ঢাকা, শনিবার 1 September 2018, ১৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত

খুলনা অফিস : খুলনার কয়রা উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক লোকের নিরাপদ চিকিৎসা সেবার একমাত্র সরকারি সেবা কেন্দ্র কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। স্বল্প সংখ্যক জনবল নিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি আজো। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬৪ সালে নির্মিত ৩১ শয্যার এ হাসপাতালটি ২০০৪ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও কাঙ্খিত সেবা দেয়ার মতো সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি। শুরু থেকেই এর প্রধান সমস্যা জনবল সংকট। নার্স, ওয়ার্ডবয়, সুইপার থেকে শুরু করে জরুরি বিভাগে স্বাস্থ্য সহকারীর পদও শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। জানা গেছে, প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এখানে যোগদানের পরই সবাই অন্যত্র বদলি নেয়ার তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যে কারণে হাসপাতালটির চিকিৎসক সংকট কাটে না। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৭০টি পদের মধ্যে ৮০টি পদই শূন্য রয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন কনসালটেন্ট এর মধ্যে ১ জন এবং ১জন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসক নেই এ্যানেসথিয়া, সার্জারি, গাইনি, শিশু, ইএনটি, অর্থো, কার্ডিও, চক্ষু, ও চর্ম বিভাগে। এমনকি ইনডোর মেডিকেল অফিসার ও ইমাজেন্সি মেডিকেল অফিসারের পদটিও শূন্য রয়েছে। এছাড়া ৪টি সিনিয়র ষ্টাফ নার্সের পদও রয়েছে খালি। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আয়া হিসেবে দু’জনের পদ থাকলেও একজনও নেই এখানে। বিভিন্ন পদে প্রথম শ্রেণীর ২৯ জনের অনুকূলে রয়েছেন ৭ জন। বাকি ২২টি পদ শূন্য দীর্ঘদিন থেকে। ২য় শ্রেণীর ১৯ জনের অনুকুলে রয়েছেন ১৫ জন। বাকি ৪টি পদ শূন্য। ৩য় শ্রেণীর ১২২ জনের অনুকূলে রয়েছেন ৬৮ জন। বাকি ৫৪টি পদ শূন্য। ৪র্থ শ্রেণীর ২২ জনের অনুকূলে রয়েছেন ৮ জন। বাকি ১৪টি পদ শূন্য দীর্ঘদিন থেকে। 

আক্ষেপ করে কর্মরত একজন নার্স নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, এমনিতে চিকিৎসক নেই। তার উপর নার্সেরও সংকট রয়েছে। আমাদের অনেক কষ্ট করে সেবা দিতে হচ্ছে রোগীদের। তিনি বলেন, আয়া না থাকায় ব্যাঘাত ঘটছে কাজে। অতিদ্রুত আয়া পদগুলো পূরণ করা দরকার। 

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজাত আহম্মেদের সাথে। তিনি জানান, শূন্যপদে জনবল নিয়োগের জন্য গত ১০ আগষ্ট খুলনা সিভিল সার্জন বরাবর প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। চিকিৎসক না থাকলে সেবায় ব্যাঘাত ঘটে। ইচ্ছে থাকলেও পুরোদমে রোগীদের পাশে থাকা যায় না। তবে এলাকার সুধীজনেরা এ মুহূর্তে স্বাস্থ মন্ত্রীর মাধ্যমে অবহেলীত কয়রার জায়গীর মহলে ৫০ শয্যা হাসপাতালের শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ