ঢাকা, শনিবার 1 September 2018, ১৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইন্দুরকানীতে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই যুবলীগ নেতা গুরুতর আহত

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ইউপি সদস্যের চাঁদা দাবির বিরুদ্ধে   প্রতিবাদ করায় দুই যুবলীগ নেতার উপরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য চাঁদা দাবীর বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।
জানা যায়, পল্লি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ঘুষ দিতে হবে বলে পত্তাশী গ্রাম থেকে ৮৫ হাজার তুলেছেন হামেজ উদ্দিন শেখ। কোন দপ্তরেই এই টাকা খরচ হয় নাই। তাই হামেজ উদ্দিনকে  গ্রামবাসীকে  টাকা  ফেরত দিতে বলেন পত্তাশী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম হাওলাদার। এ বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যার পরে বৈঠক বসে পত্তাশী ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মজিদ ফকিরের দোকানে। সেখানে চাঁদার বিষয়ে নানান আপত্তিকর কথা ওঠে । যার এক পর্যায়ে শালিশের তারিখ পরিবর্তনের জন্য বলেন মজিদ ফকির। ফলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
এর কিছু দিন আগে মাসুমের ছবি সম্বলিত ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। ব্যানার ছেড়া নিয়েও নানা কথা হয় এসময়।  এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মজিদ ফকির তার দোকানের সামনের রাস্তায় থাকা মাসুমের ব্যানার ছিড়তে গেলে ,মাসুম ও তার লোকজন ঘিরে ধরে মজিদকে।তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম এসময়  মাসুম ও তার সহযোগীদের  হামলায় যুবলীগ নেতা মজিদ ফকিরের মাথা ফেটে ও রফিকুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থান কেটে গিয়ে জখম হয় বলে দাবী করেন মজিদ ফকির। মজিদ বলেন, হামেজ উদ্দিনের কাছে চাঁদা দাবী করছেন মাসুম। আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদের উপরে হামলা চালিয়েছে মাসুম ও তার লোকজন। আহতরা পিরাজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ইউপি সদস্য মাসুম হাওলাদার জানান, আমি হামেজ উদ্দিনকে গ্রামের মানুষের কাছ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে তোলা টাকা ফেরত দিতে বলায় আমার সাথে বাকবিতান্ডতায় জড়ায় । মজিদ ফকিরের উপরে আদৌ কোন হামলা করা হয় নাই। কোন ধরনের লুটপাটের ঘটনাও ঘটে নাই।পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাতেই আহত যুবলীগ নেতাদের পিরোজপুর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আহত যুবলীগে নেতাদের দেখতে বৃহস্পতিবার পিরোজপুর হাসপাতালে গিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. এম. মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মৃধা ও উপজেলা জাতীয় পার্টি জেপির সভাপতি আসাদুল কবির স্বপন।
উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল সিকদার জানান, মাসুমের নেতৃত্বে যুবলীগ নেতা মজিদ ফকিরের দোকানে হামলা চালিয়ে মজিদ ও রফিকুলকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এসময় তাঁর দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। দোকান থেকে নগত ৬৫ হাজার টাকা ও রফিকুলের ২০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। অনতি বিলম্বে যুবলীগ নেতাদের উপরে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবি করছি। এ রিপোর্ট লেখার  সময় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে  আহত মজিদ ফকির সাংবাদিকদের  জানান।
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, আমরা  খবর শুনে  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ