ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 August 2018, ১৫ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দূর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীতে পুলিশ ক্যাম্প

পাবনা সংবাদদাতা: পাবনার সাঁথিয়ায় সরকারি জলাশয়ে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে দূর্বৃত্তরা মোজাম্মেল নামে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীতে হামলা করে তার কলেজ পড়ুয়া কণ্যা মুক্তি খাতুন(২১) শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্ট করে। লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে নাক-ডেমড়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলার নাক-ডেমড়া গ্রামের আব্দুল সালাম এর নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন ১৯ আগষ্ট রবিবার দুপুরের দিকে মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের বাড়ীতে হামলা করে। জীবন রক্ষার্থে মোজাম্মেল ও তার ছেলেরা নদী সাঁতরে পালিয়ে যায়। ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা মোজাম্মেলের কণ্যা পাবনা সরকারী এডওর্য়াড কলেজের দর্শন বিভাগে ২য় বর্ষের ছাত্রী মুক্তি খাতুনকে ঘর থেকে টেনে হেঁচড়ে উঠানে নিয়ে এসে ফ্লিমী স্টাইলে সবার সামনে তার শরীরে পেট্রোল ডেলে দিয়েশলায়ের আগুন ধরিয়ে দেয়। মুক্তির গগণবিধারী আর্তনাত চিৎকারে গ্রামের হাজারো মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। মুক্তির শরীরের ৭০ ভাগই ঝলসে দগ্ধ হয়ে যায়। সে বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ণ ইউনিটে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। মোজাম্মেল বাদী হয়ে ৩২ জনকে আসামী করে সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৭। এব্যাপারে পুলিশ ১৯ জনকে আটোক করেছে। বাদীর অভিযোগ পুলিশ প্রধান আসামীদের না ধরায় তারা তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সাঁথিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মজিদ বলেন, নাক-ডেমড়া গ্রামে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেলের বাড়ীতেও রাখা হয়েছে পুলিশ। সাঁথিয়া প্রেস ক্লাবের কয়েক জন সাংবাদিক নাক-ডেমড়া গ্রামে গেলে দেখা যায় গ্রামটি শুন-শান। নিরবতা। বৃদ্ধ পুরুষ ছাড়া অন্য বয়সের পুরুষ শূণ্য রয়েছে গ্রামটি। আশির উর্দ্ধে বয়সের করিম নামে একজন বৃদ্ধ বলেন, “আমাদের গ্রামে এবার ঈদের আনান্দ নাই। কেবা দিয়ে ঈদ গেলো ঠিক পালিম না। ছাওয়াল পল বাড়ী ছাড়া। ওদের চাচা ভাতিজার কারণে গ্রামে দলাদলি। মুইনুল, সবুর, আলাল নামে কয়েক জন বৃদ্ধ নিরিহ গ্রাম বাসী জানান, মোজাম্মেল ও সালাম আওয়ামীলীগের নেতা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি কেনেলের মাঝ ধরা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ, মারামারি। নাক-ডেমড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-উর রশিদ বলেন, শরীরে পেট্রোল ডেলে আগুন জ্বালানো ঘটনাটি জঘন্য ও বর্বর্তা। ন্যক্কার জনক এই ঘটনার তিনি তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করেন। বীর মুক্তিযুদ্ধা মোজাম্মেল হক ঢুঁকরে কেদে বলেন আমি এবং আমার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। সাঁথিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কয়েকজন সদস্য বলেন, সালাম গ্রুপের সাথে মোজাম্মেল গ্রুপের বিরোদ্ধ দীর্ঘ দিনের। মামলা পালটা মামলা হয়েছে কয়েকটি। থানা পুলিশ শক্ত হাতে সঠিক দায়িত্ব পালন করলে এ ন্যক্কার জনক ঘটনা ঘটত না।
তারা আরো বলেন থানা পুলিশ উভয় সংকটে যেন, শ্যাম রাখি না কুল রাখি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ