ঢাকা, রোববার 2 September 2018, ১৮ ভাদ্র ১৪২৫, ২১ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আ’লীগের ষড়যন্ত্র ফোবিয়া : যুক্তফ্রন্ট ও কামাল হোসেনের ঐক্যের মধ্যেও ষড়যন্ত্র আবিষ্কার

যুক্তফ্রন্টের তরফ থেকে ড. বি চৌধুরী এবং গণফোরামের তরফ থেকে ড. কামাল হোসেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে রাজি হয়েছেন। এ ব্যাপারে তারা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি ঘোষণাও দিয়েছেন। এতটুকুতেই মাথা খারাপ হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের। তাদের এই ঐক্য প্রক্রিয়ার পেছনেও আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের গন্ধ দেখতে পেয়েছে। গত ২৯ অগাস্ট বুধবার একটি অন লাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এই তৎপরতা সফল হবে না বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তাদের মতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া কিছু মানুষ দেশকে ‘বিরাজনীতিকরণের মিশন’ নিয়ে এগুচ্ছে। তাদের এ মিশনে জনগণ সাড়া দেবে না। জোট গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নেতাদের প্রস্তাবনার মধ্যেই ‘অসাংবিধানিক অভিপ্রায়’ রয়েছে, যা জাতির সামনে প্রকাশিত হয়ে গেছে। বি. চৌধুরী-ড. কামাল-মান্নার জোটগঠন-প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের প্রাথমিক বক্তব্য-বিবৃতিতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ রয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলছেন, সরকার বিরোধী এই নেতারা সংসদ মানেন না, নির্বাচন কমিশন মানেন না, সরকার মানেন না। এতেই প্রমাণিত হয়, তারা ‘ষড়যন্ত্র’ বাস্তবায়নের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। জনগণ এই জোটগঠন-প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে না।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোটগঠন নিয়ে ব্যস্ত নেতারা রাজনীতি ও জনগণ থেকে ছিটকে পড়া। তাদের তৎপরতা ষড়যন্ত্রের। ফলে তারা সফল হবেন না।’ তিনি বলেন, ‘জোটগঠন প্রক্রিয়া আসলে সরকারের বিরুদ্ধে, সংসদের বিরুদ্ধে ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। তাদের অভিপ্রায় বিচার করলে দেখা যায়, তারা অসাংবিধানিক তৎপরতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।’
চারটি ছোট ছোট দল ড. কামালের বাস ভবনে বসে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এক সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এর মধ্যে ষড়যন্ত্রের প্রশ্ন আসে কোত্থেকে? প্রিয় পাঠক, আমি স্পষ্ট বলতে চাই যে, আমরা এখানে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের কোনো ব্রিফ ক্যারি করছি না। কিন্তু এ কেমন কথা যে দু’চারটি দল এক সাথে একটি বাসায় বসলেই সেখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজতে হবে? আমরা এখানে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে বলছি। তাদের মধ্যে বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী বলেছেন যে জামায়াত থাকলে তারা কোনো ঐক্য করবেন না। এই স্পষ্ট কথা শোনার পরেও আমরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার পক্ষে কথা বলছি এবং বলতেই থাকবো। কামাল হোসেনের বাসায় যে সভাটি হলো সেটি তো কোনো গোপন সভা ছিল না। ঐ সভা হওয়ার অন্তত সাত দিন আগে থেকেই সব কাগজে সভার খবরটি প্রকাশিত হয়। সভা শুরুর আগে চার দলের নেতাদের গাড়িগুলো একের পর এক ঐ বাসায় প্রবেশ করে। নেতারা হলেন ড. বি চৌধুরী, আসম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের এ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণফোরামের নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিকল্প ধারার নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান এবং মাহি বি চৌধুরী। প্রত্যেকের গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করার ছবি টেলিভিশনে দেখানো হয়। যে কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয় সেই কক্ষে সভা অনুষ্ঠানের দৃশ্যও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয়। সভা শেষে বেরিয়ে এসে এই চার দলের তরফ থেকে ড. বি চৌধুরী সাংবাদিকদের সামনে যে কথা বলেন সেটিও টেলিভিশনে দেখানো হয়। যে সাত দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট এবং গণফোরাম কাজ করতে সম্মত হয়েছে সেই সাত দফা পরদিন এক শ্রেণীর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তারপরেও সেটি আওয়ামী লীগের ভাষায় ষড়যন্ত্র হয় কিভাবে?
যে ৭টি প্রস্তাবের ওপর গণফোরাম ও বিকল্প ধারার মধ্যে ঐক্য হলো সেই ৭টি দফা হলোঃ
১।     নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেংগে দেয়া, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা বাতিল ঘোষণা।
২।     জাতীয় স্বার্থে স্বাধীনতা বিরোধী দল ব্যতিরেকে সব সমমনা গণতান্ত্রিক দলসমূহের ঐক্য।
৩।     বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সভা সমিতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
৪।     আইনের শ্বাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
৫।     নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন।
৬।     সংসদ ও সরকারের ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
৭।     এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো দলের কর্মীদের গ্রেফতার না করা এবং তফসিল ঘোষণার আগেই সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দেয়া।
দফাগুলো অত্যন্ত পরিষ্কার। সেগুলো গণতন্ত্র এবং সংবিধানের সাথে শতকরা এক শত ভাগ সঙ্গতিপূর্ণ। এখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ ঢুকলো কোন ছিদ্র দিয়ে? এখানে বরং সরকারই গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। গত শনিবার নয়া পল্টনে বিএনপির বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ঐ জনসভার দুই দিন আগে থেকেই দেশে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। শুক্রবার রাতে বিএনপির দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা হাবিবুন্নবী সোহেল এবং ফজলুল হক মিলনের বাসায় পুলিশ তল্লাশি করে। কিন্তু তারা বাসায় ছিলেন না বলে গ্রেফতার হননি। তাহলে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে কারা?
॥দুই॥
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যে ভোটার বিহীন অবৈধ নির্বাচন হয়ে গেল তার চেয়ে বর্তমান অবস্থা অর্থাৎ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের চার মাস আগের অবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা। দেখা যাচ্ছে যে এবার সেক্যুলার এবং বাম দলগুলো নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি করছে। ওপরে যে সাত দফা দাবি দেয়া হলো এদের মধ্যে কামাল হোসেনের গণফোরাম, রবের জাসদ, মান্নার নাগরিক ঐক্য- এরা কেউই ইসলাম বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রভৃতি কথা বলে না। বিকল্প ধারার কথা জানি না। কিন্তু বাকি তিনটি দল সেক্যুলার ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী। তারা এখন ঐসব দাবি উত্থাপন করেছে। আমরা তাদের আদর্শের সাথে একমত নই। তদ্বসত্ত্বেও তাদের দাবি দাওয়া পেশের অধিকার, সভা-সমাবেশের অধিকার প্রভৃতিকে আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন করি।
এর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিবিও আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের পূর্ব শর্তসমূহ বা দাবিদাওয়া পেশ করেছে। সেগুলো হলো, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবি, এ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচনও সম্ভব নয় বলেও মনে করেন এ জোটের নেতারা।
গত বুধবার সকালে রাজধানীর পল্টনের মুক্তিভবনে জোটের কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়।
তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে
(১)    তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগ করে সব দল ও মতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন।
(২) তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া।
(৩) নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থাসহ টাকা ও পেশি শক্তি নির্ভর নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার।
 (৪) বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা দেখায়নি। এই কমিশনের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনও সম্ভব নয়।
জোটের প্রধান নেতা সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, এটা জনগণ বিশ্বাস করে না। বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য দলীয় সরকার নয়, একটি নিরপেক্ষ কর্তৃত্বের অধীনে যেন নির্বাচন হয়।
জাতীয় নির্বাচনে ইসির ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহারের তোড়জোড় নিয়ে জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, যেখানে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএমের বিপক্ষে, সেখানে ইসির এ ধরনের পদক্ষেপ সন্দেহজনক। তিনি বলেন, মানুষের মনে এখন সন্দেহ জাগছে, সরকারি দলকে বাড়তি কোনো সুবিধা দিতে ডিজিটাল কারচুপির জন্য এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে কি না। জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হলো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।
॥তিন॥
এর আগে বিএনপি বৃহত্তর ঐক্যের ভিত্তি হিসাবে ১০ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে। এই ১০ দফা হলো
১. বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা।
২. একটি গ্রহণযোগ্য, অংশ গ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
৩. সব রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান।
৪. রাষ্ট্রকে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা।
৫. রাষ্ট্র ক্ষমতার গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য।
৬. স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা।
৭. দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে কার্যকর করা।
৮. সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা।
৯. সর্বনিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত করে আয়ের বৈষম্যের অবসান।
১০. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসনের প্রতিষ্ঠা।
॥চার॥
এতক্ষণ ধরে আমরা যুক্তফ্রন্ট, গণফোরাম এবং যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের ঐক্য সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এদের সাথে বিএনপির ঐক্য নিয়েও আলোচনা চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই আলোচনার কোনো কংক্রিট শেপ পাওয়া যায়নি বলে আমরা আর এব্যাপারে আজ কথা বলছি না। তবে এর মধ্যে আগামী নির্বাচনে যাওয়া সম্পর্কে বিএনপি ২০ দলের সাথে মিলে ১০টি দফাকে নির্বাচনী পূর্ব শর্ত হিসাবে চূড়ান্ত করেছে। এই ১০ দফা হলোঃ
১. দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা।
২.     নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশ গ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান।
৩. তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান দশম সংসদ ভেঙে দেয়া।
৪.     বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন।
৫. নির্বাচনের অন্তত এক সপ্তাহ আগে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে ভোটের মাঠে সেনা মোতায়েন।
৬.     ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতি বাতিল।
৭.     লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সকল দলকে সমান সুযোগ প্রদান এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।
৮.    নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া।
৯.     ভোট কেন্দ্রে সব ভোটারকে আসার সুযোগ করে দিতে হবে এবং
১০. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার-হয়রানি করা যাবে না।
ঈদের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করে এ নিয়ে নির্দেশনা গ্রহণ করেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও কথা বলেছেন স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেন, আমাদের শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো নির্বাচন হবে না। সরকার যদি সংলাপে না বসে, দাবি না মানে তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে। আমরা প্রথমে চাইব সমঝোতা। তাতে সরকার রাজি না হলে কঠোর অবস্থানে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ থাকবে না আমাদের। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে বিএনপি দুইটি প্রস্তাবনা আলাদা আলাদাভাবে প্রণয়ন করেছে। প্রথম যে ১০ দফার কথা বলা হলো সেগুলো হলো যুক্তফ্রন্ট, গণফোরামের সাথে ঐক্য করার জন্য আলোচনার ভিত্তি। আর পরে যে সব দাবি দাওয়ার কথা বলা হলো সেগুলো হলো নির্বাচনে যাওয়ার পূর্ব শর্ত। এগুলো বিএনপি এবং ২০ দলের দাবি।
এর মধ্যে এসে পড়েছে ইভিএম বিতর্ক। সে সম্পর্কে পরবর্তীতে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করা হবে। সামনের তিন মাসে এসব নিয়ে আরো অনেকগুলো কলাম লিখতে হবে।
Email: asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ