ঢাকা, শনিবার 1 September 2018, ১৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মরণব্যাধী ক্যান্সারের ওষুধ উদ্ভাবনের দাবি ॥ বাংলাদেশী তরুণ বিজ্ঞানী আবু সালেহ’র

স্টাফ রিপোর্টার: মরণব্যাধী ক্যান্সারের ওষুধ উদ্ভাবনের দাবি করেছেন বাংলাদেশী তরুণ বিজ্ঞানী আবু সালেহ। তার আবিস্কৃত ক্যান্সারের ওষুধটি BCSIR কর্তৃক পরীক্ষিত এবং cytotoxicity cell line এর Ic50 value of 5.73ug/ml; আবু সালেহ্র দাবি এটাই তার ক্যান্সারের মূল আবিষ্কার। যা বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া এই Acute Toxicity তথা আবিষ্কৃত ক্যান্সারের ওষুধটির কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে কিনা তারও পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে ওষুধটি সম্পূর্ণরুপে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ামুক্ত। BCSIR কর্তৃপক্ষও ওষুধটি ইঁদুরের উপর প্রয়োগ করে রির্পোট করেছেন বলে জানান তিনি।

ক্যান্সার মূলত: টিউমার হতে সৃষ্ট তবে ১/২টি ব্যতিক্রমও দেখা যায়। টিউমার হলো দেহে অতিরিক্ত টিস্যুর জন্ম/বৃদ্ধি ঘটা। টিউমার হতে সৃষ্ট ব্রেষ্ট ক্যান্সার, সারভিক্যাল ক্যান্সার, কোলোরেকটাল ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, লিভার ক্যান্সার, লাং ক্যান্সার, লাইমফোমা, মেলানোমা, মাল্টিপেল মাইওলোমা, মাইলোপ্রোলিফেরাটিভ নিউ প্লাজম্স, ওভারেইন ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার, প্রোষ্টেট ক্যান্সার, টেষ্টিকোলার ক্যান্সার, থাইরয়েড ক্যান্সারসহ সব ধরনের ক্যান্সারই তার উদ্ভাবিত ওষুধে শতভাগ কার্যকর বলে দাবি আবু সালেহর। তিনি বলেন, তার ওষুধ গ্রহণের ৭ হতে ১০ দিনেই এর কার্যকারিতার প্রমাণ প্রকাশ পায় এবং ৪ হতে ৬ মাস নিয়মিত গ্রহণে ক্যান্সার সম্পূর্ণরুপে সেরে যায় এবং টিউমারটি ধীরে ধীরে শরীরে মিলিয়ে যায়।

উদ্ভাবক জানান, তার উদ্ভাবিত ক্যান্সার ওষুধটি এলোপ্যাথি কিংবা হারবাল উভয় ফর্মূলাতেই করা যায়। একইসাথে মুমুর্ষু রোগীদের জন্য IVM ইঞ্জেকশন ও শিরা পথে ইঞ্জেকশন তৈরীর প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করেছেন। উদ্ভাবিত ওষুধটি এলোপ্যাথি কিংবা হারবাল যে কোন ফর্মূলাতেই করা হোক না কেন সকল ক্ষেত্রে একই রকম কার্যকারিতা পাওয়া যবে। 

বিজ্ঞানী জানান, তার উদ্ভাবিত ক্যান্সার ওষুধটির মূল উপাদান সেপোনিন। সেপোনিন হলো প্রাকৃতিক গ্লাইকোসাইডস গ্রুপের একটি উপাদান। এটি প্রায় ১০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে পাওয়া যায়। এবং প্রায় ১৫০ প্রকার প্রাকৃতিক সেপোনিন রেেয়ছে আর প্রত্যেকটির মাঝেই কম বেশী এন্টি ক্যান্সার প্রপারটি রয়েছে তবে মাত্র দুই প্রকার উপাদানে উচ্চ মাত্রায় এটি ক্যান্সার প্রপারটি রয়েছে। কিন্তু এই উপাদান দুটোকে সরাসরি মানবদেহে প্রবেশ করানো যায়না- কয়েকটি ধাপে ফর্মূলেশানের মাধ্যমে একে মানবদেহের জন্য উপযোগী করা হলে তবেই এটি এন্টি টিউমার/ এন্টি ক্যান্সার ঔষধ হিসেবে কাজ করে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। তেমনি Dry Gangrene I Wet Gangrene (দেহে পঁচন ধরা) রোগের ক্ষেত্রেও একই। এই রোগটিও নিরাময় হতে ৪ হতে ৬ মাস সময় লাগে এবং ক্যান্সারের মতো এটিও একটি সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য রোগ। আক্রান্ত স্থান কেটে ফেলতে হবে না। 

আবু সালেহ্ তার উদ্ভাবিত উপাদানগুলোকে আলাদা আলাদা করে ইঁদুরের উপর প্রয়োগ করে তাদেরকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেন এবং আশানুরুপ ফলাফল এলে সেই উপাদানগুলোকে প্রয়োজনীয় মাত্রায় সমন্বয় করে ইঁদুরের উপর পুন:প্রয়োগ করে তাদের পর্যবেক্ষন করেন এবং এবার যখন তা কার্যকর রূপে প্রমাণিত হয় তখন তিনি তা BCSIR (সাইন্সল্যাব) এর ফার্মাকোলজী বিভাগে পাঠান ফাইনাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। BCSIRকর্তৃক রিপোর্ট পাওয়ার পরই তা সরাসরি মানবদেহে প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত বলে স্থির করেন। 

৪৭ বছর বয়সি মো: আবু সালেহ নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। পদার্থ বিজ্ঞানে তার আবিষ্কৃত দুইটি বিষয়ের প্যাটেন্টও নিয়েছেন যার নম্বর যথাক্রমে ১০০৫৩৪৫ এবং ১০০৫৪৮৪। তিনি পেশায় একজন বিএসসি (মেকানিক্যাল এন্ড প্রডাকশন) ইঞ্জিনিয়ার। দীর্ঘদীন গাজীগ্রুপে কনসালটেন্ট (টেকনিক্যাল এন্ড ডেভলপমেন্ট) ছিলেন। এরপর একটি ফুড সাপ্লিমেন্টারী গবেষনা প্রতিষ্ঠানে চীফ ফুড রিসার্চার হিসেবে চাকুরি করেন। বর্তমানে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজেস্ব গবেষণাগারে গবেষণা করছেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ