশিয়ার নিকট ২৩০-২২৮ স্কোরের ব্যবধানে পরাজিত হয়। ১৬ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কম্পাউন্ড পুরুষ দল ৯ম স্থান অর্জন করে। কম্পাউন্ড মহিলা দলগতভাবে ১/৮ খেলায় বাংলাদেশ দল (রোকসানা আক্তার, বন্যা আক্তার ও সুমা বিশ্বাস) ইন্দোনেশিয়ার নিকট ২২২-২০৮ স্কোরের ব্যবধানে পরাজিত হয়। ১৩ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কম্পাউন্ড মহিলা দল ৯ম স্থান অর্জন করে। কম্পাউন্ড মিশ্র দলগতভাবে ১/১২ খেলায় বাংলাদেশ দল (অসীম কুমার দাস ও রোকসানা আক্তার) বাই পেয়ে ১/৮ খেলায় উন্নীত হয়। ১/৮ খেলায় বাংলাদেশ দল ১৫৪-১৪৯ স্কোরের ব্যবধানে ফিলিপাইনের নিকট পরাজিত হয়। ১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কম্পাউন্ড মিশ্র দল নবম স্থান অর্জন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ