ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাড়ির ছাদে ফলের বাগান

ফটিকছড়ি : উপজেলার মাইজভা-ার দরবার শরীফস্থ বাড়ীর আঙ্গিনায় বৃক্ষপ্রেমী মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবু তাহের মাসুদ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : ফটিকছড়িতে বাড়ীর ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চাষ করে সাফল্যে পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আবু তাহের মাসুদ। উপজেলার মাইজভান্ডারস্থ আশরাফ আলী সওদাগর বাড়ীর  বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের তাঁর  বাড়ীর ছাদে এ সব ফলের চাষ করেন।
সরজমিনে তাঁর বাড়ির ছাদের বাগানে গিয়ে দেখা যায়,দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের গাছ তাঁর বাগানে শোভা পাচ্ছে। ফ্যাশন ফুট, ড্রাগন ফল , আংগুর, লেবন গ্রাস,  বিভিন্ন জাতের লেবু, কাগজি লেব, এলাচি লেবু, বার মাসিয়া আম, মালটা, মিষ্টি মালটা, জাগমরুর, মিষ্টি জলপাই, জলপাই,  ৬/৭ জাতের উন্নত জাতের পেয়ারা, চপেদাসহ প্রায় দেড় শত ফল গাছ রয়েছে তার বাড়ির ছাদে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু তাহের মাসুদ  জানায় তিনি বিক্রিয়ের জন্য নয়, নিজেদের  খাওয়া জন্য সখের বসে বাড়ীর ছাদে চাষ করেছেন। তাঁর অনেক বড় বাগান আছে উপজেলার খিরামে এবং নার্শারী রয়েছে নাজিরহাটে।
তিনি প্রতিদিন সকালে এ সব গাছের পরিচর্যা করেন।  তাকে এ কাজে সহযোগীতা করেন, তাঁর সহধর্মীনি  ফটিকছড়ি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজিয়া মাসুদ । তিনি একজন রত্মগর্বা মা।  তিনি এ বছর চট্টগ্রামে রত্মাগর্বা মা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন।
আবু তাহের মাসুদ বলেন,ফটিকছড়িতে হাজার হাজার মানুষের বাড়ী ছাদ খালি পড়ে আছে চাইলে বাড়ীর ছাদে বিভিন্ন ধরণের ফলের চাষ করে পরিবারকে ভেজাল মুক্ত ফল খাওয়াতে পারে।
মুক্তিযোদ্ধা  আবু তাহের মাসুদ আরো জানান, তাঁর বাগান থেকে অনেক স্কুল- মাদ্রাসাকে ফ্রি ফলের চারা দেওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মাসুদ ব্যক্তিগত অর্থে ফটিকছড়ি, হাটহাজারীর ১ শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার চারা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ১১ আগস্ট চারা বিতরণ কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মুহাম্মদ মাঈনুদ্দীন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবু তাহের মাসুদের সহধর্মিনী রাজিয়া মাসুদ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত বিদ্যালয়ে ফলজ, বনজ ও ঔষুধী সহ নানা প্রজাতির প্রায় ২ হাজার চারা বিতরণ করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মাসুদ পরিচালিত চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের নাজিরহাট নতুন ব্রিজ সংলগ্ন ‘মাইজভান্ডারী নার্সারী’ থেকে এ চারাগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। এসব চারার মধ্যে রয়েছে, আম, লিচু, পেয়ারা, মালটা, লেবু, কাঠাল প্রভৃতি। এ চারাগুলো কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, সামাজিক সংগঠনে প্রদান করা হচ্ছে। বাজারমূল্যে ১০/১২ লাখ টাকার চারা বিতরণ করা হবে বলে জানান মুক্তিযোদ্ধা তাহের মাসুদ। এছাড়াও, বনবিট বিভাগের সাথে যৌথভাবে উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের খিরামে গড়ে তুলেছেন বিশাল একটি বাগান। উক্ত বাগানে বনজ, ঔষুধী ও ফলজ বৃক্ষ রয়েছে।
চারা বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ডা. মুহাম্মদ আবু তাহের মাসুদ বলেন, স্বার্থহীনভাবে আমি চারাগুলো বিতরণ করছি। এসব চারা রোপনের পর সর্বোচ্চ ১ বছর পরিচর্যা করলে ফল, ফুল, সর্বোপরি উপকারিতা ভোগ করা সম্ভব হবে। বৃক্ষ আমাদের ফল, ফুল, জ্বালানি, আসবাবপত্রের চাহিদাই কেবল পূরণ করেনা, প্রাণবন্ত নিশ্বাস নেয়ার ক্ষেত্রের বৃক্ষের অবদান তুলনাহীন। এ দেশকে সবুজে রুপান্তরিত করতে হলে বৃক্ষরোপনের বিকল্প নেই। আজকাল যে পরিমাণ বৃক্ষ নিধন হচ্ছে, সে তুলনায় বৃক্ষরোপন করা হচ্ছেনা। তাই আমার অনুরোধ, পরিত্যক্ত জায়গায় বৃক্ষরোপন করুন। জায়গা না থাকলে বাড়ীর ছাদে গড়ে তুলুন ‘ছাদ-বাগান’।  চাষ করার ইচ্ছে নিয়ে কেউ আসলে তাদের পরামর্শও প্রদান করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ