ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সড়কে আরো ১১ প্রাণ ঝরে গেল ॥ আহত ৩০

সংগ্রাম ডেস্ক : পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ২০ জন আহত হন। শুক্রবার রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে যাত্রীবাহী বাস-ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত এবং রাজশাহীতে দু’জন নিহত হন বলে আমাদের রাজশাহী অফিস ও সংবাদদাতা জানান।
নেত্রকোনা সংবাদদাতা : নেত্রকোনার কেন্দুয়া- আঠারবাড়ী সড়কে কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের কাঠালতলা নামক স্থানে সিএনজি ও বাসের মুখোমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত ও আহত হয়েছে ২০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে র্ভতি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন সিএনজি চালক বলাইশিমুল গ্রামের আব্দুর রহমানের পুত্র জামাল (৩০)। কাউরাট গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র ও কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্র শরিফ (২০), কুতুবপুর গ্রামের হাদিস মিয়ার পুত্র নাজির উদ্দিন (২৭) ও মোহনগঞ্জ উপজেলার চেচরাখালী গ্রামের আব্দুল হান্নান মাস্টার এর ছেলে মোরাদ (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় শনিবার বেলা প্রায় ৩ টার দিকে কেন্দুয়া থেকে ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে একটি সিএনজিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মায়ের দোয়া নামক যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৬৪২৭) উপরোল্লেখিত স্থানে সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে সিএনজি চালক ও যাত্রীসহ সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙ্গে যায়। খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা এসে সিএনজি থেকে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে আহতদেরকে উপজেলা হাসপাতালে ও নিহতদের লাশ থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ শাহজাহান জানান যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সি এন জি চালিত অটোরিকশা সংঘষের ঘঠনায় ৪ জন নিহত হয়েছে আহত হয়েছে ২০ জন এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থনায় মামলা হয়েছে আহতদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে র্ভতি করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস সাউদিয়া পরিবহন (দরবার) এর সাথে ট্রাক্টর (সোনালিকা) মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারে তিনজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ১০ জন। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের রাইস মিল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, (সাউদিয়া পরিবহন) দরবার পরিবহন ঢাকা মেট্রো ব ১১-৪২৪৯নং যাত্রীবাহী বাসটি গাইবান্ধা থেকে ঢাকা যাচ্ছিলো। বাসটি পলাশবাড়ীর রাইস মিল এলাকায় পৌঁছিলে বিপরিত দিক থেকে আসা হাবিবা হাকিম ফুড নামের একটি ট্রাক্টরের (সোনালিকা) সংঘর্ষ হয়। এসময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন ও হাসপাতালে নেয়ার পথে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া এ ঘটনায় আরো ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে। নিহতরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চাচিয়া গ্রামের আলীমুদ্দিুনের ছেলে এমদাদুল হক (২৫), তার স্ত্রী কাকুলী খাতুন (২০) ও শিশু সন্তান হেনা খাতুন (৫) একই এলাকার শাহিন মিয়ার স্ত্রী আফরুজা বেগম (৩০)। নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে। খাদে পড়া বাসটি উদ্ধার করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। খরব পেয়ে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাউল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারের মাঝে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
রাজশাহী অফিস : রাজশাহীতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে হেলপার নিহত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরীর রায়পাড়া জোড়াবটতলা বালুঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হেলপার সুমন আলী (২৮) জেলার চারঘাট উপজেলার পশ্চিম ভাটপাড়া গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার পুলিশ জানায়, ঘাটে ট্রাক পার্কিংয়ের জন্য হেলপার ট্রাকের পেছনে দাঁড়িয়ে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তখন বালুতে পা পিছলে পড়ে গেলে ওই ট্রাক তাকে চাপা দেয়। তখন ঘাটের শ্রমিকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মোটরসাইকেল চালক নিহত : রাজশাহীর বাঘায় মোটর সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে করিম মন্ডল (৫৫) নামের এক চালক নিহত হন। শুক্রবার বিকেলে আলাইপুর এলাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে উপজেলার পানিকুমড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত করিম পাকুড়িয়া গ্রামের সায়েম উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, করিম নিজেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল না। বাজার এলাকায় পাঁকা রাস্তার মোড় ঘুরতে গিয়ে নিজেই মোটরসাইকেল থেকে মাথা মুচড়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এরপর স্থানীয় লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ