ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন বানচাল করে অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র চলছে -১৪ দল

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন বানচাল করে অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।
গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নতুন ভবনে জোটের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব  বড়ুয়া, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খানসহ আরও অনেকে।
নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা কারও নেই বলে উল্লেখ করে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘‘যখনেই নির্বাচন আসে, ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নেয়ার সময় আসে, তখনই একটি অশুভ মুখচেনা-মহল তৎপরতা শুরু করে দেয়। এরা চক্রান্ত  শুরু করেছে। তিনি বলেন,  নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর আমরা যার যার মতো নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বো। আমাদের সামনে একটাই কাজ-’৭১ এর ঘাতক ও ’৭৫ এর খুনিদের পরাজিত করা, মাঠে-ময়দানে এবং নির্বাচনের মাঠে তাদের পরাজিত করা। নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা কারও নেই।’
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনি কর্মকা- দেশব্যাপী শুরু হয়ে গেছে। যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে, সেই কারণেই নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে, দলের প্রস্তুতিও আছে।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘আজকে যখন নির্বাচন প্রায় ঘরের দুয়ারে কড়া নাড়ছে, একটি নির্বাচিত সরকারের পক্ষে রায় দিতে জনগণ যখন উন্মুখ হয়ে আছে, তখন আবার সেই মুখচেনা মহলটি মাঠে নেমে গেছে। নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করলে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাবো। কিন্তু নির্বাচনের সময় আসলেই যেন কিছু অবান্তর, অসাংবিধানিক প্রশ্ন তারা সামনে তুলে আনেন। সারা দুনিয়ায় এখন নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা মনে করি, জনগণের রায় দেওয়ার যেমন অধিকার আছে, তথ্য প্রযুক্তির যুগে নির্বাচনকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করার সুযোগ নেই; সেই ব্যাপারে দেশবাসী যেমন সজাগ, তেমনি আমাদের সংবাদ মাধ্যমও সজাগ।
ওয়ান ইলেভেন সম্পর্কে জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের আগে কিছু লোক নেমেছিল। তাদের মুখে অনেক কথা আমরা শুনেছি, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কথা আমরা শুনেছি। তাদের সেই অভিলাস চরিতার্থ করার জন্যে তারা ওয়ান-ইলেভেন ঘটিয়েছিল। কীভাবে সেখানে একটি অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন কাজ করেছিল সেটা আপনারা সবাই জানেন। সেই কারণেই আমরা বলতে চাই, সংবিধান বিরোধী কোনও কাজ বাংলাদেশে হবে না
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আজকে ফ্রণ্ট হচ্ছে, কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু আমরা তো অনেককে চিনি। অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে বলতে হয়, অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে বলতে হয়, কিছুদিন আগেও এখানে জুডিশিয়াল ক্যু করার চেষ্টা হয়েছিল। এটা আজকে প্রকাশিত হয়ে গেছে। একজন বিশিষ্ট আইনজীবী, আইনজ্ঞ কীভাবে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে ব্যবহার করে জুডিশিয়াল ক্যু করে পাকিস্তানের মতো অবস্থা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে, ১৪ দলের নেতাদের দৃঢ়তার কারণে ওই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন চক্রান্ত শুরু হয়েছে- কীভাবে এই নির্বাচনকে প্রতিহত করা যায়।’
সংলাপের দাবির মাধ্যমে নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে দাবি করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘নির্বাচনকে ঠেকানোর জন্য বলা হচ্ছে- আমাদের এই দাবি মানতে হবে। এই ধরনের অযৌক্তিক দাবি কেউ মানবে না। কোনও অর্থহীন সংলাপের পক্ষে ১৪ দল নয়। সংলাপের মানে হচ্ছে এই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেয়া, দীর্ঘায়িত করার একটা চক্রান্ত। এই সংলাপের অর্থই হলো দেশে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যে পরিস্থিতির মাধ্যমে দেশে একটা অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়। এই জন্যই সংলাপের কথা বলা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ