ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অফিস টাইম পরিবর্তন করে সূর্যের আলোর ব্যবহার বাড়াতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে অন্যতম প্রতিবন্ধক। ডিটেইল এরিয়া প্লান (ড্যাপ) সারাদেশের জন্যই করে নগরায়ণ ও শিল্পায়ন করা প্রয়োজন। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজতর হবে। অফিস টাইম পরিবর্তন করে সূর্যের আলো আরও ব্যবহার করার মত দেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল শনিবার ডেইলি সান পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাওয়ার রোডম্যাপ টার্গেট ২০২১’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে পত্রিকার সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব.) মঈনউদ্দিন, সামিট পাওয়ার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. জে. আব্দুল ওয়াদুদ (অব.), বুয়েটের অধ্যাপক ম তামিম, অধ্যাপক ইজাজ হোসেনসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন।
নসরুল হামিদ বলেন, ৯২ ভাগ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। বর্তমানে বার্ষিক ৪৬৪ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ জনপ্রতি ব্যবহার করলেও মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে একহাজার ২০০ থেকে একহাজার ৫০০ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ জনপ্রতি ব্যবহার করতে হবে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিক বা অফপিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদার গ্যাপ কমাতে বিশেষজ্ঞদের সুচিন্তিত মতামত প্রয়োজন। দিনের আলো বা সূর্যের আলো কীভাবে আরও ব্যবহার করা যায় তার সমন্বিত পরিকল্পনা করতেও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে অচিরেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে জোন বা নির্ধারিত স্থান ছাড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার জন্য বিতরণ সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 অধ্যাপক ম তামিম বলেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানো গেলে উৎপাদন খরচ কমবে। এলএনজি ব্যবহারের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রকল্প ব্যবস্থাপকদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল দ্রত করতে হবে। অফিস টাইম পরিবর্তন করে সূর্যের আলো আরও ব্যবহার করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।
ম. তামিম বলেন, একসময় ৮৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো গ্যাসে। এখন মাত্র ৪৯ শতাংশ গ্যাসে উৎপাদন হচ্ছে। এখন এলএনজি আনা হচ্ছে। এতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাবে। এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছয় টাকার মতো, তবে তিন-চার বছরের মধ্যে এটা আট টাকায় চলে যাবে। এটা কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে এখনই তা ভাবা দরকার।
বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জনে আমরা অনেক এগিয়ে আছি এ কথা বলতে পারি। এক সময় বলা হতো কুইক রেন্টাল দেশকে দেউলিয়া করবে। কিন্তু না, তেমন কিছুই হয়নি। দেশ বরং এগিয়ে গেছে। রংপুর-রাজশাহী অঞ্চলে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। দেশের অন্য কোথাও লোডশেডিং নেই বলে তিনি দাবি করেন।
 মোহাম্মদ হোসাইন মূল প্রবন্ধে বলেন, ২০২১ সালের জন্য যে লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে তার অনেক কাছে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। এখন ২০৪১ সালের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। ২০৪১ সালে ৪৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও ৬০ হাজারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি জানান, এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এখন চ্যালেঞ্জ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ