ঢাকা, শুক্রবার 31 August 2018, ১৬ ভাদ্র ১৪২৫, ১৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিকদের ওপর যারা হাত দিয়েছে তাদের হাত পুড়ে গেছে

* সরকারের লোকজন ছাড়া মিডিয়ার ডিক্লারেশন হচ্ছে না - রিয়াজউদ্দিন আহমেদ

* সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনীর গু-ারা বর্বর হামলা চালায় - রুহুল আমিন গাজী

স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, যারা সাংবাদিকদের ওপর হাত দিয়েছে তাদের হাত পুড়ে গেছে, এই সরকারের হাতও পুড়ে যাবে। বর্তমান অবৈধ সরকারের কাছে আমরা সাংবাদিক হত্যার বিচার চাই না কারণ এই সরকার বিচার করবে না। একের পর এক সাংবাদিক হত্যাকা- ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সরকারের সময়ে ৩৩ জন সাংবাদিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। সম্প্রতি আনন্দ টিভি পাবনা জেলা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঢাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের গু-ারা দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বর হামলা করেছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা একই কায়দায় কুষ্টিয়ার আদালতের সামনে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। এভাবে দেশ চলতে পারে না। অবিলম্বে এসব ঘটনার আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে। তা নাহলে এ সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নেমে এ সরকারকে বিদায় করে সকল হত্যা-নির্যাতনের বিচার করবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাতের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, বিএফইউজে মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের সহ-সভাপতি নূরুল আমিন রোকন, বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব শফিউল আলম দোলন, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস হোসেন, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ গাজী আনোয়ার, জনকল্যাণ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর, দপ্তর সম্পাদক শাহজাহান সাজু, ডিইউজে নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আলী আসফার, ডিইউজের বাসস ইউনিটের প্রধান আবুল কালাম মানিক, বিএফইউজের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, নির্বাহী সদস্য ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর প্রমুখ। 

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, ডিআরইউ’র সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির সুমন, ডিআরইউর সাবেক সহ-সভাপতি আবু দারদা জুবায়ের, ডিইউজের প্রচার সম্পাদক মাসুদা সুলতানা প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল তোপখানা রোড প্রদক্ষিণ করে। 

সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, কি অপরাধে সুবর্ণা নদীকে হত্যা করা হল, কি অপরাধে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করল। আমরা জানি না। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারের লোকজন ছাড়া আজ কাউকে মিডিয়ার ডিক্লারেশন দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থা বেশি দিন চলতে পারে না। যারা সাংবাদিকদের ওপর হাত দিয়েছে তাদের হাতও পুড়ে গেছে। এ সরকারের হাতও পুড়ে যাবে। অতীতে কোনো সরকারই সাংবাদিক নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকতে পারেনি।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, একের পর এক সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলছে। আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। বর্তমান সরকার সাগর-রুনীর হত্যার বিচার না করতে পারার ধারাবাহিকতায় পাবনার সাংবাদিক সুবর্ণা নদীকে কুপিয়ে হত্যা করল সন্ত্রাসীরা। কুষ্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের ওপর নৃশংস হামলা করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। কিছুদিন আগে ঢাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনীর গু-ারা বর্বর হামলা চালায়, সেই ঘটনারও আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলাম কিন্তু এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। এবং সাংবাদিকদের ওপরে বর্বর হামলার বিচারও হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের সরকার সাংবাদিকদের ওপরে ও সংবাদপত্রের ওপরে হাত দিয়েছিল সেই সরকার ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। বর্তমান সরকারও সাংবাদিক নির্যাতন করেন, ক্ষমতায় বেশি দিন টিকতে পারবে না। এই গণতন্ত্র হত্যাকারী সরকারের কাছে আমরা বিচার চাইনা কারণ বর্তমান স্বৈর সরকার কোনো সাংবাদিক হত্যার বিচার করবে না। যদি বিচার হতো তবে এই সরকারের সময়ে ৩৩ জন নিহত সাংবাদিক হত্যার বিচার হতো। মিডিয়াকে আজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। পছন্দের ব্যক্তিদের মিডিয়ার ডিক্লারেশন দেয়া হচ্ছে, এভাবে চলতে দেয়া যায় না। যতদিন সাংবাদিক হত্যার বিচার না হবে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হবে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলছে ও চলবে। 

এম আবদুল্লাহ বলেন, সুবর্ণা নদীসহ এ পর্যন্ত ৩৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। অসংখ্য সাংবাদিককে নির্যাতন করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত একটি হত্যাকান্ডের ও নির্যাতনের বিচার হয়নি। সকল হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা সরকার ধামাচাপা দিচ্ছে। একের পর এক এমন ঘটনা চলতে পারে না। এখন সময় এসেছে সব হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করা। বর্তমান পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হলে এই সরকারের বিদায় ছাড়া কোনো পথ নেই। এই সরকারের বিদায় হলেই সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার হবে। 

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এই সরকারের আমলে আজ পর্যন্ত কোনো সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। আমরা সাংবাদিক নির্যাতনের যখন বিচার চাইলাম, বিনিময়ে তা না করে নদীর লাশ উপহার দিল, এই দানব সরকারকে বিদায় না দিলে একের পর এক সাংবাদিকরা লাশ হতেই থাকবে। কাজেই এ সরকারকে বিদায় করে সকল হত্যার বিচার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।

শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে মানুষ আজ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পাচ্ছে না। সাগর-রুনিসহ কোনো সাংবাদিক হত্যার বিচার আমরা পাইনি। সুবর্ণা নদী সাংবাদিক সম্মেলন করে নিরাপত্তা চেয়েছিল, কিন্তু পায়নি। তাকে নির্মমভাবে খুন হতে হল। মাহমুদুর রহমানের ওপর আদালত প্রাঙ্গণে হামলা করা হলো। অথচ কেউ গ্রেফতার হলো না। এই সরকারকে বিদায় করেই এসব হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ