ঢাকা, শনিবার 1 September 2018, ১৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১৯ শতাংশ কারখানা এখনও ভাড়া বাড়িতে-----------------সিপিডি

স্টাফ রিপোর্টার: রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশে গড়ে উঠা অতিরিক্ত ১৯ শতাংশ কারখানা এখনও ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে বলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মাত্র ২১ শতাংশ কারখানায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। খুবই নিম্নমানের প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে ১৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া, গার্মেন্টস কারখানাগুলোর মালিকানা পরিবার ভিত্তিক, যেখানে ৬৫ শতাংশ গার্মেন্টসই দ্বিতীয় প্রজন্ম দ্বারা পরিচালিত। এসব প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো স্বাধীন পরিচালক। বৃহস্পতিবার রাজধানীর খাজানীয়া গার্ডেন হোটেলে ‘ট্রান্সফরমেশন ইন দ্য আরএমজি সেক্টর ইন পোস্ট রানা প্লাজা পিরিয়ড ফাইন্ডিংস ফরম সিপিডি সার্ভে’-র এক প্রবন্ধে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় গার্মেন্টস সেক্টরের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি বিষয়ক এই প্রবন্ধ তুলে ধরেন সিপিডির সহযোগী গবেষক অবীর খন্দকার।

মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি শীর্ষক এই প্রবন্ধে কারখানার অভ্যন্তরের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের পোশাক কারখানাগুলোয় পারিবারিক প্রাধান্য রয়েছে। কারখানাগুলোর অধিকাংশই দ্বিতীয় প্রজন্ম দ্বারা পরিচালিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসেছে তৃতীয় প্রজন্মও।

সিপিডির গবেষণা বলছে, ৬৫ শতাংশ গার্মেন্টস দ্বিতীয় প্রজন্ম দ্বারা পরিচালিত। ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের ৩ জন পরিচালকের মধ্যে দু’জনই একই পরিবারের। সেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো স্বাধীন পরিচালক নেই। একই সঙ্গে ৫৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান একই গ্রুপের ভিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দিচ্ছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশে ১৯ শতাংশ কারখানা গড়ে উঠেছে। তবে আশঙ্কার বিষয়, এর বড় অংশটিই ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত।

গবেষণায় কারিগরি উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ২১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। খুবই নিম্নমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। আর ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশে উন্নত প্রযুক্তি এবং ৩৮ শতাংশে মধ্যম ও বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। এছাড়াও, বিকেএমইএ’র চেয়ে বিজিএমইএ’র প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ পোশাক কারখানাগুলোর উন্নয়নে প্রযুক্তির অভিমুখী অবশ্যাম্ভাবী। এ উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মকৌশল ও ব্যবস্থাপনা হতে হবে শ্রমিকদের স্বার্থে। সামগ্রিকভাবে যে নীতি কাঠামো আছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে যেসব প্রণোদনা দেয়া হয় সেগুলোকে পুনর্বিবেচনা করা দরকার। যে উত্তরণ আমরা চাচ্ছি, সেই রূপান্তরের সঙ্গে এই নীতিগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না সেগুলো আরেকটু ভালো করে বিবেচনা করতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, পোশাক রফতানি বহুমুখীকরণের অগ্রগতি খুবই সীমিত। তবে একেবারেই যে নেই, তা নয়। বড় কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ছোট কারখানার ক্ষেত্রে তা একেবারেই কম। তবে পোশাক রফতানিতে গড় ‘লিড টাইম’ (পণ্য পরিবহণের বেঁধে দেয়া সময় বা নির্দিষ্ট সময়কাল) কমেছে।

জাহিদ হোসেন আরও বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে কারখানার আয়তন ও স্থান সম্পৃক্ত। সব কারখানায় প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটছে না। কারখানায় ব্যবস্থাপনা পরিচালনার ক্ষেত্রে খুব একটা উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের উৎপাদনশীলতা এখনও খুবই নিম্ন।

বিজিএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান বলেন, অনেক গার্মেন্টস পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে গেছে। মালিকানায় পরিবর্তন আসছে। শুধু দ্বিতীয় প্রজন্ম নয়, কোনো কোনো কোম্পানিতে তৃতীয় প্রজন্মও এসেছে। করপোরেট ম্যানেজমেন্ট শুরু হয়েছে। দিনে দিনে পরিবর্তন আসছে। ভবিষ্যতে মূলধনের জন্য আমাদেরকে শেয়ার মার্কেটেও যেতে হবে। এছাড়াও পোশাক রফতানি বাড়লেও বাইরে থেকে জনবল আমদানি কমেছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যেন টপ ম্যানেজমেন্টের কর্মী দেশেই গড়ে উঠে। দিনব্যাপী এই আলোচনায় কয়েকটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিপিডির বিভিন্ন গবেষকসহ পোশাক খাতের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ