ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে -নুরুল ইসলাম বুলবুল

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা জোনের থানা আমীর ও সেক্রেটারি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল -সংগ্রাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, চলমান দুঃশাসন থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে দরকার একটি জবাদিহীতামূলক, আদর্শ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। মানবতা ও মনুষত্যের বিকাশ, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ব্যক্তি ও বাক-স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে একটি ন্যায় ও ইনসাফপুর্ণ জনকল্যাণমুখী আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের জন্যই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সংরক্ষণ, নাগরিক অধিকার এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার যে কোনো আন্দোলন সংগ্রামে জামায়াতে ইসলামী সবসময় অগ্রণী ভুমিকা পালন করে আসছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হরণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে জাতির কাধে একদলীয় দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। এ থেকে মুক্তির জন্য সর্বাগ্রে দরকার সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। অথচ বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, এই সরকারের অধীনে কোন প্রকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। তাই নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
গতকাল শনিবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের যাত্রাবাড়ী-ডেমরা জোনের থানা আমীর ও সেক্রেটারি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও যাত্রাবাড়ী-ডেমরা জোনের জোনাল ইনচার্জ আবদুস সবুর ফকীরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরোও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য আ জ ম রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মানবতার প্রকৃত শান্তি ও মুক্তির জন্য ইসলাম ব্যতীত বিকল্প কোনো মতাদর্শ নেই। জামায়াতে ইসলামী কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মুহাম্মাদ (সা.) এর অনুসৃত নীতি অনুযায়ী সৎ, যোগ্য, আদর্শ ও চরিত্রবান নেতৃত্ব তৈরী ও ইসলামী আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করছে। “জামায়াত কর্মী মানেই সমাজকর্মী” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে জনহিতকর কর্মসূচী ও কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে জামায়াত সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে। যারা ইসলাম ও ইসলামী আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়, তারা সবসময় জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করার জন্য নানামুখী অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। জামায়াতকে বিতর্কিত করতে মিথ্যা অপবাদ রটনা, অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে, সেইসাথে ইসলামপন্থী সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের ওপর চালানো হচ্ছে জুলুম-নির্যাতন। আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে হত্যা করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলংকিত করা হয়েছে। এরপরেও জামায়াত ধৈর্য্যরে সাথে সকল অপতৎপরতা মোকাবেলা করে জনগণের সমর্থন, সহমর্মিতা এবং ভালোবাসা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জামায়াত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে আরোও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের জেল-জুলুম-নির্যাতনের ভয় করলে চলবে না। জেল, জুলুম, হুলিয়াসহ সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সামনে অগ্রসর হতে হবে এবং প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় জনসাধারণের মাঝে ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌছিয়ে সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতী অর্জন করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীকে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করতে জামায়াত নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ