ঢাকা, শুক্রবার 31 August 2018, ১৬ ভাদ্র ১৪২৫, ১৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

বিষন্ন বিদায়

আকিব শিকদার

 

লাল বাত্তিটা নিভে জ্বললো সবুজ। মাইকে মেয়েলি কণ্ঠ জানালো

রেলগাড়ি যাবে বহুদূর। স্টেশনমাস্টারের সহকারী 

কলাপাতা রং পতাকাটা নাড়ছেন; লম্বা হুইসেল শেষে 

গড়-গড়-গড় ঘুরছে লোহার চাকা।

 

জানালায় মেয়েটার বিষন্ন মুখ। বুকের ভাঁজে

জমাটবাঁধা দীর্ঘশ্বাস; চোখ অপলক; হাতের আঙুল কাঁপছে।

ছেলেটা দাঁড়িয়েছে প্লাটফর্মে। মুখে কৃত্রিম হাসি, মনে 

বেদনার দুর্দান্ত দহন।

হৃৎপি-ে আমের আটি নিংড়ানো ব্যাকুলতা, যেন সাড়াশি দিয়ে

উপরে নিচ্ছে কেউ আত্মাটা।

 

ছেলেটা দিলো না বিদায়সূচক হাত ইশারা। মাথা নত করে নিলো

কী এক অজ্ঞাত অপরাধবোধে।

মেয়েটার চোখ ফেটে এলো জল, গাল বেয়ে

ঝরলো কোলের উপর রাখা পুস্তকে। সে রইলো আকাশে তাকিয়ে।

প্লাটফর্মের কোলাহল কমিয়ে ট্রেন ছুটছে, ঘুরছে

লোহার চাকা ঝক-ঝক-ঝক।

 

তোমার ছোঁয়া চাই

হাফিজ ইকবাল

 

আমি আজ মুমূর্ষু,

তোমার একটু আলতো ছোঁয়ায় পেতে পারি নবজীবন,

তুমি তবে কেন দূর নীলিমায় অধরা?

কেন সমীরণে মিশে অস্পৃশ্য?

কেন নিঃশেষ করে দিতে চাও এক অদম্য প্রাণকে,

এই প্রাণ যদি ফিরে

তবে আমি সাজাবো এই ধরণীকে পাঁচবছরের কৈশোরের খেলার মাঠ করে,

আগাছাগুলোকে উপড়ে ফেলে কন্টকমুক্ত এক কানন প্রস্তুত করব,

মুখোশের আড়াল থেকে টেনে বের করব 

ঐ সকল ফুলের মত পবিত্র চরিত্রের কলুষ দানবকে।

 

মিনতি আমার রাখো!

আমাকে একটু ছোঁয়া দাও,

সঞ্জীবনী ঐ ছোঁয়া এই মুহুর্তে কী পরিমাণ প্রয়োজন!

আমি ইন্দ্রীয়কে কুকাজে প্রয়োগকারীদের 

খোঁজা বানিয়ে কমলার নাচ নাচাতে চাই।

তুমি কী তবুও দিবে না তোমার ছোঁয়া?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ