ঢাকা, শনিবার 1 September 2018, ১৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২০ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাইকগাছায় কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার জট খুলছে

খুলনা অফিস: খুলনার পাইকগাছায় আলোচিত সুপর্ণা আত্মহত্যার জট খুলতে শুরু করেছে। গ্রামের ৬ যুবক ও দুই ইউপি সদস্যের প্ররোচনায় এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। উপজেলার খড়িয়া ঢেমসখালী গ্রামের মঙ্গল চন্দ্র মন্ডলের কলেজ পড়ুয়া কন্যা সুপর্ণা শনিবার ভোরে বিষপান করে আত্মহত্যা করে।
এলাকাবাসী জানায়, খড়িয়া খালধার গ্রামের কবির সানার ছেলে ইনজাম (২১) এর সাথে খড়িয়া ঢেমসাখালীর মঙ্গল চন্দ্র মন্ডলের কলেজ পড়ুয়া কন্যা সুপর্ণার প্রেমজ সম্পর্ক ছিল। সুপর্ণা বিষপানের আগের দিন শুক্রবার তার পিতা-মাতা অন্যত্র বেড়াতে যাওয়ার সুযোগে প্রেমিক ইনজাম রাত ১১টার পর মোটরসাইকেলযোগে তাদের বাড়িতে যায়।
এদিকে, একই গ্রামের কালিপদ মন্ডলের ছেলে অভিজিত, খগেন সরদারের ছেলে প্রসেনজিত, মৃত অনন্ত সরদারের ছেলে বিশ্বজিত, রনজিত সরদারের ছেলে সুপদ, কৃষ্ণপদ মন্ডলের ছেলে নন্দলাল ও ঘের কর্মচারী উত্তম ইতোপূর্বে ওৎ পেতে বসেছিল। ইনজাম বাড়ির ভেতর ঢুকে ঘরে প্রবেশ করার সাথে সাথে ওই ৬ যুবক বাড়ির ভেতর ঢুকে সুপর্ণার ঘর থেকে ইনজামকে ধরে বারান্দায় এনে চেয়ারের সাথে হাত ও পা বেঁধে মারপিট করে এবং তার নিকট থাকা ২৬ হাজার টাকা মূল্যের ওয়ান প্লাস ওয়ান মোবাইলফোন ও ৫ হাজার টাকা মূল্যের স্যামসাং মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় তাদের চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন চলে আসে।
এরপর তারা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রকাশ মন্ডল ও রফিকুলকে মোবাইলফোনে ডেকে আনে। ইউপি সদস্য রফিকুল আটক ইনজামের চাচা নূর নবী সানাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় দু’ইউপি সদস্য রফিকুল ও প্রকাশ মন্ডল আলোচনা সাপেক্ষে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে ইনজামকে নিয়ে চলে যায়।
অপরদিকে, সুপর্ণা পরের দিন শনিবার ভোরে বিষপান করে। তার বাড়ির লোকজন টের পেয়ে সাথে সাথে তাকে পাইকগাছা হাসপাতালে ভর্তি করে এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্তের পর সুপর্ণার পরিবার তার দেহের সৎকার করে।
এলাকাবাসী জানায়, ৬ যুবক সুপর্ণার সামনে ইনজামকে ধরে চেয়ারে বেঁধে মারপিট করার কারণে সে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এর সুবিচার হওয়া উচিত।
ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে ছেলে ইনজামকে সঙ্গে করে নিয়ে আসি। মেয়ে তার ঘরেই ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ