ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তফসিল ঘোষণার আগেই ক্ষমতাসীন সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে

গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ছবি : আজিজ ফারুকী

# অবিলম্বে খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিতে হবে ---মির্জা ফখরুল
# গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য আন্দোলনের প্রস্তুুতি নিন --ড. মোশাররফ
# আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না ---ব্যারিস্টার মওদুদ
# আওয়ামী লীগের পতনঘণ্টা বেজে গেছে ---মির্জা আব্বাস
# লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া কিসের নির্বাচন? ---রিজভী
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সরকারকে পদত্যাগ, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে আবারো দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলেন, এখন আর বসে থাকার সময় নেই। মার খাওয়ারও সময় নেই। প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রতিরোধ করার সময় এসে গেছে। তারা বলেন, প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। একইসাথে দেশের জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই সরকার চাইলেই যে বিএনপি নির্বাচনে যাবে সেটি কে বললো? বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে যাবে। তবে তার আগে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সবার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই সমাবেশ হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফকিরের পুল থেকে শুরু করে কাকরাইল পর্যন্ত লম্বা সড়কটি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ব্যানার হাতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মিছিল মিছিলে সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দুপুর ২টায় শুরু হয়ে জনসভাটি শেষ হয় বিকাল সাড়ে ৫টায়। নেতা-কর্মীরা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই,’ ‘আমরা নেত্রী, আমার মা, বন্দী থাকতে দেবো না’, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না’, ‘তারেক রহমান বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে’ ইত্যাদি শ্লোগান দিতে থাকে। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে তার বিশাল প্রতিকৃতি সম্বলিত কয়েকটি ডিজিটাল ব্যানার টানানো হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দলের প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীমের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ নেতা সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, আমানউল্লাহ আমান, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, ফজলুর রহমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, রুহুল কবির রিজভী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, সালাউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা জেলার দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, টাঙ্গাইলের শামসুল আলম তোফা, মুন্সিগঞ্জের কামরুজ্জামান রতন বক্তব্য রাখেন।
অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ঢাকা মহানগরের কাজী আবুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, ছাত্রদলের রাজীব আহসানও বক্তব্য দেন। জনসভায় সিলেটের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয়, অঙ্গসংগঠন ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়াসহ কারাগারে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা বাতিল করতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ গ্রেফতার হওয়া দলের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিবে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমতল মাঠ প্রস্তুত করতে হবে। আর নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।  বিএনপির মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে। এ ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, জনগণ হতে দেবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজ আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনগণের দাবি আদায় করতে হবে। অপশাসনকে পরাজিত করতে হবে। জাতিকে মুক্তি দিতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাব, গণতন্ত্রকামী সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হোন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। দেশকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করুন। কারণ দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন এ সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় ঐক্য গঠনের জন্য। তাই আসুন সবাই ভেদাভেদ ভুলে একটি জাতীয় ঐক্য গঠন করে এ দানবকে পরাজিত করি।
জিয়াউর হমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে একদলীয় বাকশাল থেকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে বিএনপি গঠন করেছেন জিয়াউর রহমান। যেভাবে ১৯৭১ সালে জাতির ক্রান্তিকালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, আজ আবার সেই গণতন্ত্র সংকটের মুখে আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনের কারণে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহাসচিব বলেন, আমাদের আজ বুকে সাহস নিয়ে, বুকে বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আজকের জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে আজ বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বুকের রক্ত দিতে হবে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, দেশকে মুক্ত করতে হবে। যারা দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, তাদের রক্ত ছুয়ে শপথ নিতে হবে আমরা দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করব, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে সাজা দিতে চাইছে। রায়ের আগে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে দিচ্ছেন, এ মামলায় তারেক রহমানের সাজা হবে। তাহলে কি আপনারা আগেই গণভবনে রায় লিখে রেখেছেন। মনে রাখবেন, কোনো ষড়যন্ত্রের রায় দেশের জণগণ মেনে নিবে না। তিনি বলেন, আপনারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করেছেন। তিনজন আইও পরিবর্তন হওয়ার পরে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পরে নতুন করে তদন্ত করিয়েছেন। মুফতি হান্নানকে দিয়ে একটা মিথ্যা ১৬৪ করে তারেক রহমান সাহেবকে আসামী করেছেন। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই এই ধরনের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না এবং দেশের মানুষ এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে। সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় আপনাদের নিতে হবে। দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। আমাদের কথা পরিষ্কার, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতেই হবে।
দেশের তরুণ প্রজন্ম ক্ষমতাসীনদের সাথে নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আগে আওয়ামী লীগ দাবি করত তাদের সঙ্গে তরুণ সমাজ আছে। কিন্তু এখন এই তরুণ-যুবকরা চায় এই দুঃশাসনের পাথর যেন তাদের বুকের ওপর থেকে সরে যায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। জনগণ এখন তাদের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা নেমেছিল। আপনারা দেখেছেন কীভাবে তাদের হেলমেট পরে নির্যাতন করা হয়েছে। রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
উসকানির অভিযোগে ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহিদুল আলম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন শিল্পী। তাকে গ্রেফতার করে মারতে মারতে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় আতঙ্কে থাকে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করে এই যে বিএনপি আইলো, এই যে তারেক রহমান আইলো। তারা স্বপ্নেও এসব চিন্তা করে লাফ দিয়ে উঠে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে সরকারের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকারের মধ্যে এখন বিএনপি ভীতি কাজ করছে। এই ভীতি থেকে বাঁচার জন্য তারা ইভিএম নিয়ে আসছে। তিনি বলেন, যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন কোন কিছুতেই এবার কাজ হবেনা। বিএনপি মহসচিব গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানান।
খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। আমি জনগণের কাছে ফরিয়াদ করতে চাই, দেশনেত্রী আজ গণতন্ত্রের জন্য কারাগারে রয়েছেন। স্বামী হারিয়েছেন, পুত্র হারিয়েছেন, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন এক পুত্র নির্বাসিত। তার কী এটা প্রাপ্য এই জাতির কাছে? আজকে আপনাদেরকে বুকে সাহস নিয়ে, বুকে বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে- আমাদের মাতা গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রীকে আমরা আর কারাগারের অন্তরালে দেখতে চাই না। সরকারকে বলতে চাই, দেশনেত্রীকে অবিলম্বে মুক্ত করুন, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সব দায় দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যের সমাপ্তিতে ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দাও, মুক্তি দাও’ ‘সকল মিথ্যা মামলা, প্রত্যাহার করতে হবে, করতে হবে’ সরকারের পদত্যাগ করতে হবে করতে হবে’, ‘নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে করতে হবে’- এইসব শ্লোগার ধরে নেতা-কর্মীদের শ্লোগান দিতে বলেন।
কারাগারে বন্দী বিএনপির আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বারর, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, মাহবুবুল হক নান্নু, যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মামুন হাসান, ছাত্র দলের খন্দকার এনামুল হকসহ সকল আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান ফখরুল। একই সঙ্গে জনসভা উপলক্ষে  শুক্রবাররাতে নেতা-কর্মীদের বাসা-বাড়িতে পুলিশি তল্লাসীর নিন্দা জানান তিনি। জনসভা সফল করার জন্য কারাবন্দী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছার কথা নেতা-কর্মীদের প্রতি জানান বিএনপি মহাসচিব।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীদের কাছে আবেদন, আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হোন। আন্দোলন ছাড়া, দেশনেত্রী মুক্ত হওয়া ছাড়া, মাদার অব ডেমোক্রেসির মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্ত হবে না এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না। আন্দোলনের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য আমি প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আপনাদের বলতে চাই, নির্বাচনের আগে আপনারা অতীতের কথা ভুলে গিয়ে নিরপেক্ষ হয়ে যান, ভালো হয়ে যান। এদেশের মানুষ আপনাদের থেকে আশা করে নির্বাচনের আগে তফসিল ঘোষণার আগে অথবা পরে এদেশে যারা অর্থ লুট করেছে, ব্যাংক লুট করেছে, শেয়ার বাজার ডাকাতি করেছে এই সকল ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী। প্রজাতন্ত্রের সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারি যে যে বিভাগে থাকেন না কেনো তাদের আমরা বলতে চাই, এই সকল চিহ্নিত ব্যক্তিরা যাতে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে না পারে তার ব্যবস্থা আপনাদের গ্রহণ করতে হবে। যারা মালয়েশিয়া, কানাডায় সেকেন্ড হোম করেছে তাদের নাম আপনারা জানেন তাদের আপনারা চিহ্নিত করুন।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি, কারণ দলের চেয়ারপার্সন কারাগারে। আওয়ামী লীগ বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি করেছিলো। জিয়াউর রহমান সেই শূন্যতাপূরণ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, জিয়াউর রহমান সেখানে সফল হয়েছেন, সেজন্য বিএনপিকে তারা এত ভয় পায়। যার প্রমাণ আজকের জনসভাও। এ সভা আজ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে বলতে চাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নেত্রীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার দেশনেত্রীর মুক্তি আটকিয়ে রেখেছে। আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি সম্ভবপর নয়। একমাত্র পথ হচ্ছে রাজপথ। এজন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে নির্বাচনের দিকে এগুতে হবে। আমাদের আন্দোলন হবে আমাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য, সংসদ ভেঙে দেয়ার জন্য, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে জন্য।
নতুন প্রজন্ম আর কোনোদিন আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে না উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, ১১ এপ্রিল পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন কোটা পদ্ধতি তুলে দিলাম। দুই মাস যেতে না যেতেই ২৭ জুন একই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন কোটা পদ্ধতি থাকবে। কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর যে অত্যাচার, জুলুম করা হয়েছে, এর ক্ষোভ কোনোদিন তাদের মন থেকে মুছে যাবে না। একই কাজ করা হয়েছে নিরাপদ সড়কের দাবি করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের দাবি যুক্তিযুক্ত বললেও পরে তাদের ওপর চালিয়েছে স্টিম রোলার। অনেককে মামলা দিয়েছে। এর মাসুল সরকারকে দিতে হবে। নতুন প্রজন্ম আর কোনোদিন আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে না।
সড়ক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম বুলগেরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একটি বাসের ১৭ জন যাত্রী মৃত্যুবরণ করেছে। এতে সেখানকার তিনজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আগেরকার কথা বাদ দিলাম, এই গত ঈদের সময় থেকে ২৫৯ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে। প্রতিদিন ২০ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। এ জন্য আমি সড়ক, পরিবহন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছি।
মির্জা আব্বাস বলেন, শুক্রবার রাতে বাসা-বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েও আপনারা জনসভার জন¯্রােত রুখতে পারেননি। এই জনসভা আপনাদের পতন ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছে। সরকারকে বলতে চাই, এখনো সময় আছে সাবধান হোন। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও এরশাদ ছাড়া এদেশের সকল মানুষ চায়। এই এরশাদ গৃহপালিত বিরোধী দল নয়, হিজড়া। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে। আমি বলব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের পথে আসুন, গণতন্ত্রের পথে যারা যাবে তাদের বাধা দেবেন না।
সদ্য উচ্চতর আদালত থেকে জামিন পাওয়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভয়ভীতি করে ক্ষমতায় থাকার নীল নকশায় ওরা ভরসা করতে পারছে না বলে এখন ইভিএমের ওপর ভর করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। আর অবৈধভাবে জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না।
নইলে গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য যে সুনামী আসবে তাতে ইভিএমসহ সব কিছু ভেসে যাবে। দেশের জনগন আজকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত হতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভোটের দরকার নাই, দরকার ক্ষমতার। ক্ষমতায় থাকলে লুট করা যায়। তিনি বলেন, কিসের নির্বাচন? দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা ছাড়া নির্বাচন হবে না। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না। রিজভী বলেন, সারাদেশের আকাশে বাতাসে আপনাদের পতনের আওয়াজ উঠেছে। প্রতিটি গাছের পাতায় পাতায় আপনার পতনের আওয়াজ উঠেছে। আপনাদের পতন অবশ্যম্ভাবী। কিন্ত আপনি টের পাচ্ছেন না।
দীর্ঘদিন আত্মগোপানে থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে এটা আমাদের জন্য বেদনার ও লজ্জার। উনি (শেখ হাসিনা) পারফিউম মেখে সেজে গুজে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াবেন- এভাবে দেশ চলতে পারে না। শেখ হাসিনাকে বলব, জনগণের আওয়াজ কী আপনি শুনতে পারছে না? এই আওয়াজ আপনার পতনের আওয়াজ। এই সরকারের নির্যাতনের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের লুটেরাদের বিরুদ্ধে পাড়ায়-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবানও জানান তিনি। সোহেলের বক্তব্যের সময়ে নেতা-কর্মীরা মুহুর্মুহুর করতালি দিয়ে তার বক্তব্য সমর্থন করে।
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বেতন কিন্তু আওয়ামী লীগ দেয় না। আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করবেন না। সময় কিন্তু ভালো নয়। ছাত্র ও জনতা প্রস্তুতি নিয়েছে।
জিয়ার মাজার জিয়ারত: এদিকে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতৃত্বে এসময় সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধানিবেদনের পর সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, এই জবরদস্তি অবৈধ সরকার দেশের মানুষের সমস্ত অধিকারগুলোকে হরণ করে দিয়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে দিয়েছে, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধবংস করে দিয়েছে। আজকে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আমাদের শপথ হচ্ছে এই দানব ফ্যাসিস্ট সরকারকে অপসারণ করে, এই দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, আমাদের লড়াই অব্যাহত রাখবো। ইনশাল্লাহ এই দিনে আমরা শপথগ্রহণ করছি, আমরা অচিরেই আমাদের সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সফল হবো
বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা, মানুষের অধিকারগুলোকে ফিরিয়ে দেয়া।
এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল আলম চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, আহমেদ আজম খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, মশিউর রহমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ফরহাদ হালিম ডোনার, তৈমুর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, হাবিবুর ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, নাজিমউদ্দিন আলম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আবদুল আউয়াল খান, আমিরুজ্জামান খান প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ড্যাবের একেএম আজিজুল হক, ঢাকা মহানগরের কাজী আবুল বাশার, ম্ুিক্তযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, এসএম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়ের, ইয়াছিন আলী, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, তাঁতী দলের আবদুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ছাত্রদলের আলমগীর হাসান সোহান, জাসাসের মামুন আহমেদ, হেলাল খান, বাবুল আহমেদ, জিয়া পরিষদের আবদুল কুদ্দুস, জিসাসের আবুল হাশেম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ছিলেন। এর আগে ভোরে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছয়টি রাজনৈতিক দল ও মতের অনুসারীদের এক মঞ্চে নিয়ে ‘জাতীয়তাবাদী দল’(বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। দলের ৪০ বছরের ইতিহাসে ৩৫ বছর ধরে দলের একটানা সাংগঠনিক নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাষ্ট মামলায় ৫ বছরের সাজায় খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড়ের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। চার বার ক্ষমতায় ও দুই বার বিরোধী দলের থাকা এই দলটির বিভিন্ন সময় নানা বাঁধা-বিপত্তির মুখেও পড়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের পর থেকে বিএনপি সংসদেও নেই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে পোস্টার ছাপানো হয়। লন্ডনে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক পৃথক বিবৃতিতে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ