ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপির জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই। কিন্তু অনুমতি মিলেছে দুই দিন আগে। এই অল্প সময়েই বিশাল শোডাউনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল বিএনপি। যা হবার তাই হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ শুরুর আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। নয়াপল্টনের সমাবেশস্থলসহ ফকিরাপুল থেকে নাইটেঙ্গেল এবং এর আশেপাশের অলি-গলিতেও লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সেই উপস্থিত আরো বাড়তে থাকে।
গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় বিএনপির এই জনসভা। সভা শুরু হওয়ার আগেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হওয়ায় নেতাকর্মীদের নয়াপল্টনের পূর্বদিক ফকিরাপুর মোড় ছেড়েও অবস্থান নিতে দেখা গেছে। অপরদিকে পশ্চিমপাশের নাইটেঙ্গেল মোড় ছেড়েও নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। শুধু ফকিরাপুল-নাইটেঙ্গেল নয় আশেপাশের অলি-গলিতেও ছিল বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী।
এর আগে সমাবেশে অংশ নিতে বেলা ১১টা থেকেই আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। খ- খ-ভাবে জড়ো হয়ে দলের প্রধান কার্যালয়ের সামনের সড়কে নানা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। ঘণ্টাখানেক পরই দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টন লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
‘আমার নেত্রী আমার মা, বন্দী থাকতে দেবো না’, ‘আমার মা জেলে কেন’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘বন্দী আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাবো না’, ‘হামলা করে আন্দোলন- বন্ধ করা যাবে না’- ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে সমাবেশস্থল মুখরিত করে রাখে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতি হওয়ায় নির্দিষ্ট এলাকায় সমাবেশ সীমাবদ্ধ ছিল না। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সীমানা ছাড়িয়ে সমাবেশ ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের এলাকায়। সেখানে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন উৎসবমুখর পরিবেশে। কেউ কেউ ব্যান্ড বাজিয়েছেন, দলীয় সঙ্গীত গেয়েছেন। আবার কোথাও কোথাও স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে রাজপথ। বেলা আড়াইটার দিকে নয়াপল্টন ও তার আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাকরাইল মোড় থেকে শান্তিনগর এলাকা, পুরানা পল্টন, ফকিরেরপুল মোড় থেকে মতিঝিল এলাকা,  দৈনিক বাংলা মোড়, বিজয়নগর এলাকা, সেগুনবাগিচা এলাকা, রাজারবাগ এলাকাতেও নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
সমাবেশ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতেই এ ধরনের সতর্কতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুপুর ২টা থেকে হঠাৎ করেই রাজধানীর পল্টন এলাকার মোড়ে মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সেইসঙ্গে চোখে পড়েছে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যদেরও। তবে কোথায়ও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জনসভা উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করেছে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি নেতাদের দাবি, গতকালের লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটেছে। এই উপস্থিতি আরও বেশী হতো। যদি অনুমতি আরও আগে পাওয়া যেত। এছাড়া সমাবেশ ঘিরে ছিল নানা উৎকন্ঠাও। বিএনপি জানায়, সমাবেশ স্থলে আসতে নেতাকর্মীরা বড় ধরনের কোনও বাধার মুখে না পড়লেও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশির শিকার হতে হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, জনসভা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে বড় কোনও বাধা আসেনি। ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দিয়েছে। এটি নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম বড় শোডাউন ছিল । লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি ঘটেছে এই জনসভায়।
ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হয়। আমাদের পক্ষ থেকে কোথাও কোনও কমতি ছিল না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা  নেয়া হয়েছে। যেখানে যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার আমরা তা গ্রহণ করেছি। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট ও তল্লাশি প্রসঙ্গে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তার খাতিরে চেকপোস্ট হয়, তল্লাশি হয়, ব্লক রেইড হয়। এগুলো সবই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ