ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটানের মধ্যে যান চলাচল সংক্রান্ত সভায় নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটানের মধ্যে যান চলাচল সংক্রান্ত এক বৈঠকে নানা সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবার বেনাপোলে আয়োজিত সভায় এই সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন অগ্রগতি, বেনাপোলে যান ও পণ্যজটসহ যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক দ্রুত নির্মাণ ও চার দেশীয় সড়ক উন্নতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বলা হয়, বিবিআইএনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য প্রক্রিয়াগত ডকুমেন্টগুলো একই রকম না হওয়া ও অপারেটিং সফটওয়্যার আলাদা হওয়ায় বাণিজ্য কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্টেক হোল্ডারদের মধ্যে অনেকের (বিশেষত ট্রাক ড্রাইভার, আমদানি-রফতানিকারকরা) অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষকে পণ্য পরিবহনের বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত অর্থ (স্পিড মানি) দিতে হয়। যার কারণে ওইসব পণ্য আমদানি-রফতানিতে খরচ বেড়ে যায়। আর তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।বলা হয়, সীমান্তবর্তী এই রুটগুলো দিয়ে দুই দেশের মানুষ ও মালামাল আসা-যাওয়া হয়। তাই এসব স্থানে দুই দেশের সংস্কৃতির সংযোগ ঘটে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংস্কৃতির সংঘর্ষও হয়। তাই ভ্রমণকারী মানুষের উচিত অন্যদেশের সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করা। এসব সমস্যা নিরসন হলে চার দেশের মধ্যে বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটান (বিবিআইএন) চার দেশের মধ্যে মোটরযান চলাচল সহজীকরণে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক এই সভা শুক্রবার দুপুরে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট প্যাসেনজার টারমিনাল কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম, কাটস ইন্টারন্যাশনালের ভারতীয় সমন্বয়ক সামন্ত চট্টোপাধ্যায়, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের খ-কালীন সদস্য সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম, বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রেজাউল করিম, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, কাটস ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ সমন্বয়ক শাহিনুর আলম, আমদানি-রফতানি সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিলন। এ সময় প্রশাসনসহ বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কাটস ইন্টারন্যাশনালের ভারতীয় সমন্বয়ক সামন্ত চট্রোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) চার দেশের মধ্যে মোটরযান চলাচলে প্রধান প্রতিবন্ধকতা অনুন্নত রাস্তাঘাট ও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। যা বৈদেশিক বাণিজ্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণে এসব সমস্যা দূর করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে এ রুটের বেশি ভাগ রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে। যেহেতু এ রুটগুলো একাধিক দেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করবে সেহেতু এই রাস্তাগুলো বড় ও মজবুত হওয়া দরকার। এছাড়া রাস্তাগুলো সংকীর্ণ ও অনুন্নত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে। প্রতিবেশী চার দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণে ২০১৫ সালের ১৫ জুন বিবিআইএন মোটর ভেহিকেল ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর ও খসড়া প্রটোকল চূড়ান্ত করা হয়। এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি বাণিজ্য প্রক্রিয়া উন্নত হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ