ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যাংক মালিকদের নানা সুবিধা দিয়েও সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে ব্যর্থ সরকার

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : অধিকাংশ ব্যাংকের সুদ হার ডাবল ডিজিটেই রয়ে গেছে। ব্যাংক মালিকদের নানা সুবিধা দিয়েও সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। ব্যাংকগুলোর সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে সরকার বারবার তাগাদা দিলেও তা কার্যকর হয়নি। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জুলাই  থেকে সকল ব্যাংকের ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়। সে নির্দেশনার দুই মাস পার হয়ে গেলেও কয়েকটি সরকারি ব্যাংকসহ বেশিরভাগ ব্যাংকেই সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামেনি। নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে অধিকাংশ ব্যাংকই এখনো দুই অংকের সুদ হার বলবত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ, ব্যাংক পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) প্রতিশ্রুতির পরও এ হার ৯ শতাংশের মধ্যে আসেনি। বিভিন্ন ব্যাংককে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এখনো ব্যাংকগুলোতে ১২ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নেয়া হচ্ছে। ফলে সরকারকে এক প্রকার ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নিয়েছে ব্যাংক মালিকরা এমনটি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বাড়তে থাকে ঋণের সুদের হার। যত দিন যায় ব্যাংকগুলো বাড়াতে থাকে সুদহারের পরিমাণ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে সুদহার বেড়ে কোনো কোনো ব্যাংকে ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ব্যাংকগুলো দাবি করেছিল গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) সময়ে প্রচুর পরিমাণে ঋণ বিতরণ হওয়ায় ব্যাংকগুলো তহবিল সঙ্কটে পড়েছে। ফলে বেশি সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করায় ঋণের সুদের হারও বেড়ে গেছে। সে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, দেশের ৫৭টি তফসিলি ব্যাংকের সবগুলোতেই দুই অঙ্কের (ডাবল ডিজিট) সুদ গুনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এর মধ্যে শিল্প ঋণের বিপরীতে ১৫ শতাংশেরও বেশি সুদ নিচ্ছিল বেশ কয়েকটি ব্যাংক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এমন অবস্থা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে। তবে মার্চ মাসে এ হার আরো বেড়ে যায়। সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় শিল্পসহ সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে,  সে সময় সরকারি মালিকানার আটটি ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি দুই ধরনের ঋণে ব্যবসায়ীদের সুদ গুণতে হয় ১৩ শতাংশ হারে। একইহারে ব্যবসায়ীদের সুদ গুণতে হয় শিল্পের মেয়াদি, চলতি ও এসএমই ঋণের ক্ষেত্রেও। সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদ নেয় ১১ শতাংশ হারে। অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) সুদ নেয় ১১ থেকে ১২ শতাংশ হারে। তবে শিল্প ঋণের ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেশি হারে সুদ আরোপ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। কোনো কোনো ব্যাংক ২০ শতাংশেরও বেশি হারে সুদ আরোপ করে। যেসব ব্যবসায়ী ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন তাদের কেউ কেউ সুদ দিচ্ছিলেন ২২ শতাংশ পর্যন্ত। বেসরকারি অন্যান্য অধিকাংশ ব্যাংক এসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সুদ নিচ্ছিলেন ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ হারে। বড় উদ্যোক্তাদেরও দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি দুই ধরণের ঋণেই গুণতে হয়েছে সর্বোচ্চ ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ হারে।
ডিসেম্বর থেকে বাড়তে থাকা ঋণের সুদহার জানুয়ারিতেই দুই অঙ্কে উঠে আসে। এমতাবস্থায় সরকার প্রধান থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারকদের এখন মাথা ব্যাথার কারণ মাত্রাতিরিক্ত সুদহার। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণের সুদহার ঠিক করতে এবং ব্যাংকিং খাতে অর্থ সঙ্কট দূর করতে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় ব্যাংকের ঋণের সুদ হার এক অঙ্কে আনার তাগিদ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশের আলোকে অর্থমন্ত্রীও একাধিকবার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে এ হার কমানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসছে না।
এর অংশ হিসাবে চলতি বছরের ৩০ মার্চ (শুক্রবার) রাতে ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেখানে ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার বিষয়ে কিছু পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের অর্থসঙ্কট মেটাতে, সুদ হার কমানো এবং ডলার সঙ্কট কাটানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন থেকে সরকারি তহবিলের ৫০ শতাংশ অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা যাবে। বিদ্যমান সরকারি তহবিলের ৭৫ শতাংশ সরকারি ব্যাংকে এবং ২৫ শতাংশ অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা যায়। সঙ্কট নিরসনে ১ এপ্রিল (রোববার) আবারও বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাথে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষু (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে এক শতাংশ কমিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 
এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, সুদের হার কমানোর চেষ্টা করছি। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত ৫০ শতাংশ রাখা হবে। অর্থমন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জমা রাখা সিআরআর-এর ১ শতাংশ টাকা ব্যাংকগুলো ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর হাতে চলে আসবে। এতে তারল্য সংকট কমে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে সুদহার এক অঙ্কে নেমে আসবে।
সর্বশেষ গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুদের হার কমিয়ে ব্যাংকগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা আপনাদের উত্থাপিত সব সমস্যার সমাধান করেছি, এখন আপনাদের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সুদের হার না কমালে দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়। এটিকে অবশ্যই সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।
এব্যাপারে এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, সুদের হার বাড়লে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। আর উৎপাদন খরচ বাড়লে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। তখন দেশের বিনিয়োগও কমে যাবে। দেশের অথনৈতিক উন্নয়নে দ্রুত সুদহার কমানো দরকার। ব্যাংক ঋণে সুদের হার বেড়ে যাওয়া দেশের সামগ্রীক অর্থনীতির জন্য ভালো খবর নয়।
এরপরও ব্যাংকগুলো তাদের কথা রাখেনি। গত ডিসেম্বর থেকে বাড়তে থাকা ঋণের সুদহার এখনো কমেনি অধিকংশ ব্যাংকে। ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) পক্ষ থেকে ঘোষণা ছিল ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংক সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করবে। সরকারি ব্যাংকগুলোও এর বেশি সুদ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা আলাদাভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে জানিয়ে আসেন অধিকাংশ ব্যাংক জুলাই থেকে উৎপাদনশীল খাতে এক অংকের সুদে ঋণ বিতরণ শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া ব্যাংকগুলোর জুলাইয়ের প্রতিবেদনে এ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন নেই। জুলাইয়ে উৎপাদনশীল খাতে দুই অংকে সুদ নিয়েছে ৪৩টি ব্যাংক।
জানা গেছে, জুলাই পর্যন্ত  ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৪টি ব্যাংকের শিল্পঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমেছে। বাকি ৪৩টি ব্যাংকে সুদহার ডাবল ডিজিটেই রয়ে গেছে। এদিকে শিল্প ঋণের সুদহার কিছু ব্যাংকে কমলেও এর বিপরীতে বিভিন্ন চার্জ, ফি বা কমিশনের মিলে সুদহার ডাবল ডিজিটেই থাকছে।
সূত্র জানায়, গত ২০ জুন ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) এক বৈঠকে ১ জুলাই থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দেয়া হয়। পরে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিরা আলাদাভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানান, অধিকাংশ ব্যাংক জুলাই থেকে উৎপাদনশীল খাতে এক অঙ্ক সুদে ঋণ বিতরণ শুরু করেছে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ ব্যাংক তা কার্যকর না করায় পরে ২ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গভর্নরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানেও জানানো হয়, অধিকাংশ ব্যাংক উৎপাদনশীল খাতে সুদহার এক অঙ্কে নামিয়েছে।
সর্বশেষ গত জুলাই মাসের বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক জুলাইয়ে শিল্পের মেয়াদি ঋণে সুদ নিয়েছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। শিল্প খাতের চলতি মূলধন ঋণ বিতরণ করেছে ১৩ শতাংশ সুদে। আর বাণিজ্যি ( ট্রেড ফাইন্যান্স) ঋণে ১৩ শতাংশ সুদ নিয়েছে। শুধু বেসিক ব্যাংক নয়, বিডিবিএল শিল্প ঋণ বিতরণ করেছে ১২ শতাংশ সুদে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর চিত্র এর চেয়ে আরও খারাপ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাইয়ে ব্যাংক এশিয়া বড় ও মাঝারি শিল্পের মেয়াদি এবং চলতি মূলধন ঋণে সুদ নিয়েছে সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ। এছাড়া বাণিজ্য (ট্রেড ফাইন্যান্স) ঋণে সুদ নিয়েছে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ। একই ভাবে এবি ব্যাংক বাণিজ্য ঋণে সুদ নিয়েছে ৯ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। ব্র্যাক ব্যাংক শিল্পে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ডাচ্-বাংলা ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ফারমার্স ব্যাংক ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ, আইসিবি ইসলামিক ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ, যমুনা ব্যাংক সাড়ে ১৩ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংক ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক বাণিজ্যে সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ, মেঘনা ব্যাংক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, মধুমতি ব্যাংক সাড়ে ১১ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংক সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংক ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক সাড়ে ১১ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ, এনআরবি গ্লোবাল বাণিজ্যে ৯ থেকে ১৪ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, পূবালী ব্যাংক সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ, সাউথ বাংলা ব্যাংক বাণিজ্যে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড বাণিজ্যে ৯ থেকে ১২ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ এবং উত্তরা ব্যাংক বাণিজ্যে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ সুদ নিয়েছে। বিদেশি ৯টি ব্যাংকও শিল্প ও বাণিজ্যের কোনো ক্ষেত্রে ২ অঙ্কের সুদ নিয়েছে।
এদিকে ঋণে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকরে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর হচ্ছে বলে জানা গেছে। এটি বাস্তবায়নের প্রতিবেদন চেয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া ঘোষিত সুদহার ব্যাংকগুলো মানছে কি-না তা যাচাইয়ে পরিদর্শনে নেমেছেন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক (পরিদর্শন বিভাগ-১) থেকে ১০টি টিম গঠন করে প্রাথমিকভাবে প্রচলিত ধারার বিভিন্ন ব্যাংকে পরিদর্শক দল পাঠানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সুদ হারের বিষয়টি প্রতিনিয়ত তদারক করা হচ্ছে। প্রতিশ্রুতির চেয়ে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে বেশি সুদ নেয়ার তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারকে এক প্রকার ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নিয়েছে ব্যাংক মালিকরা। এখন তারা আর সিঙ্গেল ডিজিটে আনার প্রয়োজন মনে করছেন না। নির্বাচনের বছর হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারবে না সরকার। তাছাড়া বিভিন্ন অজুহাত ও রাজনৈতিক প্রভাব তো রয়েছেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ