ঢাকা, শনিবার 1 September 2018, ১৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর পাউবো’র বাঁধটি পুনরায় কপোতাক্ষ নদে বিলীন

খুলনা অফিস : খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা (আংশিক গোলখালী) গ্রামের নুরু গাজীর বাড়ির সামনে কপোতাক্ষ নদের তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত বুধবার রাতে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কোন রকম পানি আটকানো সম্ভব হলেও বাঁধটি পুনরায় কপোতাক্ষ নদে বিলীন হয়ে গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুনরায় আর একটি বাঁধ দিয়ে সাময়িকভাবে পানি আটকানো হয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসীর আশঙ্কা এ বাঁধটিও টিকবে না। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় কাজ না করলে বেড়ীবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এলাকাবাসী কাজ করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ জনপদের সাধারণ মানুষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা (আংশিক গোলখালী) গ্রামের উল্লিখিত স্থানটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৩শ’ ফুট বেড়ীবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ভাবে কাজ করে পানি আটকাতে পারলেও বেড়ীবাঁধের অবস্থা নিয়ে তারা শঙ্কিত। ভাঙন আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছে স্থানীয়রা।
দক্ষিণ বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান জি এম কবি শামছুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা (আংশিক গোলখালী) নুরু গাজীর বাড়ির পাশে কপোতাক্ষ নদের বেড়ীবাঁধের অবস্থা মোটেই ভাল নয়। গত বুধবার দিবাগত রাতে এখানকার প্রায় ৩শ’ ফুট বেড়ীবাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে প্রোটেকশন বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো হলেও বৃহস্পতিবারে আবার তা ধসে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যদের নিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সারাদিন স্বেচ্ছাশ্রমে প্রোটেকশন বাঁধ দেয়া সম্ভব হলেও তার ভবিষ্যৎ কি হবে বলা কঠিন। কারণ যেকোন সময় এ বাঁধটিও ধসে যেতে পারে। এ অবস্থায় স্থানটিতে সরকারিভাবে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা না হলে যেকোন সময় বাঁধ ভেঙে সমগ্র ইউনিয়নটি লোনা পানিতে তলিয়ে যাবে। ক্ষয়ক্ষতি হবে এলাকার মৎস্য ঘের, ঘরবাড়ি ও ফসলী জমির। জীবনহানি ঘটবে মানুষ ও গবাদি পশু-পাখির।’ তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ও আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মশিউল আলম ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে শুক্রবার থেকে বেড়ীবাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ