ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবৈধভাবে নদী দখলে নিয়ে বালু উত্তোলন কৃষি ও সেচ ব্যবস্থা হুমকির মুখে

বালু ও ভুমিদস্যু সিন্টিকেটদের আওতায় ফুলজোড় নদী ও নলকা ব্রীজ

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: বালুমহাল ইজারা গ্রহণে সরকারি নীতিমালা, চুক্তি বা শর্ত ভঙ্গ করে সিরাজগঞ্জের নলকা সেতুর দু'পাড় ধরে ফুলজোড় নদী থেকে বালু উত্তোলন চলছে। এতে হুমকির মধ্যে পড়েছে নদীর দু'পাড়ে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাসহ নদীর গতিপথ। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের ওপর নলকা সেতুর দু'পাড়ে সরকারি জায়গায় অবৈধ প্রক্রিয়ায় বালু উত্তোলন করে স্তূপ করে রাখলেও এসব দেখার কেউ নেই। এ ব্যাপারে জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায়ও অভিযোগ রয়েছে।
উল্লাপাড়া-রায়গঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী সীমান্ত আলোকদিয়ার গ্রামে দুটি বালু পয়েন্ট ক্ষমতাসীন দলের লোকজন গত বৈশাখে ইজারা নিয়েছে। ইজারায় যেভাবে বালু উত্তোলনের নিয়মনীতি বা শর্ত দেওয়া আছে, তার তোয়াক্কা না করেই নদী থেকে যত্রতত্র বালু তোলার পর বলগেট বা বাংলাড্রেজার দিয়ে নদী থেকে জাহাজে করে নেওয়া হচ্ছে। জাহাজ থেকে মেশিনে সৃষ্ট পানিপ্রবাহের সাহায্যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় জাহাজ থেকে এসব বালু নদীর পাড়েই রাখা হচ্ছে।
নলকা সেতুর দু'পাড়ে ৯টি পয়েন্টে বিস্তীর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে বাঁশের আঁড়ের ওপর লোহার পাইপে বালু এনে নদীর দু'পাড়ে বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বিশাল স্তূপ গড়ে তোলায় নদীপথে বালু পড়ে গতিপথও হুমকির মধ্যে পড়ছে। বর্তমানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দু'পাড়ের বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চল ও চাষাবাদ। নদীপথ বিপর্যস্ত হয়ে সেতুর নিচে পানিপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। আগামী বর্ষায় এখানে ভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। বালুখেকোদের যত্রতত্র বালু ফেলার কারণে হুমকির মধ্যে পড়েছে সেচ ব্যবস্থাও।
ফুলজোড় নদী থেকে সরকারি ইজারায় উত্তোলন এসব বালু নলকা সেতুর পাশে সরকারি জায়গায়ও গত ক'মাস থেকেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বালু ওড়ার কারণে সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলগামী চালক-যাত্রীদের চোখে লেগে বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
অন্যদিকে, সেতুর দক্ষিণে পশ্চিমাঞ্চলে বালুর স্তূপের নিচে গ্যাসের পাইপও ঢাকা পড়েছে।
গ্যাসের পাইপের মধ্যে যে কোনো দুর্ঘটনা ও মেরামতের প্রয়োজন হলে এসব বালুর স্তূপ সরিয়ে গ্যাস পাইপ মেরামত করাটাও দুরূহ ব্যাপার। নলকা সেতুর দু'পাশে বালুর স্তূপের কারণে মহাসড়কের চালক-যাত্রীদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজিএম (বিপণন) আলমগীর হোসেন ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় বলেন, নলকা সেতুর পশ্চিম পাড়ে বালু ব্যবসায়ীরা গায়ের জোরে আমাদের সঞ্চালিত গ্যাস পাইপের ওপর বালু রেখেছে। বারবার বলা সত্ত্বেও তারা বালু সরিয়ে নিচ্ছে না।
ওই সভায় জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা বিষয়টি অবগত হয়ে রায়গঞ্জের ইউএনও মৌসুমী মাহবুবকে বালু অপসারণে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেন।
রায়গঞ্জের ইউএনও মৌসুমী মাহবুব বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এসিল্যান্ডকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি এরই মধ্যে সবাইকে নোটিশও দিয়েছেন। অভিযানও চালাচ্ছেন।
সরেজমিনে গেলে ইজারাদারদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জহুরুল ইসলাম বলেন, মৌখিক নির্দেশ পেয়ে নলকা সেতুর দু'পাশের সরকারি জায়গা থেকে দ্রুত বালু অপসারণের চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ