ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দুরদর্শীতার অভাবে রাজধানীতে যানজট, টাকার অভাবে নয়

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জিত হলেও মানসম্পন্ন গণপরিবহনের অভাবে রাজধানীবাসীর জীবনযাত্রার মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে রাজধানীতে বিদ্যমান থাকা আট হাজার গণপরিবহনের (বাস) ফিটনেস নেই। এই যানবাহনগুলোকে আধুনিক যানবাহনের মাধ্যমে পুরোপুরিভাবে পরিবর্তন করতে হবে। ২০০৩ সালে যেভাবে টু-স্ট্রোক অটো রিকশার পরিবর্তে সিএনজিচালিত অটো রিকশার ব্যবহার শুরু হয়েছিল।

রাজধানীর যানজট বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর ইউএনবি’র সাথে আলোচনায় নগরায়ন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরওয়ার জাহান, বুয়েট অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসাইন এবং স্থপতি ইকবাল হাবিব এসব মতামত দেন।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে চলাচলকারী বাসগুলোকে গ্রহণযোগ্য মানের হতে হবে। রাস্তায় চলাচলকারী বিদ্যমান বাসগুলো ন্যূনতম মানের চেয়েও খারাপ। জনগণকে প্রাইভেট যানবাহনের উপর নির্ভরতা দূর করতে আরামদায়ক এবং যাত্রীবান্ধব গুণগতমান সম্পন্ন বাস নামাতে হবে।

ঢাকাকে জনবহুল সিটি উল্লেখ করে এ নগর বিশেষজ্ঞ বলেন, ডাবল ডেকার বাসগুলো এ সমস্যার সমাধানে কার্যকারী ভূমিকা রাখতে পারে এবং বিদ্যমান সড়কের সর্বোত্তম ব্যবহার হবে।

অধ্যাপক নজরুল আরো বলেন, যতো দ্রুত সম্ভব সরকারকে ৫/৬টি কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যমান রুটগুলোতে বাস নামাতে হবে। যানবাহনগেুলো অল্পসংখ্যক কোম্পানির কাছে থাকলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।

সরকারের একটি জরিপ তুলে ধরে স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, ২০১৭ সালে রাজধানীতে ছয় হাজার ৯০০টি বাস চলাচল করছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ বাসই রাজধানীতে চলাচলের উপযোগী নয়।

‘মাত্র দুই হাজার ৬০০ বাস চলাচল উপযোগী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অববশিষ্ট চার হাজেরও বেশি বাস চলাচলের অনুপযোগী। এটা সরকারের জরিপ, আমার মতামত নয়।’

তিনি বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক প্রথম ধাপে রাজধীতে তিন হাজার আধুনিক ও মানসম্পন্ন বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পরে সেই উদ্যোগও থেমে গেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনেরও যুগ্ম সম্পাদক হাবিব। তিনি বলেন, বিদ্যমান বাসগুলোর পরিবর্তে আধুনিক বাস নামানোর জন্য বাম কোম্পানি বা মালিকদের সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাক্স মওকুফ এবং ঋণ সহায়তা দেয়া যেতে পারে।

সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজধানীতে আধুনিক বাস চলাচল সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা অতিতেও এটা করতে পেরেছি। ২০০৩ সালে সমস্ত টু-স্ট্রোক অটো রিক্শার পরিবর্তে রাজধানীতে একযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নামানো হয়েছিল।

রাজধানীর বাসগুলো শিশু থেকে বয়স্ক সব ধরনের মানুষের উপযোগী হবে উল্লেখ করে হাবিব বলেন, কিন্তু বর্তমানে রাজধানীতে চলাচলকারী বাসগুলো সবধরনের যাত্রীবান্ধব নয়।

পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, রাস্তার ওপর চাপ কমিয়ে নিরাপদ এবং সহজে যাতায়াতের জন্য পানি পথ ও মেট্রোরেলের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, রাজধানীতে চলাচলকারী বাসগুলোই শুধু আনফিট নয়, এসব বাস চালকরাও অযোগ্য। রাজধানীর প্রত্যেক নাগরিকের গুণগতমানের বাসে চলাচলার অধিকার রয়েছে।

প্রায় দুই শতাধিক বাস কোম্পানির বাস রাজধানীতে চলাচল করাকে অদ্ভূত আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যাত্রীদের জন্য কেন এসি বাস নেই? রাজধানীতে লেগুনার মতো যানবহনগুলো কেন চলে?

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এ অধ্যাপক আরো বলেন, রাজধানীতে গুণগত মানের বাস সেবার পাওয়ার জন্য মানসম্পন্ন বাস, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল চালক, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং মালিক বা কোম্পানির জন্য বাসরুট ও বাসের টার্মিনাল নির্দিষ্ট করে দেয়া।

ড. সরওয়ার জাহান বলেন, একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে রাজধানীতে চলাচলকারী বিদ্যমান বাসগুলোকে আর চলাচল করতে দেয়া যায় না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।-ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ