ঢাকা, শনিবার 1 September 2018, ১৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদ যাত্রায় সড়ক-রেল-নৌ পথের দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২৭৮ মানুষ

গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

পথ    দুর্ঘটনার  সংখ্যা    নিহত    আহত
সড়ক    ২৩৭             ২৫৯     ৯৬০
নৌ       ১৪                ৪       ৬৮
রেল      ১৯               ১৫      ০৭
মোট     ২৭০             ২৭৮   ১০৩৫
                     : ১৩ দিনের দুর্ঘটনার চিত্র
স্টাফ রিপোর্টার : এবারের ঈদুল আযহায় ১৩ দিনে  দেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২৭৮ জন, আহত হয়েছে ১০৩৫ জন মানুষ। এর মধ্যে সড়ক-মহাসড়কে  ২৩৭ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ৯৬০ জন আহত হয়।  এছাড়া নৌ পথে ১৪ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪ জন আহত ৬৮ আর রেলপথে ১৯ দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ৭জন আহত হয়েছে। গতকাল এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এ সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক এ তথ্য তুলে ধরেন। সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতিবেদনটি  তৈরি করা হয়েছে  বলে তিনি জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সেইফ রোড এন্ড ট্রান্সর্পোট এলায়েন্স (স্রোতা) আহবায়ক ড.হোসেন জিল্লুর রহমান, বিআরটিএ-র সাবেক চেয়্যারম্যান আইয়ুবুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ব্যারিষ্টার জ্যোর্তিময বড়ুয়া,, এফবিসিআই সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, যাত্রী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা এম মনিরুল হক, মহীউদ্দীন আহমেদ, আজিজুল হক চৌধুরী, জিয়াউল হক চৌধুরী প্রমুখ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানীর বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছে।
সংগঠনটি বলেছে ঈদুল ফিতরের তুলনায় দুর্ঘটনা ১৪.৪৪ শতাংশ, প্রাণহানী ২৩.৫৯ শতাংশ এবং আহত ২৪.১১ শতাংশ কমেছে। তবে বিগত ঈদুল আযহার তুলনায় দুর্ঘটনা ১০.৭৫ শতাংশ, প্রাণহানী ১.৯৭ শতাংশ ও আহত ৩৭.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তারা বলেছে কিছু অসাধু অতি লোভী মালিকও পরিবহন শ্রমিকের বেপরোয়া মানসিকতায় সড়কে  নৈরাজ্য ও সড়ক হত্যা কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না।
ঈদুল আযহার যাত্রা শুরুর দিন ১৬ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ আগস্ট পর্যন্ত বিগত ১৩ দিনে ২৩৭ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ৯৬০ জন আহত হয়েছে।  হতাহতের মধ্যে ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ০৪ জন চিকিৎসক, ০২ জন প্রকৌশলী, ০২ জন সাংবাদিক, ০২ শিক্ষক, ২০ শিক্ষার্থী, ৪২ জন চালক-হেলপার, ৫৯ জন নারী , ৩৪ জন শিশু ও ০৮ জন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী রয়েছে।
এই সময়ে নাটোরের লালপুরে বাস ও লেগুনা সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয় ।ফেনীর মুহুরীগঞ্জে গরু বোঝাই ট্রাক - মাইক্রো সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫ জনসহ ৭ জন নিহত হয় । নরসিংদীতে বাস -লেগুনা সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হয়। ফেনীর লেমুয়ায় বাস- সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়।এদিকে ভাড়া নিয়ে তর্কের জেরে চট্টগ্রামের সিটি গেইটে রেজাউল করিম রনি নামে এক যুবককে বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়, ময়মনসিংহের নান্দাইলে লেগুনা ও সিএনজি- অটোরিক্সা থামিয়ে চাঁদা আদায়ে প্রতিবাদ করায় ৪ যাত্রীকে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে ।
সংগঠিত দুর্ঘটনার যানবাহন পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২৯.১৮ শতাংশ বাস, ২৩.৬ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬.৬ শতাংশ নছিমন-করিমন, ৫.৯ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক, ১১.১৫ শতাংশ অটোরিক্সা, ৬.৯ শতাংশ কার-মাইক্রো ও ১৬.৭২ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯.১৬ শতাংশ অনান্য যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
 মোট সংগঠিত দুর্ঘটনার ৩১.৩৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৪.৩৫ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা, ১৭.৫৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা, ১.১০ শতাংশ চলন্ত  গাড়ী থেকে পড়ে, ১.২৬ শতাংশ চাকায় উড়না পেছিয়ে ও ৫.০২ শতাংশ অনান্য অজ্ঞাত কারনে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন।  বিরতিহীন, বিশ্রমহীন ভাবে যানবাহন চালানো,  অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালক- হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো। ,নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, নসিমন-করিমন ও মোটর সাইকেল অবাধে চলাচল, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাত না থাকা, সড়ক-মহাসড়কে বেহাল দশা এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
 মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবার র‌্যাব, পুলিশ, বিআরটিএর নানামুখী তৎপরতায় দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হলেও পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্য ও সড়কে হত্যা থামানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরে আপনারাই দেখেছেন, আমাদের সব সংস্থা কিন্তু সবার ঘুম ভেঙেছে প্রকৃতপক্ষে। আমরা পুলিশকে সরব থাকতে দেখেছি।’
সম্মেলনে সেইফ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্সের (স্রোতা) আহ্বায়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনা তো হতেই পারে নানা কারণে। কিন্তু যেই দুর্ঘটনা একটা হেলপার বা একটা চালকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে একজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মৃত্যু ঘটাল অথবা প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে মৃত্যু ঘটাল অথবা মালিকপক্ষের চাপের মুখে প্রতিযোগিতা করতে বাধ্য হয়ে চালকরা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে; ওইটাই আমাদের ব্যথিত করে।’
সুপারিশ মালা: সংগঠনের পক্ষ থেকে  সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে রোড সেইফটি ইউনিট গঠন করে এই ইউনিট কর্তৃক নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিকারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা জন্য জাতীয় পর্যায়ে সরকারীভাবে “চালক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” গড়ে তোলা, নিয়মিত রাস্তার রোড সেইফটি অডিট করা, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা,মহাসড়কে ধীরগতির যান ও দ্রুত গতির যানের জন্য আলাদা আলাদা লেইনের ব্যবস্থা করা, মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, অটোরিক্সা বন্ধে সরকারের গৃহিত সিদ্ধান্ত শত ভাগ বাস্তবায়ন করা,ভাঙ্গাছোড়া রাস্তাঘাট মেরামত করা,ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ফুটপাত, আন্ডারপাস, ওভারপাস  তৈরি করে পথচারীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ