ঢাকা, শনিবার 1 September 2018, ১৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারের ইভিএম ষড়যন্ত্র বঙ্গোপসাগরে ভেসে যাবে -----ড. মোশাররফ

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের চাপে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম ব্যবহার করতে আরপিও সংশোধন করছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকারের ইভিএম ষড়যন্ত্র বঙ্গোপসাগরে ভেসে যাবে। একই অনুষ্ঠানে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার গুমের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে চায়। 

বৃহস্পতিবার বিকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ দাবি করেন। আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে বিএনপি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

মোশাররফ বলেন, আরপিও সংশোধনে কমিশনের লোকজনই একমত নয়। আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে ছিলো না। তারপরও কমিশন এটা ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই।

একজন নির্বাচন কমিশনার ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও কমিশন ইভিএম ব্যবহারের জন্য আরপিও সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজনৈতিক দল না চাইলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না বলে জানিয়েছিলেন। সরকারের চাপ এবং কতটা বশংবদ হলে তারা নিজেরা নিজেদের কথাও রাখতে পারছে না।

গুম দিবসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ আন্তর্জাতিক গুম দিবস। সরকারের এটা পালন করার কথা। কিন্তু তাদের সেই মুখ নেই। কারণ তারা দীর্ঘদিন রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গুম করছে।

গুমের শিকার নেতাকর্মীদের স্বজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আর বেশিদিন কাঁদতে হবে না। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত দেশের মানুষ তাদের আর চায় না। নিরপেক্ষ সরকার, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, সেনা মোতায়েনসহ নির্বাচনে অংশ নেয়ার শর্তের কথা তুলে ধরে মোশাররফ বলেন, ‘আর পাতানো নির্বাচন হবে না। দেশের জনগণ তা হতে দেবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেও কোনো নির্বাচন হবে না।’

সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চান তাহলে আমাদের দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এমন আন্দোলন হবে যাতে সরকারের সব ষড়যন্ত্র বঙ্গোপসাগরে ভেসে যাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, কিছুদিন আগে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানের নামে, বন্ধুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যা করার খবর গণমাধ্যমে আসত। কিন্তু এখন সেইভাবে আসছে না। বাংলাদেশে মানুষ হত্যার ঘটনা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার গুমের মাধ্যমে লাখো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে চায় দাবি করে তিনি বলেন, সব ফ্যাসিস্ট সরকারই এমন করে মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিত। এরাও সেই পন্থা অবলম্বন করছে। বিএনপি আগামী দিনে সুযোগ পেলে গুম খুনের জন্য যারা দায়ী তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন দলটির এই শীর্ষ নেতা। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারের আন্তর্জাতিক গুম দিবস পালন করার সাহস নেই। কারণ তারা দেশকে অত্যাচার ও গুমের মহাসড়কে উঠিয়েছে।

সরকার গুম করে অন্যদের বোঝাতে চাচ্ছে তোমরা যারা কর্মসূচি পালন করো তোমাদেরও গুম করা হবে। কিন্তু এভাবে কত দিন? কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এই সরকারও পারবে না। আগামীতে সবসময় দল এবং ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে গুম হওয়া পরিবারের স্বজনদের পাশে থাকার কথাও বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, ডা. সায়ান্ত সাখাওয়াত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময় গুম হওয়া বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ