ঢাকা, শুক্রবার 31 August 2018, ১৬ ভাদ্র ১৪২৫, ১৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গত সাত বছরেও খুলনা বিভাগীয় সরকারি শিশু হাসপাতালের জমি অধিগ্রহণ হয়নি!

খুলনা অফিস : প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত ৭ বছরেও খুলনায় বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের জমি অধিগ্রহণ হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে ৩০ কোটি টাকার অনুমোদন পাওয়া গেছে, তাও এক বছরের বেশি। বিভাগীয় ও জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও মূলত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর খুলনা শিশু হাসপাতালকে সরকারিকরণে রাজনৈতিক তদবিরের কারণেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘ধীর চলনীতি’ চলছে এমন ধারণা উন্নয়ন কর্মীদের। 

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী খুলনায় একটি বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১২ সালেই হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজে গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ। প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ ও ডায়াবেটিক হাসপাতালের মাঝখানে মুন্নুজান স্কুলের সামনে ৬ একর জমি প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। পরে সেখানে বিভাগীয় সার্কিট হাউজ নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় পরে ডুমুরিয়ার চকমাথুরাবাদ ও বটিয়াঘাটার কৃষ্ণনগর মৌজার রূপসা বাইপাস রোড সংলগ্ন (ময়ূরী প্রকল্পের বিপরীতে) পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। 

এদিকে খুলনার শিশু হাসপাতালকে সরকারিকরণে অনুরোধ জানিয়ে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিভিল সার্জন অফিস থেকে একটি চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। একই দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার স্বাক্ষরিত এক চিঠি পাঠানো হয়েছে গত বছরের ৭ মে। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে জেলা উন্নয়ন কমিটির বৈঠকে আবারও খুলনা বিভাগীয় সরকারি শিশু হাসপাতাল নির্মাণে জমি গ্রহণে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়। দ্রুত এ কাজ শেষ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষে একাধিক বৈঠকের রেজুলেশনসহ ডিও পাঠিয়েছেন খুলনা শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের তৎকালীন সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান। 

খুলনা শিশু হাসপাতালকে সরকারিকরণের জন্য বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নিমার্ণে বিলম্ব হচ্ছে এটাই মনে করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। উল্লেখ্য, ঢাকায় দু’টি এবং প্রতিটি বিভাগে একটি করে শিশু হাসপাতাল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকায় দু’টি শিশু হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে। এছাড়া বরিশাল, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুরে শিশু হাসপাতাল নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। শুধু খুলনায় নির্মাণ প্রক্রিয়াটি বারবার হোঁচট খাচ্ছে। 

এ ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, আজ ৩০ আগস্ট জমি অধিগ্রহণ কমিটির সভা রয়েছে। এই সভায় সিদ্ধান্ত হলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সস্পন্ন হবে। এরপরই কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ