ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

'ভারতের সংবিধান সংশোধন ছাড়া  ৩৫-এ ধারায় পরিবর্তন সম্ভব নয়'

 

১ সেপ্টেম্বর, পার্সটুডে : ভারতের সংবিধান সংশোধন ছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বা ৩৫-এ ধারা সংশোধন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নববালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার। আরএসএস সমর্থিত এক বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে ৩৫-এ ধারা বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর পর থেকে ওই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ৩৫-এ ধারার বলে কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারা কিছু বিশেষ সুবিধা ভোগ করে থাকেন। গতকাল শনিবার এ ব্যাপারে তিনি রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘৩৭০ বা ৩৫-এ ধারা সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটা পরিবর্তন করতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এগুলো নতুন কিছু নয়, মাঝেমাঝেই তারা (আরএসএস-বিজেপি) নতুন কিছু বিষয়কে সংযোজন করে মানুষের মনকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চায়। তবে এটা খুব সহজ কাজ নয়। তারা যতই এসব কথা বলুক না কেন পাল্টা প্রতিরোধও ততটাই হবে। ভারত বেঁচে আছে তার অভ্যন্তরীণ শক্তি, বৈচিত্র ও মতভিন্নতার উপরে। ভারত বেঁচে আছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একতার উপরে। ফলে বিষয়টি এত সহজ নয়।’তিনি বলেন, ‘আরএসএস-বিজেপি এসব নিয়ে চেষ্টা করেই যাচ্ছে, এটা নতুন কিছু নয়। ওরা আগেও চেষ্টা করেছে, এখনো চেষ্টা করছে এবং  ভবিষ্যতেও তারা ওই চেষ্টা করে যাবে। ওদের লক্ষ্যই সেটা। গোলওয়ালকারের ‘এ বাঞ্চ অব থটস’-এ যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে তা হল ‘হিন্দি, হিন্দু ও হিন্দুত্ব’। ষাটের দশকে দক্ষিণভারতে ভাষার প্রশ্নে যে আন্দোলন, লড়াই হয়েছিল, তারা কী সফল হয়েছে? হয়নি তো। ফলে এ লড়াই থাকবেই। তারা যত ওই কথাগুলো বলবে, মানুষ জানবে বিষয়টা কী, কেন, কোন প্রশ্নে, কি কারণে, কোন সময়ে কাশ্মিরের ভারতভুক্তি হয়েছিল। কেন ৩৭০ ধারা ধারা সংযোজন করা হয়েছিল, কেনই বা সংবিধানের ৩৫-এ ধারা, মানুষ তা জানবে। এসব প্রশ্ন যত উঠবে মানুষ তত জানবে এবং মানুষের কাছে বিষয়টা পরিষ্কার হবে। এক্ষেত্রে বিজেপি’র মিথ্যার ফানুস কেটে মানুষ সত্যের পথে এগোবে। মানুষ যত এসব বিষয় জানবে ততই বিজেপি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নানান প্রশ্ন তৈরি হবে। বিজেপির আসল রূপ মানুষ বুঝতে পারবে।’প্রসঙ্গত, ৩৫-এ ধারা প্রসঙ্গে এরআগে জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহ এমপি বলেছেন, ‘সংবিধানের ৩৫-এ ধারা রক্ষার জন্য শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। কবরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চলবে।’তিনি বলেন, ‘ওদের কেবল কাশ্মীরের কথা মনে আসে, হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের কথা নয়।’জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ অবশ্য বলেছেন, ‘৩৫-এ ধারা কার্যকর রেখে জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ অক্ষুণœ রাখা হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু করতে হলে ভারতে জম্মু-কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও বিতর্ক শুরু করতে হবে।’পিডিপি নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, ‘৩৫-এ ধারা তুলে নেওয়া হলে উপত্যকায় ভারতের জাতীয় পতাকা তোলার মতো আর কেউ থাকবে না।’কিন্তু বিজেপি মুখপাত্র বীরেন্দ্র গুপ্তার দাবি, ৩৫-এ ও ৩৭০ ধারা কোনো ‘পবিত্র গাভী’ নয় যে, হাত দেয়া যাবে না। ৩৫-এ ধারা অনুযায়ী, রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া কেউ সেখানকার সম্পত্তি বেচাকেনা করতে পারেন না। স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সরকারি চাকরি সংরক্ষিত। কোনো কাশ্মীরী নারী অন্য রাজ্যের কাউ কে বিয়ে করলে তিনি রাজ্যে বিষয়-সম্পত্তির মালিকানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ