ঢাকা, শনিবার 1 September 2018, ১৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার নিয়ে উদ্বেগ কমাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দূতাবাসের চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার : মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারের হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি প্রতিবেদন  ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মো. সায়েদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত  গত ২৭ আগস্ট পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু মিডিয়া ‘মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ’ বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছে। প্রকৃতপক্ষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়নি। এদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই উভয় সরকারের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উভয় সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিতে চলমান এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য মালয়েশিয়া সরকার সিনারফ্লেক্স এসডিএন-বিএইচডি নামের সেদেশের একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়। মালয়েশিয়া সরকারের প্রস্তাবিত ১০টি  এজেন্সির মাধ্যমে এই রিক্রুটিং কার্যক্রম চলমান আছে। গত ৯ মে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার আরও সুশৃঙ্খল রাখার জন্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে ১৪ আগস্ট মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এক প্রেস ব্রিফিং করেন।
এতে বলা হয়, ‘প্রেস ব্রিফিংয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী এবং মানবসম্পদ মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বর্তমানে নিয়োজিত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি সৃষ্ট মনোপলির পরিবর্তে অধিক সংখ্যক বা সব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান। এছাড়া, কর্মী প্রেরণকারী সব দেশ থেকে একই পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করা হবে বলে জানান। আরও  জানানো হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে যেমন সমঝোতা স্মারক রয়েছে, নেপালসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও মালয়েশিয়া একই ধরনের সমঝোতা স্বাক্ষর করবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া সরকারের নতুন চিন্তাভাবনাকে পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে সিনারফ্লেক্স কোম্পানির (এসপিপিএ) সিস্টেম ১ সেপ্টেম্বর থেকে অকার্যকর হবে বলে গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সিনারফ্লেক্সের নির্বাহী পরিচালককে জানানো হয়েছে। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছেÍ পরবর্তী কার্যক্রম উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আলোকে নির্ধারিত হবে। অন্য সব দেশের কর্মী নিয়োগেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু মিডিয়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করছে। প্রকৃতপক্ষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়নি। এদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই উভয় সরকারের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ