ঢাকা, শুক্রবার 31 August 2018, ১৬ ভাদ্র ১৪২৫, ১৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঘড়ছাড়া

 

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিবসহ গত ২ দিনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১৪ জন নেতা কর্মীকে  গ্রেফতার করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। এই  গ্রেফতারে সোনারগাঁ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে। পুলিশের ভয়ে তারা ঘড়ছাড়া, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে এখানে সেখানে। কিছু দিন শান্তির সময় গেলেও মামলায় জর্জরিত দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা ফের দিশেহারা। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের আন্দোলনকে বন্ধ করতেই সরকার বিএনপির তৃণমূলের সক্রিয় কর্মীদের জেলে ঢোকানোর পরিকল্পনা থেকেই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মূল টার্গেটে পড়েছে সোনারগাঁ বিএনপির নেতা কর্মীরা। এমটাই মনে করছেন স্থানিয় বিএনপি নেতারা। বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান বলন, জাতীয় নির্বাচনের আগ-মূহুর্তে সরকার বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর আবারো দমন-পীড়ন, মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপিকে নাজেহাল করেও এই সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। বিএনপিকে সমূলে বিনাশ করে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার যে স্বপ্ন দেখছে তা বাস্তব হবে না। কখন যে হোঁচট খাবে সরকার, তা অনুমান করতে পারছে না। তৃণমূলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে নাশকতার মামলার নামে আসামী করে আমাদের নেতা কর্মীদের কারাগারে পাঠিয়েও লাভ হবেনা জনগণই আমাদের বড় শক্তি।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, সরকার পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে বিএনপিকে আবারো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিতে চাচ্ছে। সরকারের প্রধান এই প্রতিপক্ষরা শিগগিরই যাতে আর কিছু করতে না পারে এ জন্য মাঠপর্যায়ের শক্তিকে দুর্বল করতে গণগ্রেফতার চলাচ্ছে। এ অভিযান এখন থেকে চলতেই থাকতে পারে। এর আগে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিবকে গ্রেফতার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। বুধবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা কাঁচপুর এলাকা থেকে উপজেলা ছাত্রদলের ১৩ জন নেতাকর্মীকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।  পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে নাশকতার প্রস্তুতি সভায় থেকে গ্রেফতার হওয়া জেলা থানা ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরো প্রায় ৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত জাকারিয়া সারোয়ার হিমেল, পিতা মৃত জাকির হোসেন, রুহুল আমিন রুবেল, পিতা মোশারফ হোসেন, মোঃ আব্দুল হালিম, পিতা দিলোয়ার মিয়া, বিল্লাল হোসেন, পিতা আবু সিদ্দিক, ফরহাদ হোসেন, পিতা মৃত আমাউল্লাহ, ওমর ফারুক ইকবাল, পিতা মৃত ডাঃ আব্দুল মান্নান, মোঃ মোরশেদ আলম, পিতা আফাজউদ্দিন, সাহাজউদ্দিন, পিতা আব্দুল খালেক, আবুল বাসার, পিতা মৃত আব্দুল সামাদ মিয়া, মোজাম্মেল হক, পিতা আব্দুল জব্বার, কাজী হিমেল, পিতা ফজলুল হক, ইউনুস, পিতা মৃত কালাচাঁন, সাইদুর রহমান, পিতা মৃত আব্দুল কাদের। এছাড়াও পলাতক আসামী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান দিপু, পিতা মজিবুর ভুইয়া, গোলাকান্দাইল দক্ষিণপাড়া রূপগঞ্জ, মনির হোসেন, পিতা. আব্দুল সালাম, কলতাপাড়া, খন্দকার আবু জাফর, পিতা খন্দকার সামছুদ্দিন, আলমদী দক্ষিণপাড়া, নজরুল ইসলাম টিটু, ইমান আলী, কাজলদী, শামীম, পিতা ফজলুল হক, আমান উল্লাহ আমান, পিতা মুল্লুক চাঁন, কাঁচপুর, সজিব (জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক), পিতা আজহারুল ইসলাম মান্নান, হাজী শাহজাহান মেম্বার, পিতা মৃত বিল্লাল হোসেন, দৈলেরবাগ, নুরে ইয়াসিন নোবেল, পিতা অজ্ঞাত, সাতভাইয়াপাড়া, হাজী সেলিম হক, পিতা ফজলুল হক চেয়ারম্যান, মোমেন খাঁন, পিতা মৃত মোমেন খাঁন, আপেল, পিতা ফজলুল হক চেয়ারম্যান, মুজিবুর রহমান, পিতা নুর মোহাম্মদ, হানিফ, পিতা ফজলুল হক, কাঁচপুর, সালাউদ্দিন সালু, পিতা আব্দুল আজিজ, হাবিবুর রহমান হবু, পিতা সামসুল হক, কাঁচপুর সেনপাড়া, বজলুল রহমান, পিতা মশিউর রহমান, কুতুবপুর, ফয়সাল আহম্মেদ অতু, পিতা গিয়াসউদ্দিন গেসু, বাড়ী চিনিস, কাজী নুরুল, পিতা ফজলুল হক কাঁচপুর, বিল্লাল, পিতা আবু সিদ্দিক, নানাখি। এছাড়া ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ