ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশের সর্বত্র আওয়ামী স্বৈরাচারি সরকারের পতনের সুর বাজতে শুরু করেছে

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল আয়োজিত ‘গণতন্ত্র ন্যায়বিচার : প্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী -সংগ্রাম

* বাঙালিরা কোনো স্বৈরাচারিকে দশ বছরের বেশি সহ্য করে না, এবার চলে যাও ---বি. চৌধুরী
* নির্বাচন নাও হতে পারে- হলে তরুণদের ভোট পাহারার দায়িত্ব নিতে হবে -----ড. কামাল
* আর কারও বাসায় হামলা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ ---আ স ম রব
* ইভিএম লুটের প্রকল্প, টাকা ভোট দুটোই লুট করতে চায় সরকার ----মাহমুদুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার : জেএসডি আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, কোনো স্বৈরাচারি সরকারের শাসন দশ বছরের বেশি টিকেনি। আয়ুব খানের শাসন দশ বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি। স্বৈরাচারি এরশাদও দশ বছরের বেশি টিকতে পারেনি। বাঙালিরা ভুল সংশোধনে দশ বছরের বেশি সময় দেয় না। বর্তমান স্বৈরাচারি সরকারেরও দশ বছর হতে যাচ্ছে এবার বিদায় নেয়ার সময় চলে এসেছে। বাংলাদেশের মানুষ বর্তমান আওয়ামী স্বৈরশাসনে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। জেগে উঠেছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। দেশের মানুষ এ অত্যাচার আর সহ্য করবে না। অত্যচারী ও লুটেরা এ সরকার তা বুঝে ভয় পেয়ে গেছে। এখন ছলেবলে কলেকৌশলে ক্ষমতায় থাকতে চায়। সরকারের প্রতি বিরক্ত ও আস্থাহীন জনগণের অবস্থা বুঝতে পেরে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে ইভিএম যন্ত্রে ভর করেছে। দেশের মানুষ সরকারের সকল অপকৌশল বুঝে গেছে। তাই আর কোনো ষড়যন্ত্র ও ইভিএম কেনার নামে অর্থ লুটপাট হতে দেবে না। দেশের সর্বত্র আওয়ামী স্বৈরচারী সরকারের পতনের সুর বাজতে শুরু করেছে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার : প্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি এবং যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি  ড. কামাল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মানা, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রাব্বি, সাধারণ সম্মাদক আবদুল মালেক রতন প্রমুখ।
ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ভোট চুরি এবং মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে সরকার ষড়যন্ত্র করছে। শেষপর্যায়ে এসে কত লাখ বা কোটি ভুয়া ভোটার তারা তৈরি করেছে তা আমরা জানি না। আমরা ওইদিকে যায়নি। আমরা তো ইভিএম নিয়ে মেতে আছি। ইভিএমে দুই ধরনের ষড়যন্ত্র আছে। একটি হলো- ভোট চুরির ষড়যন্ত্র। অপরটি হলো- মানুষের দৃষ্টি কেড়ে নিয়ে রাত-দিন খালি ইভিএম নিয়ে পড়ে থাকা, আর ভুলে যাও সরকারের অতীতের নির্যাতন, লুটপাট, শিক্ষার্থী ছেলে-মেয়ে ও বাচ্চাদের ওপর যেসব জুলুম হয়েছে।
তিনি বলেন, এক স্বেচ্ছাচারীর পরিবর্তে অন্য এক স্বেচ্ছাচারীকে আমরা আনতে দেব না। যারাই গণতন্ত্রের পক্ষে, আমরা তাদের সঙ্গে থাকব। আমরা চাই এই সরকার নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা করবে। আমরা নির্বাচন বর্জনের কথা বলি না, সরকারকে বাধ্য করবো নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা করতে। রাজনৈতিক কারণে যারা জেলে রয়েছে তাদেরকে মুক্তি দিতে হবে। আমরা অবিলম্বে শহিদুল আলমের মুক্তি চাই।
সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, কত বড় স্বৈরাচার ছিল পাকিস্তান আমলে আয়ুব খান, ১০ বছরের বেশি টেকেনি। দ্বিতীয় স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কত বছর টিকেছে? আশ্চর্যজনক, ১০ বছর টিকেছে। বর্তমানে যে স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচারী সরকার আছে, তাদের মেয়াদও ১০ বছর। অনেক সহ্য করেছি, ১০ বছর হয়ে গেছে, এবার চলে যাও। দেশের সর্বত্র আওয়ামী স্বৈরচারী সরকারের পতনের সুর বাজতে শুরু করেছে।
তরুণ ভোটাররা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে- এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে জনসংখ্যা রয়েছে পাঁচ কোটি ১৬ লাখ। ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে যে জনসংখ্যা তারা ভোটবঞ্চিত ছিল। এবার তারা প্রথম ভোট দেবে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যারা আন্দোলন করলো, তাদের রামদা, হাতুড়ি, লাঠি দিয়ে পেটানো হলো। তাদেরকেই গ্রেফতার করা হলো। যারা রামদা, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে তাদের তো গ্রেফতার করা হয়নি। এসব ছাত্রদের মা-বাবা আছে, ভোটার আছে। তারা কি এ স্বৈরাচার সরকারকে ভোট দেবে?
সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ ভেঙে না দিলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। তাই নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। সেই সঙ্গে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে হবে। সামরিক বাহিনীকে নির্বাচনের এক মাস আগেই  মোতায়েন করে নির্বাচনের পরেও দশদিন রাখতে হবে। একইসাথে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে।
ড. কামাল হোসেন বলেন, স্বৈরাচার সরকারের পরিণতি আমরা দেখেছি। যারা দুই নম্বরি, তিন নম্বরি করেছে; ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে তাদের অবস্থান হয়েছে। ইতিহাস প্রমাণ করে, বাংলাদেশের জনগণ কখনও পরাজিত হয়নি। বড় বড় স্বৈরাচার আমরা দেখেছি, কেউ তাদের চিরস্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, দেশে নির্বাচন নাও হতে পারে। হলে তরুণদের ভোট পাহারার দায়িত্ব নিতে হবে। মানুষ যদি সঠিকভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ পায়, যদি তারা নিজেদের ভোট নিজেরা দিতে পারে; তাহলে আমি মনে করি বাংলার মানুষ ভুল করবে না। তরুণ সমাজকে ভোট পাহারা দেয়ার জন্য বোঝাতে হবে, যাতে জাল ভোট কেউ দিতে না পারে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। আর নির্বাচন হলে যেন ভোট চুরি না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। যারা নির্বাচনকে অন্যদিকে প্রভাবিত করে সুশাসনের পরিবর্তে কুশাসন সৃষ্টি করতে চায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে কামাল হোসেন বলেন, তোমরা একবার সংবিধান দেখো। এই দেশের মালিক জনগণ। উত্তরসুরি হিসেবে কেউ না। বাঙালী যখন ন্যায্য দাবি নিয়ে লড়াই করে তখন তারা জয়ী হয়েছে, অপশক্তিরা পরাজিত হয়েছে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইভিএম মেশিন, যন্ত্রপাতির জন্য আগেই এলসি খুলে বসে আছেন। একনেকের অনুমোদন নাই, কোনো মন্ত্রিসভার বৈঠক নাই; কী করে এলসি খুললেন? কীভাবে অনুমোদন দিলেন? এটা ফোরটুয়েন্টির ব্যাপার। এরা সব লুটেরা, লাখ-লাখ, কোটি- কোটি টাকা লুট করেছে। এটা একটা লুটের প্রকল্প। একই সঙ্গে টাকাও লুট করবে, ভোটও লুট করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বর্তমান আওয়ামী স্বৈরশাসনে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। জেগে উঠেছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। দেশের মানুষ এ অত্যাচার আর সহ্য করবে না। অত্যচারী ও লুটেরা এ সরকার তা বুঝে ভয় পেয়ে গেছে। এখন ছলে বলে কলে কৌশলে ক্ষমতায় থাকতে চায়। সরকারের প্রতি বিরক্ত ও আস্থাহীন জনগণের অবস্থা বুঝতে পেরে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে ইভিএম যন্ত্রে ভর করেছে। দেশের মানুষ সরকারের সকল অপকৌশল বুঝে গেছে। তাই আর কোনো ষড়যন্ত্র ও ইভিএম কেনার নামে অর্থ লুটপাট হতে দেবে না।
সভাপতির বক্তব্যে আ স ম আবদুর রব বলেন, সরকারবিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যারা আছেন, আগামীতে যদি তাদের কারও বাসায় হামলা করা হয় তাহলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। আমরা জবাব দেব। আমরা অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ব্যবহার করা লোক। আমরা মাঠে নামবো, ঘরে বসে থাকব না। মিছিল হবে, মিটিং হবে, অনুমোদন না দিলে বসে পড়বো। কোনো অনুমোদন নেব না। সংবিধানের কোথাও লেখা নাই মিছিল-মিটিংয়ের জন্য অনুমোদন নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ